২১ ওভার শেষ হওয়ার আগে ৪ উইকেট নেই, স্কোরবোর্ডে ৮৩ রান! ফিরে গেছেন কুইন্টন ডি কক, হাশিম আমলা, ফাফ ডু প্লেসি আর এবি ডি ভিলিয়ার্স। হ্যামিল্টনে দক্ষিণ আফ্রিকান সমর্থকদের মুখগুলো মলিন, জিম্বাবুয়ের চোখে রঙিন স্বপ্ন।

দিনের শুরুর দিকের এই গল্পের সঙ্গে শেষটার বিস্তর অমিল। কারণ এরপর অতিমানবীয় ব্যাটিংয়ে গল্পের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছেন ডেভিড মিলার ও জেপি ডুমিনি। পাল্টা-আক্রমণে দিশেহারা করে ছেড়েছেন জিম্বাবুইয়ান বোলারদের। ফলাফল, ১০০ পেরোতে যে দক্ষিণ আফ্রিকার ২৫ ওভার পর্যন্ত খেলতে হয়েছে, ৪০ ওভার শেষে রান ১৯৩, তারাই ৫০ ওভার শেষে ৩৩৯।

উইকেট আর পড়েনি। সেঞ্চুরি পেয়েছেন মিলার-ডুমিনি দুজনই, পঞ্চম উইকেটে তাঁদের সংযোজন ২৫৬ রান, ১৭৮ বলে বিশ্ব রেকর্ড জুটি! তবে জিম্বাবুয়ে কিন্তু রানের চাপে পিষ্ট হয়নি। হ্যামিল্টন মাসাকাদজার ঝলমলে ফিফটিতে বেশ লড়াই করে শেষমেশ জিম্বাবুয়ের হার ৬২ রানে। ডেল স্টেইনের মতো গতিদানবকে স্বছন্দে সামলেছেন জিম্বাবুইয়ান ব্যাটসম্যানরা। ৯ ওভারে ৬৪ রান দিয়ে একটি মাত্র উইকেট স্টেইনের। কিছুদিন আগে বাংলাদেশের কাছে টেস্ট ও ওয়ানডে মিলে ৮-০ ব্যবধানে হারা দলটার জন্য এটা আশাব্যঞ্জক পারফরম্যান্সই।

ধাক্কা সামলাতে শুরুতে একটু ধীরস্থির ছিলেন মিলার ও ডুমিনি। মিলারের ফিফটি ৫৫ বলে, ডুমিনির ৬৮ বল। এরপরই জিম্বাবুইয়ান বোলারদের শাসন করেছেন দুজনই। সেঞ্চুরি করতে মিলার খেলেছেন ৮১ বল, ডুমিনি ৯৬। সোলেমান মায়ারের করা ৪৮তম ওভারে ৩ চার ও ৩ ছক্কায় ৩০ রান তুলেছেন মিলার, শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ৯২ বলে ১৩৮ রান করে। ছক্কা ৯টি, চার ৭টি। ৩৭ বলে ২৯ রান ছিল যে ডুমিনির, তিনিই ১০০ বলে ১১৫ রানে অপরাজিত। ৩ ছক্কা, ৯ চার। এই দুজনের তাণ্ডবে ৪৫ থেকে ৪৮ ওভার পর্যন্ত ৩ ওভারে ৮০ রান তোলে দক্ষিণ আফ্রিকা! স্টার স্পোর্টস, ক্রিকইনফো।

                                           ম্যাচ                   ভেন্যু       সাল

২৫৬* ডুমিনি-মিলার        দ. আফ্রিকা-জিম্বাবুয়ে           হ্যামিল্টন     ২০১৫

২২৬*  বোপারা-মরগান           ইংল্যান্ড-আয়ারল্যান্ড     ডাবলিন      ২০১৩

২২৩     আজহারউদ্দিন-জাদেজা ভারত-শ্রীলঙ্কা              কলম্বো       ১৯৯৭

২২০     ক্লার্ক-সাইমন্ডস             অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড  ওয়েলিংটন   ২০০৫

১৯৫     টেলর-উইলিয়ামসন       নিউজিল্যান্ড-জিম্বাবুয়ে   বুলাওয়ে      ২০১১

হ্যামিল্টনে রেকর্ডময় ম্যাচ

বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ছক্কার ইনিংস ডেভিড মিলারের। এর আগে ৮টি করে ছক্কা নিয়ে যৌথভাবে রেকর্ডের অংশীদার ছিলেন রিকি পন্টিং ও অ্যাডাম গিলক্রিস্ট।

১৩৮*

পাঁচ নম্বরে ব্যাট করে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ইনিংস মিলারের। আগের সর্বোচ্চ নিউজিল্যান্ডের ক্রিস হ্যারিসের ১৩০, চেন্নাইয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১৯৯৬ বিশ্বকাপে।

গ্যারি কারস্টেনের পর দ্বিতীয় দক্ষিণ আফ্রিকান হিসেবে বিশ্বকাপ অভিষেকে সেঞ্চুরি পেলেন মিলার।

৯৬

শেষ ৫ ওভারে দক্ষিণ আফ্রিকার ৯৬ রান ওয়ানডেতে পঞ্চম সর্বোচ্চ। সর্বোচ্চ ১১০ নিউজিল্যান্ডের, যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ২০০৪ সালে।

বিজ্ঞাপন
ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন