ঠিকমতো উইকেট ব্যবহার করতে পারছেন না তাইজুল আর মিরাজ।
ঠিকমতো উইকেট ব্যবহার করতে পারছেন না তাইজুল আর মিরাজ।ছবি: এএফপি

‘মিরাজ বলে একটু বাতাস দে’—মেহেদী হাসান মিরাজকে একটু আস্তে বল করার জন্য উইকেটকিপার লিটন দাস যেন আকুতি করেই বললেন কথাটা। কাল শেষ বিকেলে শ্রীলঙ্কার দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুতে মিরাজ নতুন বলটা হাতে পেয়েই যেন মিডিয়াম পেসারের গতিতে বল করতে শুরু করলেন। ধারাভাষ্যকার আমির সোহেল মিরাজের ঘণ্টায় ৯০ কিলোমিটার ছাড়ানো গতি দেখে অবাক, ‘আপনি নতুন বলে বল করছেন তাই বলে পেসার হওয়ার চেষ্টা করতে হবে কেন?’

শ্রীলঙ্কান তরুণ স্পিনার প্রভিন জয়াবিক্রমার বোলিং দেখার পর মিরাজের বোলিং দেখলে যেকেউই হতাশ হবেন। ৯২ রানে ৬ উইকেট নেওয়া এই তরুণ স্পিনারের গড় গতি ছিল ঘণ্টায় ৭৮.৬ কিলোমিটার। বল হাওয়ায় ভাসিয়ে ভাসিয়ে উইকেট থেকে বিশাল বিশাল বাঁক আদায় করে নিয়েছেন এই লঙ্কান তরুণ, অথচ তিনি খেলছেন তাঁর প্রথম টেস্ট!

বল বাঁক খাওয়ানোর সুযোগ করে দিয়েছেন আরেক স্পিনার রমেশ মেন্ডিসও। ঘণ্টায় ৮৩.২ কিলোমিটার বেগে বল করেছেন তিনি। প্রতি ওভারেই কিছু বল করেছেন ৭০-এর ঘরে। আবার কিছু বলের গতি বাড়িয়ে ৮০–র ঘরে। গতির এই বৈচিত্র্য তাঁকে এনে দিয়েছে দুটি উইকেট।

default-image
বিজ্ঞাপন

ধীরগতিতে বল করে লঙ্কান স্পিনাররা বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে সবচেয়ে বেশি বাঁক আদায় করে নিয়েছেন। বাংলাদেশ ইনিংসের সময় লঙ্কান স্পিনাররা গড়ে ৪.৭ ডিগ্রি বাঁক পেয়েছেন। অথচ বাংলাদেশের দুই স্পিনার শ্রীলঙ্কার প্রথম ইনিংসে বাঁক পেয়েছেন মাত্র ২.৯ ডিগ্রি। শ্রীলঙ্কা আগে ব্যাট করায় অবশ্য প্রথম ইনিংসে উইকেট থেকে অবশ্য তেমন সাহায্য পায়নি বাংলাদেশি স্পিনাররা।

কিন্তু বাংলাদেশ যে সাহায্য পাওয়ার মতো বোলিংও করেনি। প্রথম ইনিংসে তাইজুলের গড় গতি ছিল ঘণ্টায় ৮৫.৭ কিলোমিটার, আর মেহেদী হাসান মিরাজের ৮৩.৯ কিলোমিটার। দুজনের গড় গতি ছিল ঘণ্টায় ৮৪.৭। উইকেট থেকে কিছু আদায় করে নেওয়ার জন্য যে ধীরগতির বোলিং করা দরকার ছিল, সেটা করেনি বাংলাদেশি স্পিনাররা। লঙ্কানরা বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস বলের গতি গড়ে ৮০.৮ কিলোমিটার রেখে গড়ে ৪.৭ ডিগ্রি বাঁক আদায় করে নিতে পেরেছে। বাংলাদেশ এই অতিরিক্ত স্পিনের খেই হারিয়েছে, অলআউট হয়েছে ২৫১ রানে। একপর্যায়ে ৩১ রানে হারিয়েছে ৭ উইকেট!

default-image

বাংলাদেশেরও সুযোগ ছিল লঙ্কান বোলিং দেখে এই উইকেটের আদর্শ গতি আঁচ করার। কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসের এখন পর্যন্ত তা দেখা যায়নি। বাংলাদেশ ৩০ ওভারের বেশি বোলিং করে ফেলেছে। স্পিনারদের গড় গতি এখন পর্যন্ত ঘণ্টায় ৮৪.২ কিলোমিটার। গতি বেশি হওয়াতে বাঁকও কম পাচ্ছে বাংলাদেশ। যেখানে টেস্টের তৃতীয় দিন লঙ্কানরা বাঁক পেয়েছে গড়ে ৪.৭ ডিগ্রি করে, সেখানে চতুর্থ দিনে তাইজুলরা পাচ্ছে গড়ে ৩.৯ ডিগ্রি করে। অথচ তৃতীয় দিনের চেয়ে চতুর্থ দিন বল আরও বেশিই বাঁক খাওয়ার কথা। মিরাজ-তাইজুলদের বোলিংয়ের গতির বৈচিত্র্যের ওভারে তা হচ্ছে না। শ্রীলঙ্কার লক্ষ্য ইনিংস ঘোষণা করা, তাই দ্রুত রানের খোঁজে না থাকলে এই বোলিংয়ে উইকেট নিতে যথেষ্ট বেগ পেতে হতো সফরকারীদের।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন