default-image

তিন বছর পর সাকিব আল হাসানের সামনে আরেকটি ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (সিপিএল) জয়ের হাতছানি। ২০১৬ সিপিএলে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল তাঁর দল জ্যামাইকা তালওয়াস। এবার বাংলাদেশ অলরাউন্ডার ফাইনালে উঠেছেন বারবাডোজ ট্রাইডেন্টসের হয়ে। আজ রাত ৩টায় ত্রিনিদাদে গায়ানার বিপক্ষে শিরোপার লড়াইয়ে নামবে সাকিবের বারবাডোজ। শুধু সিপিএলেই নয়, সাকিব তিনবার আইপিএলের ফাইনাল ও চারবার বিপিএলের ফাইনালেও খেলেছেন। বাংলাদেশের হয়ে খেলেছেন পাঁচটি ফাইনাল। বাংলাদেশের আর কোনো খেলোয়াড়ের এত ফাইনাল খেলার অভিজ্ঞতা নেই। কাল রাতে মুঠোফোনে ত্রিনিদাদ থেকে সাকিব বললেন শুধুই ফাইনাল নিয়ে:

* আপনি ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জে যাওয়ার আগে বারবাডোজের শেষ চারে ওঠা নিয়েই ছিল সংশয়। ছয় ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকায় চারে ছিল আপনার দল। আপনি যোগ দেওয়ার পর থেকেই জিততে শুরু করল বার্বাডোজ। এটার রহস্য কী?

সাকিব আল হাসান: (হেসে) রহস্য কিছু না। দল ভালো খেলছে। ভাগ্যের ছোঁয়াও আছে। আসলে দলের সবারই অবদান আছে। এ কারণেই জিতেছে।

* ক্যারিয়ারে আরেকটি ফাইনাল খেলতে যাচ্ছেন। আইপিএলে দুবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন, বিপিএলে দুবার। সিপিএলেও আগে জিতেছেন। আরেকটি ফাইনাল নিয়ে আলাদা স্নায়ুচাপ বা রোমাঞ্চ কাজ করে?

সাকিব: রোমাঞ্চ তো কাজ করেই। চ্যালেঞ্জও থাকে। তবে স্নায়ুচাপ অতটা থাকে না। যেটা বললাম, চ্যালেঞ্জ ও রোমাঞ্চ দুটোই কাজ করে। ফাইনাল খেলাটা সব ফ্র্যাঞ্চাইজির কাছে বিরাট ব্যাপার। সেটার অংশ হতে পারাটা আমার কাছেও অনেক গুরুত্বপূর্ণ। যদি কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারি, সেটি ফ্র্যাঞ্চাইজি, দল বা নিজের জন্যই ভালো। আর এটা এত ভালো একটা টুর্নামেন্ট, এখানে একটা অর্জন থাকলে নিজের কাছেই ভালো লাগবে।

* ফাইনালে আপনাদের প্রতিপক্ষ গায়ানা আমাজন ওয়ারিয়র্স খুব শক্তিশালী। দলটি এই টুর্নামেন্টে কোনো ম্যাচই হারেনি, জিতেছে টানা ১১ ম্যাচ। সেখানে আপনারা ৬ ম্যাচ জিতে ফাইনাল নিশ্চিত করেছেন। শক্তিশালী গায়ানাকে হারাতে কতটা আশাবাদী?

সাকিব: আমার মনে হয় না টি-টোয়েন্টির ইতিহাসে আর কোনো দল একটা টুর্নামেন্ট এভাবে সব ম্যাচ জিতে ফাইনালে উঠেছে! অনেক সময় দেখা যায় পুরো টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত খেলে ফাইনালে ওঠা দলই শিরোপা হারে। আশা করি ফাইনালের এটা কাজে লাগিয়ে ওদের হারাব (হাসি)! গায়ানা আগেও অনেকবার (সিপিএলে সবচেয়ে বেশি চারবার) ফাইনাল খেলেছে এবং প্রতিবারই হেরেছে। ফাইনালে হারার নাম আছে ওদের। যদিও ওরা চাইবে এ ধারায় বদল আনতে। আমরা ওদের কাছে এই টুর্নামেন্টেই তিনবার হেরেছি। আমাদের তাই হারানোর কিছু নেই। মন খুলে খেলতে পারলে আশা করি ভালো কিছু হবে।

* বাংলাদেশের হয়েও পাঁচটা ফাইনাল খেলেছেন আপনি। জাতীয় দল আর অন্য দলের হয়ে ফাইনাল খেলার পার্থক্য কী?

সাকিব: একেবারেই আলাদা। বাংলাদেশ দলের হয়ে ফাইনাল আর অন্য দলের ফাইনাল দুই রকম। ড্রেসিংরুমের পরিবেশ, পরিস্থিতি, চাপ, দর্শক সবকিছুই আলাদা থাকে। অনেক আলাদা।

* ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টিতে যত ফাইনাল খেলছেন সবচেয়ে আনন্দের স্মৃতি হয়েছে কোনটা?

সাকিব: কলকাতায় ২০১২ আইপিএলের আইপিএলটা বেশি আনন্দের মনে হয়েছে। প্রথমবারের মতো এত বড় একটা টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলেছিলাম, ওই ফাইনালটাই বেশি আনন্দদায়ী।

* আর সবচেয়ে দুঃখের ফাইনাল?

সাকিব: সবশেষ বিপিএলের দুটি ফাইনাল, ঢাকা ডায়নামাইটসের হয়ে (২০১৭ বিপিএলের ফাইনালে ঢাকা হারে রংপুরের কাছে, গত বিপিএলে কুমিল্লার কাছে)।

* বাংলাদেশ এবং ফ্র্যাঞ্চাইজি দলের হয়ে যত ফাইনাল খেলেছেন, এর মধ্যে কোন ফাইনালটা ভুলতে পারেন না বা সবচেয়ে কষ্টের ফাইনাল হয়ে আছে?

সাকিব: অবশ্যই ২০১২ এশিয়া কাপের ফাইনাল (পাকিস্তানের কাছে বাংলাদেশ হেরেছিল ২ রানে)।

default-image


* বাংলাদেশের কাছে বেশির ভাগ ফাইনালই আসলে দুঃখের গল্প হয়ে আছে। গত মে মাসে আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনাল জিতে যদিও এই দুঃখে কিছুটা প্রলেপ পড়েছে। একটা কেন, বাংলাদেশ চাইলে আরও বড় বড় শিরোপা জিততে পারত। সেটি না হওয়ার কারণ কী?

সাকিব: (দীর্ঘ একটা শ্বাস ফেলে) এটা বলা মুশকিল। মনস্তাত্ত্বিক বাধা (মেন্টাল ব্লক) বলতে পারেন। আরেকটা কারণ হতে পারে, আমাদের লক্ষ্য যেহেতু ফাইনাল পর্যন্ত থাকে। ফাইনালে ওঠার পর পরের লক্ষ্যটা হারিয়ে যায় (হাসি)। হয়তো মনে করি জিতব, পরে মনের অগোচরে সেটি আর থাকে না। দুটিই হতে পারে। আসলে বলা মুশকিল।

সাকিবের ফাইনাল, ফাইনালের সাকিব:

টুর্নামেন্ট

দল

সাল

ফল

এশিয়া কাপ

বাংলাদেশ

২০১২, ২০১৬

রানার্সআপ

ত্রিদেশীয় সিরিজ

বাংলাদেশ                         

২০০৯

রানার্সআপ

ত্রিদেশীয় সিরিজ

বাংলাদেশ

২০১৮

রানার্সআপ

নিদাহাস ট্রফি

বাংলাদেশ

২০১৮

রানার্সআপ

আইপিএল

কলকাতা

২০১২, ২০১৪

চ্যাম্পিয়ন

আইপিএল

হায়দরাবাদ

২০১৮

রানার্সআপ  

সিপিএল

জ্যামাইকা

২০১৬                           

চ্যাম্পিয়ন

বিপিএল

ঢাকা

২০১৩, ২০১৬

চ্যাম্পিয়ন               

বিপিএল

ঢাকা                          

২০১৭, ২০১৮

রানার্সআপ

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0