default-image

বাবার স্বপ্ন ছিল ছেলে বড় হয়ে ক্রিকেটার হবে। খেলবে দেশের হয়ে। দেশকে গর্বিত করবে নিজের পারফরম্যান্স দিয়ে। অনেক কষ্ট করে সেই স্বপ্ন পূরণের পথে এগিয়ে দিয়েছেন ছেলেকে। ছেলের দেশের জার্সি পরে খেলছে—সেটি দেখার সৌভাগ্য হলেও সাফল্যটা তাড়িয়ে উপভোগ করতে পারলেন না তিনি।

গল্পটা মোহাম্মদ সিরাজের। ভারতীয় ডানহাতি পেসার। ঘরোয়া ক্রিকেটে নৈপুণ্য তাঁর সামনে এনে দিয়েছে ভারতের হয়ে টেস্ট খেলার সুযোগ। যদিও ভারতীয় দলের হয়ে ২০১৭ সালেই অভিষিক্ত হয়েছেন তিনি। খেলেছেন তিনটি টি–টোয়েন্টি ও একটি ওয়ানডে। অস্ট্রেলিয়া সফররত ভারতীয় দলে সুযোগ পাওয়া সেই সিরাজ বাবার মৃত্যুর শোক পালন করবেন ভারতীয় দলের হয়ে খেলেই। অস্ট্রেলিয়া বসে মৃত্যু সংবাদ পেয়েও তিনি ফিরছেন না দেশে। বাবার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করবেন দেশের দায়িত্ব পালন করেই।

বিজ্ঞাপন

সিরাজের এই আত্মত্যাগকে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন সবাই। বিসিসিআই সভাপতি সৌরভ গাঙ্গুলী টুইট করে সিরাজকে অভিহিত করেছেন ‘অসাধারণ এক চরিত্র’ হিসেবে।

সিরাজের বাবা মোহাম্মদ গাউস নিজের রক্ত পানি করেই ছেলেকে ক্রিকেটার বানিয়েছেন। হায়দরাবাদের এই বাবার গল্পটা অন্য রকম আবেগের। হৃদয় নিংড়ে দেওয়া ভালোবাসার। ছেলেকে ক্রিকেটার বানানোর তীব্র ইচ্ছা, অথচ সংগতি নেই। হায়দরাবাদ শহরের এক ক্রিকেট কোচিং স্কুলে গাউস সিরাজকে নিয়ে গিয়েছিলেন সাহস করেই। কারণ, সেই কোচিংয়ের বেতন দেওয়ার সামর্থ্য তাঁর ছিল না। অটোরিকশা চালিয়ে যে আয় করতেন, তাতে সংসারই ঠিকমতো চলে না, ছেলের ক্রিকেট কোচিংয়ের টাকা আসবে কোথা থেকে!

কিন্তু অনেক আশা নিয়ে সেই কোচিংয়ে ছেলেকে নিয়ে গিয়েছিলেন গাউস সাহেব। কোচকে বলেছিলেন, ‘আমার ছেলের পরীক্ষা নিন। যদি ওর খেলা আপনাকে খুশি করতে পারে, তাহলে ওকে সুযোগ দিন দয়া করে।’ কোচ ছোট্ট সিরাজের বোলিং দেখে অবাকই হয়েছিলেন। বিনা পয়সাতেই তাঁর কোচিংয়ের সুযোগ করে দেন তিনি। কিন্তু বাবা মোহাম্মদ গাউসকে ক্রিকেটের বিভিন্ন সরঞ্জাম ঠিকই কিনতে হয়েছিল। দিন–রাত অটো চালিয়ে তিনি ছেলের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতেন। দেশের হয়ে খেলার সময় বাবাকে বড্ড মিসই করবেন সিরাজ।

দীর্ঘদিন ধরে ফুসফুসের জটিলতায় ভুগছিলেন গাউস। শুক্রবার শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। বাবার মৃত্যু সংবাদ সিরাজকে দিয়ে তাঁকে দেশে ফিরে যাওয়ারও অনুমতি দিয়েছিল বিসিসিআই। কিন্তু সিরাজ অস্ট্রেলিয়াতে থেকে যাওয়ারই সিদ্ধান্ত নেন। করোনার কারণে এসব পরিস্থিতি অনেক বেশি জটিল হয়ে গেছে এ মুহূর্তে। ভারতীয় দলের সঙ্গে কোয়ারেন্টিন করা সিরাজ যদি দেশে ফিরতেন, তাহলে হয়তো সফরটাই শেষ হয়ে যেত তাঁর। তবে সিরাজ এত কিছু না ভেবে ক্রিকেট-পাগল বাবার ইচ্ছাটাকেই প্রধান্য দিচ্ছেন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0