default-image

ব্যাটিংয়েও তাঁর কার্যকর ভূমিকা সবসময় চোখে পড়ার মতো। ইনিংসের যেখানেই নামেন, চেষ্টা করেন পরিস্থিতি অনুযায়ী নিজের কাজটা করে দিয়ে আসতে। প্রয়োজনের সময় দ্রুত ৩০–৩৫ রান তুলে ফেলে কিংবা উইকেটে থিতু ব্যাটসম্যানকে সময়োপযোগী সঙ্গ দিয়ে পার্শ্বনায়কের ভূমিকায় নিজেকে আলো করে রাখেন মিরাজ।

২০১৮ সালে দুবাই এশিয়া কাপে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটার কথা মনে আছে হয়তোবা। এর আগে খেলা ১৬টি ওয়াডেতে মিরাজ কখনো ৬ নম্বরের ওপরে ব্যাট করেননি। অনেক ম্যাচে তো ব্যাটিংই পাননি। কিন্তু সেদিন লিটন দাসের সঙ্গে ইনিংস শুরু করতে নামিয়ে দেওয়া হলো তাঁকেই। ফলাফল ১২০ রানের জুটি, ভারতের বিপক্ষে এখন পর্যন্ত ওয়ানডেতে ওটাই ওপেনিংয়ে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ জুটি। লিটনের শতক হাঁকানো ম্যাচে মিরাজের ব্যাট থেকে এসেছিল ৫৯ বলে ৩২ রানের ইনিংস।

আবার কখনো হয়তো ব্যাট, বল কোনোটা হাতেই বলার মতো কিছু করতে পারেননি। সেদিন দেখবেন মিরাজ ঠিকই এক–দুইটা দারুন ক্যাচ নিয়ে নিয়েছেন। দুর্দান্ত কোনো রানআউটে মিশে থাকে তাঁর ক্ষিপ্রগতি। আর বাংলাদেশের বোলিংয়ের সময় তো সারাক্ষণই মাঠের বাইরে থেকে শোনা যায় তাঁর চিৎকার। ‘শাবাশ, শাবাশ’, ‘এই বলটাই করো...’—বোলারদের উৎসাহটা এমনভাবে দেন, পারলে যেন নিজেই বোলিং করে দিয়ে আসেন।

কাল প্রভিডেন্স স্টেডিয়ামে সংবাদসম্মেলনের পর মিরাজের কাছে জানতে চাইলাম, মাঠে সারাক্ষণই কীভাবে নিজেকে এত সক্রিয় রাখেন? কখনোই ক্লান্তি নেই, প্রতিমুহূর্তে কিছু না কিছু করার চেষ্টা। মিরাজ হেসে বলেন, ‘আমি আসলে সবসময় চেষ্টা করি দলের কাজে লাগে এমন কিছু করতে। সেটা যে কোনোভাবেই হোক। ব্যাটিং, বোলিং এমনকি ফিল্ডিংয়ের সময়ও আমার মনে হয়, অনেক কিছু করার থাকে। এভাবে ভাবি বলেই হয়তো হয়ে যায়।’

default-image

দলে থাকলে অলরাউন্ডার হিসেবে সাকিবের ওপরই বাংলাদেশের নির্ভরতা বেশি থাকে। মিরাজ তখনো থাকেন তাঁর মতোই সক্রিয়। তবে মিরাজ এখন বুঝে গেছেন, সাকিবের অনুপস্থিতিতেই তাঁর দায়িত্বটা বেশি। আজকের ম্যাচ নিয়েই কাল যেমন বলছিলেন, ‘সাকিব ভাই খেললে আমাদের জন্য বাড়তি সুবিধা। কিন্তু তাঁর না খেলাটা আবার সবার জন্যই সুযোগ। তাঁর অনুপস্থিতিতে আমাদের অন্য পথ খুঁজে বের করতে হবে। হয়তো আমাকেই একটু বেশি দায়িত্ব নিতে হবে। শেষ দিকে ব্যাটিং করি বলে আমাকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হতে পারে। যদি ৩০–৪০টা রানও করতে পারি, সেটা দলের জন্য ভালো হবে।’

মাঠের পারফরম্যান্সে মিরাজ না হয় সাকিবের ছায়া হয়ে হাঁটছেন, কিন্তু খেলা নিয়ে চিন্তার জায়গায়, দলের ব্যক্তিত্বপূর্ণ মুখ হয়ে ওঠায় আরও অনেকটা পথ পাড়ি দিতে হবে তাঁকে। অনূর্ধ্ব–১৯ দলের অধিনায়ক ছিলেন। একটা সময়ে তাঁকে বাংলাদেশ দলের সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ অধিনায়কও ভাবা হয়েছে। কিন্তু সেই জায়গা থেকে কেন সরে গেলেন মিরাজ? কেন পরের ধাপে যেতে পারছেন না?

ছয় বছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলে ফেলার পরও কেন তাঁর কাছে আশাটা কেবল ব্যাট–বলের পারফরম্যান্সে? পরের প্রজন্মের সম্ভাব্য অধিনায়ক হিসেবে কেন এখন আর সবার আগে তাঁর নামটা উচ্চারিত হয় না?

মাঠে যা করছেন তা এককথায় অসাধারণ। তবু মিরাজের বোধহয় নিজেকেই নিজের প্রশ্নগুলো করা উচিত, খুঁজে বের করতে হবে উত্তরও। তাঁর মতো বুদ্ধিদীপ্ত ক্রিকেটার নিজেকে জানবেন না, তা কী করে হয়!

তারেক মাহমুদ, জর্জটাউন, গায়ানা থেকে

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন