ফ্রান্স দলের মধ্যমাঠেও কান্তেকে আলাদা করে চোখে পড়ে।
ফ্রান্স দলের মধ্যমাঠেও কান্তেকে আলাদা করে চোখে পড়ে। ছবি: রয়টার্স

এবারের দলবদলের বাজারটা জমিয়ে তুলেছিলেন লিওনেল মেসি। বার্সেলোনা ছেড়ে চলে যাওয়ার কথা বলে রীতিমতো ঝড় তুলে দিয়েছিলেন আর্জেন্টাইন তারকা। এমন খবরে বার্সেলোনা সমর্থকদের মন খারাপ হলেও খুশি হয়ে উঠেছিলেন বাকি ফুটবল দর্শকেরা। মেসিকে অন্য কোনো লিগে দেখতে পারার আগ্রহ তো আছেই। সে সঙ্গে তাঁকে পাওয়ার সম্ভাবনার কথা ভেবেও পুলকিত হয়ে উঠেছিল কিছু ক্লাব। সে তালিকায় সবার আগে ছিল ম্যানচেস্টার সিটির নাম। তবে প্যারিস সেন্ট জার্মেইও আগ্রহ দেখিয়েছিল তাঁকে পেতে।

ইউরোপের শ্রেষ্ঠত্বের স্মারক বুঝে নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে সিটি ও পিএসজি। প্যারিসিয়ানরা তবু গত মৌসুমে ফাইনাল খেলেছে, পেপ গার্দিওলার সিটি এখনো পর্যন্ত সেমিফাইনালের গণ্ডি পেরোতে পারেনি। চূড়ান্ত বাধা পেরোতে একটা ‘এক্স ফ্যাক্টর’ দরকার দুই দলেরই। মেসির মতো একজনকে দরকার তাদের। তাই আগামী দলবদলে আবারও মেসিকে পাওয়ার চেষ্টা করতেই পারে এ দুই দল। তবে পিএসজিকে সে পথে হাঁটতে মানা করলেন তাদের সাবেক এক খেলোয়াড়। তাঁর ধারণা, মেসি নন, একজন মিডফিল্ডারকে দলে টানলেই লক্ষ্য পূরণ হবে পিএসজির।

বিজ্ঞাপন

বিশ্বে সেরা মিডফিল্ডার হিসেবে এখন যদি কারও নাম বলতে বলা হয়, তাহলে সেটি কেভিন ডি ব্রুইনা। আর ফ্রান্সের সেরা মিডফিল্ডার পল পগবা। কিন্তু ম্যানচেস্টার দুই প্রান্তে থাকা এ দুজন মিডফিল্ডার নন, এরিক রাবেসান্দ্রাতানার চোখে পিএসজিকে বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন এনগোলো কান্তে। তারকা ফরোয়ার্ডে ঠাসা পিএসজিতে ভারসাম্য আনার জন্য চেলসির এই মিডফিল্ডারকেই পছন্দ হয়েছে সাবেক পিএসজি মিডফিল্ডারের। গত পরশু ন্যাশনস লিগে পর্তুগালকে ১-০ গোলে হারিয়েছে ফ্রান্স। সে ম্যাচে একমাত্র গোলটি ছিল কান্তের।

এমন নয় যে সেদিন গোল করেছেন বলেই হঠাৎ কান্তেকে মনে ধরেছে সাবেক ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডারের। ২০০১ সাল পর্যন্ত পিএসজিতে খেলা এই ফ্রেঞ্চ মিডফিল্ডারের চোখে, পিএসজির মতো একটি দলের মাঝমাঠে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন কান্তে। ২৯ বছর বয়সী কান্তের গত মৌসুমটা খুব ভালো কাটেনি। এ মৌসুমে তাই ক্লাব ছাড়ার পরিকল্পনা ছিল তাঁর। কিন্তু শেষ পর্যন্ত চেলসিতেই থেকে গেছেন। সিদ্ধান্তটা সঠিক প্রমাণ করে দারুণ খেলছেন এবার। জাতীয় দলেও আছেন দুর্দান্ত ছন্দে। রেডিও ফ্রান্স ব্লুকে রাবেসান্দ্রাতানা বলেছেন, ‘আমি যদি পিএসজির নেতৃত্বে থাকতাম তাহলে ব্যাংকের টাকা উড়িয়ে এনগোলো কান্তেকে কিনতাম। গতকাল (পরশু) সে দুর্দান্ত খেলেছে। পিএসজিকে চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতাতে পারে কান্তেই। আমাদের মেসি বা অন্য কাউকে দরকার নেই।’

default-image

সব উজাড় করে কান্তেকে আনতে চাইলেও লাভ হবে না পিএসজির, যদি না চেলসি এ দলবদলে রাজি হয়। কোচ ফ্র্যাঙ্ক ল্যাম্পার্ড যেভাবে প্রশংসা করছেন এই সদা হাস্যমুখী মিডফিল্ডারের, তাতে মনে হয় না খুব সহজে তাঁকে আনা সম্ভব হবে পিএসজির পক্ষে। প্রিমিয়ার লিগে আন্তর্জাতিক বিরতির আগে শেফিল্ড ইউনাইটেডের বিপক্ষে জয়ের পর কান্তের ব্যাপারে বলতে গিয়ে উচ্ছ্বাস ঝরে পড়েছে ল্যাম্পার্ডের কণ্ঠে, ‘গত বছর মাত্র ৫০ ভাগ ম্যাচ খেলতে পেরেছিল। ওর মানের এক খেলোয়াড়ের অর্ধেক মৌসুম এভাবে নষ্ট হওয়া মানে বড় ক্ষতি। আমি তাই অনেক বড় পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করেছি, যাতে তার অনুশীলন ও ম্যাচের মধ্যে সমন্বয় থাকে। তাকে ফিট রাখতে এবং যত বেশি ম্যাচ খেলানো যায়, সে চেষ্টা করেছি।’

কান্তেকে কেন পিএসজির দরকার, সেটা অবশ্য ল্যাম্পার্ডের কথা শুনলেই টের পাওয়া যায়। নিজের খেলোয়াড়ের প্রশংসায় ল্যাম্পার্ড বলেছিলেন, ‘ওর দক্ষতা দুর্দান্ত। মাঝমাঠে অনেক জায়গাতেই খেলতে পারে। বল পায়ে দক্ষতাও ভালো। মাঝেমধ্যে এটার কথা ভুলেই যায় মানুষ। মানুষ সব সময় তাকে সেরা রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডার হিসেবেই দেখে এবং বলে তার আরও পেছনে খেলানো উচিত। কিন্তু সে অন্য জায়গাতেও খেলতে পারে এবং ভালো প্রভাব ফেলে।’

চ্যাম্পিয়নস লিগে পিএসজির খেলা দেখলে যে কেউই বুঝতে পারেন, এ দলের মূল সমস্যা মধ্যমাঠে। ইউরোপে ঐতিহ্যবাহী প্রতিপক্ষের মাঝমাঠের সঙ্গে পাল্লা দিতে ব্যর্থ হয় দলটি। কান্তের মতো একজনকে তাই খুব করেই দরকার দলটির।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0