বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

এক মৌসুমে আইপিএলের ইতিহাসে সবচেয়ে বাজে ব্যাটিং গড় ও ওপেনার হিসেবে সবচেয়ে কম স্ট্রাইক রেটের লজ্জাজনক রেকর্ড গড়েছেন এই কিউই অধিনায়ক। অথচ ১৪ কোটির বিনিময়ে দলের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে তাঁকে দলে নেয় হায়দরাবাদ। দেওয়া হয় অধিনায়কত্বের ভার। কিন্তু এর প্রতিদান দিতে পারেননি কিউই ব্যাটসম্যান।

ক্রিকেট অ্যানালিটিকস কোম্পানি ক্রিকভিজ ম্যাচের পরিস্থিতি ও মান বিবেচনায় একজন ব্যাটসম্যানের অবদানের গড় প্রভাব নির্ণয় করে। ক্রিকভিজের সেই গণনায় উইলিয়ামসনের গড় ব্যাটিং প্রভাব ঋণাত্মক ৯। আইপিএলের ১৫ মৌসুমের মধ্যে ন্যূনতম ১০০ বল খেলা যেকোনো ব্যাটসম্যানের জন্য এটি সর্বনিম্ন। মৌসুমে মাত্র ১৯.৯ গড়ে রান করা উইলিয়ামসনের ৯৬.৪০ স্ট্রাইক রেট টি-টোয়েন্টির সঙ্গে মানানসই নয়। আইপিএল ইতিহাসে এক মৌসুমে অন্তত ২০০ বল খেলা ওপেনারদের মধ্যে উইলিয়ামসনের স্ট্রাইক রেটই সবচেয়ে কম।

default-image

দলের সেরা খেলোয়াড়ের এমন বাজে পারফরম্যান্স দলের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। ইনিংস শুরুতে এমন ধীরগতির ব্যাটিং পরবর্তী সময়ে বড় রান সংগ্রহে বাধাগ্রস্ত হয়। বিষয়টি নজর এড়ায়নি হায়দরাবাদ কোচ টম মুডির। তিনি উইলিয়ামসনের ব্যাটিং অর্ডারে পরিবর্তনের কথা ভেবেছিলেন। কিন্তু বেঙ্গালুরুর বিপক্ষে শেষ ম্যাচে কোনো বলের মুখোমুখি না হয়েই রানআউট হওয়া অধিনায়কের পাশেই আছেন মুডি, ‘আমরা তাকে সমর্থন করি। সে একজন বিশ্ব মানের খেলোয়াড়, এতে কোনো প্রশ্ন নেই। সে জানে, টুর্নামেন্টে দল তার কাছে দুর্দান্ত একটা মুহূর্ত আশা করে।’

উইলিয়ামসন নিজেও বিষয়টি অনুধাবন করেন। তাই নিজের ব্যাটিং প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে বলেন, ‘আপনি সব সময় আরও রান চান। আমি অবশ্যই কঠোর পরিশ্রম করছি এবং দলের জন্য একটি ভূমিকা পালন করার চেষ্টা করছি। ধৈর্য ধরে আছি এবং নিজের খেলার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং দলকে এগিয়ে যাওয়ার জন্য অবদান রাখার চেষ্টা করছি।’

default-image

উইলিয়ামসন প্রতিশ্রুতি পালন করতে খুব কমই সময় হাতে পাচ্ছেন। প্লে–অফে পৌঁছাতে সানরাইজার্সের বাকি তিন ম্যাচ জয়ের পাশাপাশি নজর দিতে হবে রানরেটে। উইলিয়ামসন বলেন, ‘এটি আমাদের জন্য বেশ চ্যালেঞ্জিং। আমাদের ব্যাটিং মানসম্পন্ন, তবে একটি দল হিসেবে ভালো করার সুযোগ রয়েছে। এটি এখন দেখার বিষয়। আমাদের উন্নতি করতে হবে। অতিরিক্ত চিন্তা না করে আমাদের (খেলায়) উন্নতি করতে হবে।’

উইলিয়ামসনের মতো এবারের আইপিএলটা দুঃস্বপ্নের মতো কাটছে বিরাট কোহলিরও। আইপিএলের সর্বাধিক রান সংগ্রাহক যেন ব্যাটিংটাই ভুলে গেছেন। ফর্মহীনতায় ভুগছেন আন্তর্জাতিক ম্যাচেও। যেকোনো সংস্করণে সর্বশেষ শতকটাও পেয়েছেন আড়াই বছর আগে। ২০১৯ সালে টেস্টে বাংলাদেশের বিপক্ষে শতকের পরে আর তিন অঙ্ক ছোঁয়া হয়নি বর্তমান সময়ের অন্যতম সেরা এই ব্যাটসম্যানের।

ফর্মে ফিরতে মরিয়া কোহলি নিজেও চেয়েছিলেন আইপিএলের মঞ্চটি কাজে লাগাতে। কিন্তু সেটি যেন আরও বড় ফাঁদ হয়ে এসেছে কোহলির কাছে। ব্যাটিংয়ে মনোনিবেশ করতে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর অধিনায়কত্ব থেকেও সরে দাঁড়ান তিনি।

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন