default-image

সিরিজের নাম বোর্ডার-গাভাস্কার ট্রফি। সিরিজ শেষে হয়তো বলতে হবে—‘স্মিথ-কোহলি ট্রফি!’ দুই দলের দুই নিয়মিত পারফর্মার। রীতিমতো রানের বন্যা বইয়ে দিচ্ছেন! গতকাল স্মিথ সেঞ্চুরি করেছেন। আজ কোহলি। ভারত সহ-অধিনায়কের দিনে আরেক উজ্জ্বল চরিত্র অজিঙ্ক রাহানে। কোহলি-রাহানের দুর্দান্ত জুটিতে মেলবোর্ন টেস্টের তৃতীয় দিন ভারতের।
আগের দিনের ১ উইকেটে ১০৮ রানের সঙ্গে আজ ৭ উইকেটে ৩৫৪ রান যোগ করেছে ভারত। দিন শেষে প্রথম ইনিংসে ভারতের সংগ্রহ ৮ উইকেটে ৪৬২ রান। এখনো পিছিয়ে ৬৮ রানে।
দিনের শুরুটা অবশ্য ভালো হয়নি সফরকারীদের। সকালে রায়ান হ্যারিসের করা প্রথম ওভারের দ্বিতীয় বলেই ব্র্যাড হাডিনের দুর্দান্ত এক ক্যাচে ২৫ রানে ফিরে যান আগের দিনের অপরাজিত চেতেশ্বর পূজারা। অস্ট্রেলীয় বোলারদের ভোগাতে তখন দাঁড়িয়ে যায় কোহলি-রাহানের চতুর্থ উইকেট জুটি। এ জুটিতে আসে ২৬২ রান। মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে (এমসিজি) চতুর্থ উইকেট জুটিতে এটিই সর্বোচ্চ। ২০০৪ সালে শচীন টেন্ডুলকার-ভিভিএস লক্ষ্মণের পর এই প্রথম চতুর্থ উইকেটে দেশের বাইরে ভারতের কোনো জুটি ২৫০-এর বেশি রান তুলল।
সিরিজের তৃতীয় ও ক্যারিয়ারের নবম সেঞ্চুরি তুলে নেন কোহলি। নয় সেঞ্চুরির ছয়টিই বিদেশের মাটিতে। ক্যারিয়ারে প্রথম পেরোলেন ১৫০ রান। জনসনের বলে হাডিনের দারুণ ক্যাচে পরিণত হওয়ার আগে ভারতীয় ব্যাটিং সেনসেশনের সংগ্রহ ক্যারিয়ার সর্বোচ্চ ১৬৯ রান। ওদিকে গত দুই ম্যাচে ৬২ ও ৮১ রানে ফিরেছিলেন রাহানে। অবশেষে তিন অঙ্ক ছোঁয়া হলো এ ডান হাতির। নাথান লায়নের বলে এলবিডব্লু হওয়ার আগে রাহানের সংগ্রহ ক্যারিয়ার সর্বোচ্চ ১৪৭ রান।
কীভাবে হলো দারুণ এ জুটি? ম্যাচের পর সৌরভ গাঙ্গুলিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কোহলি বললেন, ‘টেস্টে সেশন অনুযায়ী এগোতে হয়। আমরা সেভাবেই এগিয়েছি।’ প্রথম দুই সেশনে ভারত সফল। প্রথম সেশনে ১ উইকেটে তুলেছে ১১৬ রান। দ্বিতীয় সেশনে বিনা উইকেটে ১১২। তবে শেষ সেশনটা অস্ট্রেলীয় বোলারদের। এ সেশনে ভারত ১২৬ রান তুললেও খুইয়েছে ৫ উইকেট। ৩ উইকেটে ৪০৯ থেকে ভারত দিন শেষ করেছে ৮ উইকেটে ৪৬২ রান করে।
তবে ভারতের বড় স্কোরের পেছনে অস্ট্রেলিয়ার বাজে ফিল্ডিং অনেকাংশেই দায়ী। ৮০ ওভারে রাহানের এক ‘ডলি ক্যাচ’ ছাড়েন বোলার লায়ন নিজেই। রাহানের রান তখন ৭০। ৮৫ ওভারে জনসনের বলে প্রথম স্লিপে কোহলির ক্যাচ ছাড়েন শেন ওয়াটসন। কোহলির রান তখন ৮৮। এক ওভার পর জনসনের বলে আবারও বল বাতাসে উঠিয়ে দেন কোহলি। হাডিন লুফে নিতে পারলে দুর্দান্ত এক ক্যাচই হতো। মিডউইকেটে অভিষিক্ত লোকেশ রাহুলের ক্যাচ হাতছাড়া করেন পিটার সিডল। অবশ্য এর পরের বলেই ৩ রানে ফিরেছেন রাহুল। অস্ট্রেলিয়া বোলারদের পক্ষে সবচেয়ে সফল হ্যারিস, নিয়েছেন ৪ উইকেট। এ ছাড়া লায়নের ঝুলিতে দুটি। তথ্যসূত্র: এএফপি, ক্রিকইনফো।

বিজ্ঞাপন
ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন