বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

কূটনৈতিক সম্পর্কে ফাটলের কারণে এখন আর বিশ্বকাপ ও এশিয়া কাপ ছাড়া ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ দেখা যায় না। এমন প্রতিদ্বন্দ্বিতার আড়ালে চলে যায় বলেই হয়তো পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের ক্ষেত্রেও যে এটা সত্য, সেটা জানা নেই অনেকের।

২০১৩ সালের পর থেকে দুই দেশ বিশ্বকাপ বা এশিয়া কাপ ছাড়া কখনো মুখোমুখি হয়নি। টি-টোয়েন্টিতেও দুই দল একবারই মুখোমুখি হয়েছিল। সেবারও ম্যাচের মাত্র ১ বল বাকি থাকতে জয় পেয়েছিল পাকিস্তান।

default-image

ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে পাঁচটি ম্যাচ খেলে পাকিস্তানকে কখনো হারাতে পারেনি আফগানিস্তান। তবু আফগানিস্তানকে হালকাভাবে নিতে মানা করছে পাকিস্তানের শীর্ষ পত্রিকা ডন।

আজ বাংলাদেশ সময় রাত আটটার সে ম্যাচে কেন আফগানিস্তানকে নিয়ে সতর্ক থাকা দরকার, সেটা বোঝাতে পাঁচটি কারণ দেখিয়েছে ডন। চলুন দেখে নেওয়া যাক কারণগুলো—

১. আফগান স্পিনাররা আসলেই বিশ্বমানের

আফগানদের বড় করে দেখাতে বা আত্মবিশ্বাস বাড়াতে আমরা বা ক্রিকেট–বিশ্ব এমন কথা বলে না। রশিদ খান ও মুজিব উর রেহমান—আফগানিস্তান আসলেই বিশ্বমানের দুজন স্পিনার পাচ্ছে। তাঁদের প্রকৃত বয়স নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে, কিন্তু তাঁদের দক্ষতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই।

গত ম্যাচেই তাঁদের দক্ষতা দেখিয়েছেন তাঁরা, স্কটল্যান্ডের ১০ উইকেটের ৯টিই নিয়েছেন তাঁরা, মুজিব পেয়েছেন ৫ উইকেট। দুজনই টি-টোয়েন্টি বোলারের র‍্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষ পাঁচে আছেন। ওদিকে আরেক স্পিনার মোহাম্মদ নবী র‍্যাঙ্কিংয়ে ২৬ নম্বরে আছে। ওদিকে পাকিস্তানের কোনো স্পিনার শীর্ষ ৩০-এ নেই। শাদাব খান আছেন ৩৩ নম্বরে। ঐতিহাসিকভাবে পাকিস্তানি ব্যাটসম্যানরা স্পিনে ভালো। কিন্তু রশিদ ও মুজিব এতটাই অপ্রথাগত, তাঁদের বিরুদ্ধে কী হবে, আগ থেকে বলা যায় না।

default-image

২. আফগান ওপেনারদের আগ্রাসন

পাকিস্তান সুপার লিগের ভক্তরা হজরতউল্লাহ জাজাইকে ভালোভাবেই চেনেন। এ বছর পাকিস্তান জালমির হয়ে পাঁচ ম্যাচ খেলে দারুণ আলো ছড়িয়েছেন। ২০২১ পিএসএলে ১৮৫.৯৬ স্ট্রাইক রেট ও ৪২.৪ গড়ে রান করেছেন জাজাই। আফগানিস্তানের হয়েও এমন আগ্রাসী ঢঙে খেলেন। সেখানে ৪০.৯৩ গড়ে রান করেছেন ১৫৪.৬৫ স্ট্রাইক রেটে। একজন ওপেনারের জন্য এই স্ট্রাইক রেট অনেক বেশি।

সামনে যে বোলারই থাকুক না কেন, কোনো সম্মান দেন না। মোহাম্মদ শেহজাদের ক্ষেত্রেও এটা সত্য, ঝুঁকি নেওয়ার জন্য যিনি ভালোই বিখ্যাত। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে এ দুজন চার-ছক্কায় পূর্ণ ৫৪ রান এনে দিয়েছেন। পাকিস্তানের বিপক্ষে কয়েক ওভার টিকে থাকলেই অনেক বড় ক্ষতি হয়ে যেতে পারে।

৩. আফগানরা ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলে

ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলার জন্য বিখ্যাত আফগানিস্তান দল। ব্যাট ও বল হাতে ধ্বংসাত্মক হওয়ার নীতিই তাদের টি-টোয়েন্টি র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজের সামনে সাতে নিয়ে এসেছে। ফলে যাঁরা আশা করছেন, আফগানিস্তানের ব্যাটসম্যানরা পাকিস্তানের মহাতারকাদের সম্মান দিয়ে খেলবে, তাঁদের জন্য হয়তো আজ চমক অপেক্ষা করছে। মারার বল পেলে, এমনকি মারার বল না পেলেও আফগানরা মারতে চাইবে। বোলার যিনিই হোন না কেন।

৪. ফেবারিটের বোঝা পাকিস্তানকে বইতে হচ্ছে

পাকিস্তান দল দুর্দান্ত খেলছে, কিন্তু এর ফলেই এখন টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেবারিট হয়ে গেছে তারা। আফগানিস্তানের সঙ্গে এ ম্যাচে তারা পরিষ্কার ফেবারিট এবং অতীতে এটাই এ দলকে ডুবিয়েছে। ফলে জিততেই হবে—এ চাপ পাকিস্তানের ওপর থাকবে। ওদিকে আন্ডারডগ বলে আফগানিস্তানের ওপর কোনো চাপ থাকবে না।

default-image

৫. প্রতিশোধ

রাজনৈতিক দিক থেকে তালেবানের কাবুলের ক্ষমতায় ফেরার পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও আশরাফ গনি সরকার পাকিস্তানকেই দায় দিয়েছে। যদিও ইসলামাবাদ বরাবরই এর প্রতিবাদ করেছে। আজ আফগান ক্রিকেটারদের মনের মধ্যে এটা একটা প্রভাব ফেলতে পারে। অনেকের কাছেই হয়তো আজ শুধু ক্রিকেট ম্যাচ নয়; বরং প্রতিশোধ নেওয়ার উপলক্ষ। সন্দেহ নেই, রাজনৈতিক প্রভাব উজ্জীবিত যেমন করে, তেমনি উল্টোও হতে পারে। কিন্তু যদি প্রথমটা যদি হয়, তাহলে আফগান ক্রিকেটাররা হয়তো শতভাগের বেশি দেবেন আজ।

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন