বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

শুরুতেই আসি টিকিট কেনা প্রসঙ্গে। দেশ ডিজিটাল হচ্ছে, ডিজিটাল বাংলাদেশ নিয়ে গোটা জাতির কত গর্ব, অথচ টিকিট বিক্রি করতে গিয়ে বিসিবির ভরসা এখনো সেই বাঁশ! বাঁশের খাঁচা তৈরি করেই চলছে সনাতন পদ্ধতিতে টিকিট বিক্রি। করোনার আতঙ্ক ভুলে টিকিটের জন্য সারিতে দাঁড়ালাম। তবে সেখানে আসলে খেলা দেখার উদ্দেশ্য নিয়ে তেমন কেউ দাঁড়াননি, বরং বেশির ভাগ মানুষই এসেছেন দুই পয়সা লাভের আশায় কালোবাজারি করতে। খেলা শুরুর আগে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের সামনে গেলে যে কেউ বিষয়টি অনুধাবন করতে পারবেন।

আমার টিকিট ১ নম্বর গেটের, কিন্তু দর্শকের সারি এত দীর্ঘ ছিল যে ৪ নম্বর গেটের কাছে সারিতে দাঁড়াতে হলো। এত দীর্ঘ সারি পার হতে হতে ভাবছিলাম, হয়তো টিকিট স্ক্যান বা কোভিডের টিকা কার্ড দেখা হচ্ছে বলেই এমন চাপ তৈরি হয়েছে। কিন্তু কাছে গিয়ে অবাক হলাম। এসবের কোনো বালাই-ই নেই! অর্ধেক গেট বন্ধ রেখে দর্শক মাঠে ঢোকার ব্যবস্থা করাতেই আমাদের চাপ আর ভোগান্তি দ্বিগুণ হয়েছে।

default-image

মাঠে ঢোকার সময় যাঁরা দর্শকের টিকিট চেক করবেন, তল্লাশি করবেন, সেই নিরাপত্তাকর্মীদের আচরণে মনে হলো, তাঁরা যেন দয়া করেই আমাদের মাঠে ঢুকতে দিচ্ছেন! যাহোক, এত প্রতিকূলতা পেরিয়ে গ্যালারিতে ঢোকার পর বিপত্তি আরও বেড়ে গেল।

কোভিডের জন্য গ্যালারিতে ধারণক্ষমতার অর্ধেক টিকিট বিক্রি করা হলেও নিচের গ্যালারি ফাঁকা রাখায় দর্শকের চাপ বেড়ে যায় ওপরের দিকে। কোথাও গিয়ে বসবেন, সে উপায় নেই। দুই বছর কেউ মাঠে না যাওয়ায় বিসিবি সম্ভবত এদিকটাতে নজর দিতেই ভুলে গেছে। ধুলোর আস্তর জমেছে আসনগুলোতে। গ্যালারিতে দর্শক ঢোকানো হয়েছে সেগুলো পরিষ্কার–পরিচ্ছন্ন না করেই। বিসিবি হয়তো ভেবেছে, এত দিন পর মাঠে এসে খেলা দেখার সুযোগ পাচ্ছে। গ্যালারি পরিষ্কার করার কাজটাও দর্শকেরাই করে নেবেন।

default-image

গ্যালারির আসনগুলোও বেহাল। ৩০০ টাকায় টিকিট কেটে যাঁরা খেলা দেখতে ঢুকেছেন, তাঁদের কপালে এবার জুটেছে ভাঙা আসন। অনেক আসনই বসার অনুপযোগী হওয়ায় দর্শকদের বড় একটা অংশ খেলা দেখেছে দাঁড়িয়ে বা গ্যালারির সিঁড়িতে বসে। এর মধ্যে যদি কারও প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেওয়ার প্রয়োজন হয়, তাহলে তো অবস্থা আরও ভয়াবহ। আর গ্যালারিতে নিম্নমানের খাবারও যে উচ্চ মূল্যে বিক্রি হয়, তাতে মনে হয় দর্শকেরা যেন মানুষই নন! এক বোতল পানি বিক্রি হচ্ছিল নির্ধারিত মূল্যের প্রায় তিন গুণ দামে।

এত কষ্ট আর মানসিক নির্যাতন সহ্য করে বাংলাদেশের হারই দেখতে হয়েছে শেষ পর্যন্ত। মাঠ থেকে বের হওয়ার সময় মনে হচ্ছিল, বিসিবির ৯০০ কোটি টাকা সঞ্চয়ে দর্শকদেরও তো বড় অবদান আছে। আর মাঠে কিনা সেই দর্শকের অধিকারই সবচেয়ে অবহেলিত! হতে পারে, মিরপুরে খেলা দেখতে যাওয়াটাই একটা অপরাধ। তারপরও হয়তো ক্রিকেটের প্রতি ভালোবাসা থেকে বাংলাদেশ দলকে সমর্থন জানাতে সেই ধুলোমাখা গ্যালারিতেই যাব। আমরা, মানে দর্শকেরাই যে ক্রিকেটের প্রাণ!

লেখক: মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ–পাকিস্তান প্রথম টি–টোয়েন্টি দেখতে যাওয়া একজন দর্শক।

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন