বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

পরের বিশ্বকাপেই ছন্দপতন। ২০০৩ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় ওয়ানডে বিশ্বকাপ খেলতে গিয়ে ভয়াবহ সব অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ। কানাডার কাছে হারে শুরু, শেষ হয় কেনিয়ার বিপক্ষে হার দিয়ে। মাঝখানে শ্রীলঙ্কা, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা—এমন দলগুলোর বিপক্ষে স্রেফ উড়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম ওভারেই চামিন্দা ভাসকে হ্যাটট্রিক ‘উপহার’ দিয়েছিলেন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। সবচেয়ে ‘বাজে’ বিশ্বকাপ নিয়ে আলোচনা হলে ২০০৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ স্মৃতিতে আসবেই। এবারের টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সঙ্গে অবশ্য ১৮ বছর আগের সেই বিশ্বকাপের জোর লড়াই হবে।

বিশ্বকাপে অনেক সুখস্মৃতি আছে। সেগুলো সব ওয়ানডে বিশ্বকাপেই। টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ মানেই বাংলাদেশের জন্য বাজে স্মৃতি। অথচ ২০০৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকাতে অনুষ্ঠিত প্রথম টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপটা বাংলাদেশ শুরু করেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দারুণ জয় দিয়ে। অদ্ভুত ব্যাপার, সেই সঙ্গে কষ্টেরও, সেটিই ৬টি টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলে ফেলার পরেও একমাত্র ‘সুখস্মৃতি’ হয়ে রয়েছে বাংলাদেশের। টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে যে কখনোই কোনো স্বীকৃত টেস্ট দলকে হারাতে পারেনি বাংলাদেশ ২০১৪ সালে ঘরের মাঠে আফগানিস্তানকে হারালেও, ৭ বছর আগে আফগানিস্তান ছিল আইসিসির সহযোগী সদস্যই।

default-image

‘সবচেয়ে বিশ্বকাপে’র আলোচনায় এখন পর্যন্ত সব টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পরিসংখ্যান বের করে বিভ্রান্তিতে পড়ে যেতে হয়। ২০০৭ সালের ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে জয়ের পর পরের তিনটি ম্যাচে বাংলাদেশ দক্ষিণ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া ও পাকিস্তানের বিপক্ষে হেরেছিল। এর মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকা আর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে হার ছিল বড় ব্যবধানে। পাকিস্তানের বিপক্ষে কিছুটা লড়াই করা গিয়েছিল।

এরপর ২০০৯ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপও দুঃসহ স্মৃতি হয়ে আছে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে হারের জন্য। ২০১০ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে জিততে জিততেও হার দেখেছিল বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে শুরুতে তাদের চেপে ধরলেও শেষ পর্যন্ত ব্রেট লির হ্যাটট্রিকে বাজেভাবেই হারতে হয়েছিল। ২০১২ সালেও জয়হীন ছিল বাংলাদেশের টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের অভিযাত্রা। প্রথম ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে উড়ে যাওয়ার পর, ভালো ব্যাটিং করেও পাকিস্তানের কাছে হেরেছিল বাংলাদেশ। ২০১৪ সালে ঘরের মাঠে কোয়ালিফায়ারে হংকংয়ের বিপক্ষে হার বাজে স্মৃতি। এরপর সুপার টেনে উঠে সব ম্যাচেই বাজেভাবে হারতে হয়।

default-image

২০১৬ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে বেঙ্গালুরুর সেই ম্যাচ কোনো দিনই ভুলবে না বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা। জয়ের জন্য ৩ বলে ২ রান দরকার—এমন পরিস্থিতিতেও হার সঙ্গী হয়েছিল বাংলাদেশের। সেবারও কোয়ালিফায়ার পেরিয়েই সুপার টেনে পৌঁছতে হয়েছিল বাংলাদেশকে। সুপার টেনের অন্য ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ব্যাটিং ভালো না হলেও বল হাতে লড়েছিল বাংলাদেশ।

এই হলো মোটাদাগে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ইতিহাস। বলার মতো কোনো অর্জন নেই। আছে বেশ কয়েকটি আক্ষেপ। সেই আক্ষেপ, না পাওয়ার বেদনার ইতিহাসটা এবার আরও ভারী হয়েছে—এটা না বললেও চলছে। দুই সংস্করণ মিলিয়ে বাজে বিশ্বকাপের আলোচনায় ২০০৩ বিশ্বকাপ এগিয়ে থাকলেও এবারের পারফরম্যান্স, দলের অবস্থা, খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস হিসেবে ধরলে বলাই যায় টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের ইতিহাসে এই আসর নিয়ে খুব বেশি আলোচনা করতে চাইবেন না ক্রিকেট–পণ্ডিতরা।

default-image

এই বিশ্বকাপে অবশ্য ‘অর্জন’ আছে আমাদের—সেটি ক্রিকেট নিয়ে এক ধরনের ভ্রান্তি থেকে বেরিয়ে, বাস্তবতার জমিনে পা রাখার অর্জন। দুই মাস আগেও যে দেশের ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ডকে সিরিজে হারিয়ে হাওয়ায় ভেসেছে, এবারের বিশ্বকাপ অন্তত সেই ভাসা ভাসা আনন্দকে ভ্রান্ত প্রমাণ করেছে। এবারের টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দেখিয়ে দিয়েছে আপাত চকচকে ক্রিকেট অবকাঠামোর ভেতরটা বড্ড ঘুণে ধরা। ক্রিকেটারদের সামর্থ্যও বেরিয়ে এসেছে এবারের বিশ্বকাপে। এমনকি স্কটল্যান্ড, নামিবিয়ার মতো আইসিসির সহযোগী সদস্য দেশগুলোও দেখিয়ে দিয়েছে কিছু কিছু জায়গায় তাদের সামর্থ্য বাংলাদেশের চেয়ে বেশি।

ইতিহাসের সবচেয়ে বাজে বিশ্বকাপ একদিক দিয়ে আমাদের বড় উপকারই করে গেল!

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন