বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

প্রথম কোয়ালিফায়ারে কাল পৃথ্বী শ-র ৩৪ বলে ৬০ এবং অধিনায়ক ঋষভ পন্তের ৩৫ বলে অপরাজিত ৫১ রানের সৌজন্যে আগে ব্যাট করে ৫ উইকেটে ১৭২ রান করে দিল্লি। জবাবে দ্বিতীয় উইকেটে রুতুরাজ গায়কোয়াড় ও রবিন উথাপ্পার ৭৭ বলে ১১০ রানের জুটিতে দারুণ ছুটছিল চেন্নাই। কিন্তু ৪৪ বলে ৬৩ রান করা উথাপ্পার পর ৫০ বলে ৭০ রান করা রুতুরাজও আউট হয়ে গেলে বিপদে পড়ে যায় তারা।

১৯তম ওভারের প্রথম বলে পঞ্চম ব্যাটসম্যান হিসেবে গায়কোয়াড় ফেরার সময়েও চেন্নাইয়ের দরকার ছিল ১১ বলে ২৩ রান। তখনই ক্রিজে নামেন ধোনি। মুখোমুখি দ্বিতীয় বলে ছক্কা মেরে রানের খাতা খুললেন ৪০ বছর বয়সী চেন্নাই অধিনায়ক। ওই ওভারে ক্রিজে থাকা মঈন আলীর চার মিলিয়ে আসে ১১ রান। শেষ ওভারে তাই চেন্নাইয়ের সামনে সমীকরণ দাঁড়ায়—৬ বলে দরকার ১৩ রান।

কিন্তু টম কারেনের করা শেষ ওভারের প্রথম বলেই প্রমাদ গোনে চেন্নাই। উড়িয়ে মারতে গিয়ে ডিপ স্কয়ার লেগে রাবাদার হাতে ধরা পড়েন মঈন আলী (১৬)। ৫ বলে ১৩ রান দরকার তখন চেন্নাইয়ের। কিন্তু মঈন আলীর ক্যাচের সময়ে ধোনি দৌড়ে স্ট্রাইকে যাওয়াই খেলার ছক বদলে দিল!

দ্বিতীয় বলে কারেনকে এক্সট্রা কাভার দিয়ে সপাটে হাঁকিয়ে বাউন্ডারিছাড়া করেন ধোনি। পরের বলে ভাগ্যও সঙ্গ দিল তাঁকে, বল ধোনির ব্যাটের কানায় লেগে উইকেটের পেছন দিয়ে আবার চার! হঠাৎ সমীকরণটা নেমে গেল ৩ বলে ৫ রানে। টানা দুই চারের ধাক্কায়ই কি না, বাড়তি কিছু করতে গিয়ে পরের বলটা ওয়াইড দিয়ে বসেন কারেন। সমীকরণ আরও সহজ হয়ে গেল ধোনিদের জন্য।

কিন্তু ৩ বলে ৪ রানের সমীকরণটা দুই বল হাতে রেখেই মিলিয়ে দিলেন ধোনি। এবার ডিপ স্কয়ার লেগ দিয়ে চার। ধোনির ৬ বলে ১৮ রানের ইনিংসটাই ফাইনালে তুলে নিয়ে গেল চেন্নাইকে।

default-image

ম্যাচ শেষে ধোনি নিজেই বললেন, ‘ব্যবধান গড়ে দেওয়ার জন্য আমার এমন একটা ইনিংসই দরকার ছিল। দিল্লির বোলিং আক্রমণটা দারুণ। ওরা মাঠ ও পরিস্থিতির সুবিধা দারুণভাবে তুলে নিয়েছে। তাই আগে থেকেই জানতাম রান তাড়া করাটা কঠিন হবে।’

সেই কঠিন কাজটা ধোনি যেভাবে সহজ করে নিয়েছেন, তা দেখে মুগ্ধ কোহলি। আইপিএলে ভারতের বর্তমান অধিনায়কের ফ্র্যাঞ্চাইজি বেঙ্গালুরু আজ প্লে-অফ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে নামবে বাংলাদেশের অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের দল কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিপক্ষে। ‘এলিমিনেটর’ নামের বাঁচা-মরার ম্যাচই এটি, হারলেই বিদায়। সেই ম্যাচের আগে কাল ধোনির ব্যাটিং নিয়ে মুগ্ধতা ঝরল ম্যাচ শেষে কোহলির টুইটে।

‘...এবং রাজা ফিরে এলেন! খেলাটার সবচেয়ে সেরা ফিনিশার। আমাকে আরেকবার চেয়ার ছেড়ে লাফিয়ে উঠতে বাধ্য করলেন’—ধোনিকে নিয়ে উচ্ছ্বসিত প্রশংসা কোহলির।

উত্তেজনায় চেয়ার থেকে লাফিয়ে ওঠার এমন অনুভূতি কাল হয়তো আরও অনেকেরই হয়েছে!

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন