ইতিহাস গড়তে পারবেন রোহিত মুম্বাই ইন্ডিয়ানসকে নিয়ে?
ইতিহাস গড়তে পারবেন রোহিত মুম্বাই ইন্ডিয়ানসকে নিয়ে?ছবি: টুইটার, মুম্বাই ইন্ডিয়ানস

ইতিহাসের সামনে দাঁড়িয়ে আছে মুম্বাই ইন্ডিয়ানস। এবার রোহিত শর্মার দল শিরোপা জিততে পারলেই আইপিএলের ইতিহাসের প্রথম দল হিসেবে হ্যাটট্রিক শিরোপা জেতার কৃতিত্ব গড়বে। কেবল হ্যাটট্রিকই নয়, শেষ নয়টি মৌসুমে ছয় শিরোপাও তো চাট্টিখানি কথা নয়। আইপিএলের সফলতম দল হিসেবে শুরুর দিকে চেন্নাই সুপার কিংসের নাম বারবার এলেও সাম্প্রতিক কালে মহেন্দ্র সিং ধোনির দলের কাছ থেকে সেই শ্রেষ্ঠত্বের ব্যাটনটা ছিনিয়েই নিয়েছেন রোহিত শর্মা। আগামী ৯ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাওয়া আইপিএলের নতুন মৌসুমে বড় ফেবারিট রোহিতের মুম্বাই ইন্ডিয়ানস।

আসুন এক নজরে দেখে নেওয়া যাক আইপিএলের চতুর্দশ আসরে শিরোপা রক্ষার লড়াইয়ে নামতে যাওয়া মুম্বাই ইন্ডিয়ানসের খুঁটিনাটি।

সম্পূর্ণ স্কোয়াড

ব্যাটসম্যান

রোহিত শর্মা, কুইন্টন ডি কক, ক্রিস লিন, সূর্যকুমার যাদব, সৌরভ তিওয়ারি, অনমোলপ্রীত সিং

পেসার

ট্রেন্ট বোল্ট, যশপ্রীত বুমরা, নাথান কোল্টার-নাইল, অ্যাডাম মিলনে, ধবল কুলকার্নি, মার্কো ইয়ানসেন, অর্জুন টেন্ডুলকার, মহসিন খান

স্পিনার

রাহুল চাহার, পীযূষ চাওলা, জয়ন্ত যাদব

অলরাউন্ডার

কাইরন পোলার্ড, হার্দিক পান্ডিয়া, জিমি নিশাম, ক্রুনাল পান্ডিয়া, অনুকূল রায়, যুধবীর সিং

উইকেটকিপার

ঈশান কিষান, আদিত্য তারে

কোচ

মাহেলা জয়াবর্ধনে

default-image
বিজ্ঞাপন

শক্তি

গত দুবার টানা শিরোপা জয়ের পেছনে মুম্বাই ইন্ডিয়ানসকে সবচেয়ে বড় সুবিধা দিয়েছিল দলে অসাধারণ কিছু ‘বিগ হিটার’–এর উপস্থিতি। রোহিত শর্মা থেকে শুরু করে কুইন্টন ডি কক, সূর্যকুমার যাদব, ঈশান কিষান, হার্দিক পান্ডিয়া, কাইরন পোলার্ড—সবাই প্রয়োজনে বলকে পিটিয়ে প্রতিমূহুর্তে মাঠছাড়া করতে পারেন। যেকোনো দিন, যেকোনো স্কোর তাড়া করার সামর্থ্য আছে এই দলের। ২০১৯ সাল থেকে একসঙ্গে খেলার কারণে দলটার রসায়নও তুঙ্গে। এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না। টপ অর্ডারে রোহিত-ডি কক আর সূর্যকুমার, মিডল অর্ডারে ঈশান, হার্দিক, পোলার্ড, ক্রুনাল—এই ব্যাটিং অর্ডার ভেঙে নতুন কেউ ঢুকতে পারবে বলে আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে না। মুম্বাই গতবার ছক্কা মেরেছে ১৩৭টি। ছক্কায় দ্বিতীয় সেরা দলের চেয়ে ৩৪টি বেশি। তাঁদের ব্যাটিং–সামর্থ্য বোঝাতে এর চেয়ে বেশি তথ্যের দরকার পড়ে না।

দলে রোহিত শর্মার মতো ব্যাটসম্যান আছেন বলে বাকিরা গা ছাড়া দিয়ে থাকবেন, তেমনটা হয়নি। বরং গতবার রোহিতই নিষ্প্রভ ছিলেন। মিডল অর্ডারে সূর্যকুমার যাদব ও ঈশান কিষানের ব্যাটিং ছিল মুম্বাইয়ের মূল শক্তি। আইপিএলে সর্বোচ্চ রানের তালিকায় যদিও কুইন্টন ডি ককের নাম নেই, কিন্তু তাঁর কাছে দল প্রতি ম্যাচে চাইত একটা বিধ্বংসী সূচনা, যেটা তিনি উইকেট হারানোর ঝুঁকি নিয়েই এনে দিয়েছেন ম্যাচের পর ম্যাচ। যে কারণে সব মিলিয়ে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের তালিকায় ডি ককের নাম ওপরে না থাকলেও পাওয়ার প্লেতে সবচেয়ে বেশি রান দক্ষিণ আফ্রিকার এই উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যানই তুলেছেন। রোহিত-ডি ককের পর সূর্যকুমার-ঈশান, শেষ দিকে হার্দিক-পোলার্ড—ব্যাটিংয়ে সবার কাজই ছিল নির্দিষ্ট।

মুম্বাইয়ের শক্তির আরও একটা বড় অংশ হল দলের দেশীয় খেলোয়াড়েরা। মুম্বাইতে এখন ভারতের সেরা খেলোয়াড়েরা খেলেন, বললে ভুল হবে না। রোহিত, সূর্যকুমার, ঈশান, বুমরা, হার্দিক, ক্রুনাল—এক দিল্লি ক্যাপিটালস ছাড়া দেশীয় খেলোয়াড়দের এমন দুর্দান্ত সংগ্রহ অন্য কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজির আছে বলে মনে হয় না।

ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি মুম্বাইয়ের আরেকটা শক্তির জায়গা হলো পেস বোলিং। ঘরের ছেলে বুমরা তো আছেনই, বাঁহাতি পেসারের অভাব মেটানোর জন্য বিদেশ থেকে আনা হয়েছে ট্রেন্ট বোল্টকে। পাওয়ার প্লেতে প্রতিপক্ষকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার দায়িত্ব থাকে যার ওপর। গতবার এই পাওয়ার প্লেতেই ২৫টা উইকেট তুলে নিয়েছিলেন বোল্ট, তাঁর চেয়ে বেশি আর কেউ পাননি। বুমরা-বোল্ট ছাড়াও দলের পেস আক্রমণ সামলানোর জন্য আছেন নাথান কোল্টার-নাইল আর অ্যাডাম মিলনে, অভিজ্ঞ দেশীয় খেলোয়াড় ধবল কুলকার্নি। নতুনদের মধ্যে নাম লিখিয়েছেন টেন্ডুলকার-তনয় অর্জুন ও মহসিন খান।

default-image

দুর্বলতা

টানা দুবার আইপিএল জিতেছে বলেই যে মুম্বাইয়ের দুর্বলতা নেই, তা নয়। মুম্বাইয়ের চিন্তার জায়গা তাদের স্পিন বিভাগ। স্পিনার হিসেবে মূলত দেশীয়রাই দায়িত্ব পালন করবেন দলটায়। দলে বাঁহাতি ফিঙ্গার স্পিনার ক্রুনাল যেমন আছেন, আছেন ডানহাতি লেগ স্পিনার রাহুল চাহার ও পীযূষ চাওলা, ডানহাতি অফস্পিনার জয়ন্ত যাদব। রান আটকানোর ব্যাপারে কারওরই তেমন সুনাম নেই। মুম্বাইয়ের পেস আক্রমণ যদি কোনো এক ম্যাচে ভোঁতা হয়ে যায়, সে ম্যাচে দলকে উদ্ধার করার জন্য স্পিন বিভাগের পর্যাপ্ত শক্তি আছে কি না, সেটাও দেখার বিষয়। চেন্নাইয়ের চিপকের মতো স্পিনসহায়ক পিচে মুম্বাইয়ের স্পিনাররা কতটুকু ভালো করতে পারেন, আগ্রহ থাকবে দর্শকদের।

মুম্বাইয়ের মূল একাদশ যতটা শক্তিশালী, বেঞ্চে থাকা খেলোয়াড়েরা প্রয়োজনে সেভাবে জ্বলে উঠতে পারেন কি না, সে নিয়েও চাইলে প্রশ্ন তোলা যায়। মহসিন খান, অনমোলপ্রীত সিং, অনুকূল রায়, অর্জুন টেন্ডুলকার—প্রত্যেকেই বড্ড বেশি কাঁচা।

সম্ভাব্য একাদশ

রোহিত শর্মা, কুইন্টন ডি কক, সূর্যকুমার যাদব, ঈশান কিষান, হার্দিক পান্ডিয়া, কাইরন পোলার্ড, ক্রুনাল পান্ডিয়া, রাহুল চাহার, যশপ্রীত বুমরা, ট্রেন্ট বোল্ট, নাথান কোল্টার-নাইল

বিজ্ঞাপন
ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন