বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ব্যাটিং:

ডানেডিনে আগে ব্যাট করে ১৩১ রানে অলআউট। ওয়েলিংটনে পরে ব্যাট করে ১৫৪ রানে অলআউট। মাঝের ক্রাইস্টচার্চ বাদ দিলে সিরিজজুড়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং ছিল দিশেহারা। নিউজিল্যান্ডে প্রথম ১০-১৫ ওভার সিম, সুইং ও বাউন্স পাবেন বোলাররা। শুরুর ঝড়টা সামলে দিলেই নিউজিল্যান্ড যেন ব্যাটিং স্বর্গ। আর এই নিউজিল্যান্ড দলের ডেথ ওভার বোলিং সামর্থ্যও এর আগে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। ক্রাইস্টচার্চ ছাড়া কিউই বোলারদের পরীক্ষা নিতেই পারেনি বাংলাদেশ। ডানেডিন ও ওয়েলিংটনে শুরুতে টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানদের হারিয়ে পঙ্গু বাংলাদেশ। ক্রাইস্টচার্চে তামিম ৭৮ রানের ইনিংস খেললেও লিটন দাস ও সৌম্য সরকার থেকে কিছুই পায়নি বাংলাদেশ।

default-image

সাধারণত বিপদে পড়লে মুশফিকুর রহিমের ব্যাট বাংলাদেশকে রক্ষা করে। সেটি হয়নি তিন ম্যাচের একটি ম্যাচেও। ২৩, ৩৪ ও ২১—তিন ম্যাচেই মুশফিক আউট হয়েছেন থিতু হয়ে। নিউজিল্যান্ড পেসাররা মুশফিককে শর্ট বলে বেঁধেছেন। ইনসুইং বোলিংয়ে কৌশলের দুর্বলতাও আবার প্রকাশ্যে এনেছেন বোল্ট-হেনরিরা। পুরো সিরিজে ফুল লেংথের বল মুশফিক খেলেছেন সামনে পা কাভার বরাবর রেখে। যার কারণে ভেতরে আসা বল মুশফিকের খেলতে সমস্যা হচ্ছিল। অথচ সেরা ফর্মের মুশফিকের সামনে পা থাকে বোলার বরাবর।

রক্ষণাত্মক মানসিকতা:

সিরিজজুড়ে বাংলাদেশ দলের বেশ কিছু সিদ্ধান্ত রক্ষণাত্মক মানসিকতার পরিচয় দিয়েছে। নিউজিল্যান্ডের মাটিতে যে ধরনের ওয়ানডে খেলা দরকার, সেটি করেনি তামিমের দল। পরপর দুই ম্যাচে নিউজিল্যান্ড টপ অর্ডারে ধস নামানোর পর বাংলাদেশ কিউইদের বিশাল জুটি গড়তে দিয়েছে। ক্রাইস্টচার্চে যেমন দ্রুত তিন উইকেট তুলে নেওয়ার পর বাংলাদেশ ক্রিজে পায় দুই বাঁহাতি ডেভন কনওয়ে ও টম ল্যাথামকে। বাংলাদেশের ছিলেন দুই অফ স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ ও মেহেদী হাসান। বাঁহাতির বিপক্ষে অফ স্পিন সব সময় আক্রমণে অস্ত্র। অথচ দুজনের বোলিংয়ের সময় তামিম লং অফ, লং অন বাইরে রেখেছেন। ল্যাথাম ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে সহজে নিয়েছেন ১-২ রান। তামিম হয়তো ভেবেছিলেন, বাউন্ডারি থামালে চাপে পড়ে ভুল শট খেলবেন দুই বাঁহাতি, যা সচরাচর বাংলাদেশি উইকেটে হয়ে থাকে। কিন্তু সেদিন সেটি হয়নি। ল্যাথাম থিতু হয়ে পরে করেছেন ম্যাচজয়ী সেঞ্চুরি। কিউইদের চেপে ধরার এমন সুবর্ণ সুযোগ তৃতীয় ম্যাচেও হাতছাড়া করেছে বাংলাদেশ।

default-image

দলের ভুল সমন্বয়

মেহেদী হাসান মিরাজ ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ছিলেন দলের সেরা বোলার। ওয়ানডে র‍্যাঙ্কিংয়ে চারেও উঠে এসেছেন সে সাফল্যে। নিউজিল্যান্ডে তিন ম্যাচে মোট ২১ ওভার করে তিনি কোনো উইকেট পাননি। কিউই টপ অর্ডারে একঝাঁক বাঁহাতি ব্যাটসম্যান পেয়েও তিনি ছিলেন বল হাতে ব্যর্থ। ব্যাটিংয়েও ছিলেন ব্যর্থ। তাঁর জায়গায় বাঁহাতি স্পিনার নাসুম আহমেদ খেললে হয়তো গল্পটা ভিন্ন হতে পারত। বাঁহাতি স্পিনে কিউইদের দুর্বলতা কার না জানা।

এ ছাড়া তৃতীয় ম্যাচের উইকেটে তো দুই স্পিনার খেলানোই ছিল ভুল। সবুজ ওয়েলিংটনে মিরাজের জায়গায় খেলতে পারতেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। মিরাজ বল করেছেন মাত্র ৫ ওভার। অথচ সৌম্য সরকারকে হাত ঘোরাতে হয়েছে ৮ ওভার। সাইফউদ্দিনের মতো একজন স্কোয়াডে থাকার পরও তাঁকে না নিয়ে মিরাজকে খেলানো তৃতীয় ম্যাচের উইকেটে অনেক বড় ভুল সিদ্ধান্ত ছিল।

default-image

সুইং-হারা মোস্তাফিজ

নতুন মোস্তাফিজুর রহমান ছিলেন নিউজিল্যান্ডে বাংলাদেশের ভালো করার প্রধান হাতিয়ার। সিরিজ শুরুর আগে অধিনায়ক তামিম বলেছিলেন, ‘দলে যদি একজন পেসার নিতে হয়, তাহলে মোস্তাফিজের নাম সবার আগে থাকবে।’ সেই মোস্তাফিজের প্রথম কোনো বাংলাদেশি বোলার হিসেবে ওয়ানডেতে তিন ম্যাচে ৮০–এর বেশি রান দেওয়ার অপ্রীতিকর রেকর্ড হয়ে গেছে আজ। নতুন করে নিজের বোলিংয়ে সুইং যোগ করে ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দারুণ বোলিং করেছিলেন তিনি। ভালো করার প্রত্যাশার কারণ তাঁর এই সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স। কিন্তু নিউজিল্যান্ডে গিয়ে যেন সেই সুইং হারিয়ে বসেছেন তিনি। তিন ম্যাচ খেলে মোস্তাফিজের উইকেট মাত্র দুটি। একটি এসেছে ক্রাইস্টচার্চে নতুন বলের কাটারে। আরেকটি কাল ডেথ ওভারে। জানা গেছে, অনুশীলনে সুইং পেলেও কেন জানি ম্যাচে বলটা ডানহাতিদের ভেতরে আনতেই পারছেন না এই বাঁহাতি।

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন