রাসেল একাই যা লড়লেন।
রাসেল একাই যা লড়লেন। ছবি: আইপিএল

টি–টোয়েন্টির পাওয়ার প্লেতে কত রান তুলতে পারে কোনো দল? পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে এখন দলগুলো হরহামেশাই ৬০–৭০ রান করে তুলছে। কেউ কেউ আরও বেশি। আর সেখানে কিনা আজ আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে ৬ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে মাত্র ৪৫ রান তুলল কলকাতা নাইট রাইডার্স। ১০ ওভার শেষেও অবস্থার বিশেষ পরিবর্তন হয়নি, ২ উইকেটে কলকাতার রান ৭৩। ১৫ ওভার শেষে তা আরও করুণ—৫ উইকেট হারিয়ে ৯৫ রান।

ভাগ্যিস খেলোয়াড়দের পোশাকটা রঙিন ছিল আর খেলা হচ্ছিল সাদা বলে। আর তা না হলে কলকাতার ইনিংসটাকে মাঝেমধ্যে কারও কারও কাছে ম্যাচটাকে টি–টোয়েন্টির বদলে ‘টেস্ট’ও মনে হতে পারত! এমন অবস্থার পরও নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে কলকাতা যে ৬ উইকেটে ১৫৪ রান তুলতে পেরেছে, এতে অবদান আন্দ্রে রাসেলের। ইনিংসের শেষ দিকে একটা ঝড় তুলেছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের অলরাউন্ডার। তাঁর সেই ঝড়েই দিল্লি ক্যাপিটালসের বিপক্ষে লড়াই করার মতো পুঁজি পেয়েছে কলকাতা।

বিজ্ঞাপন

২৭ বলে অপরাজিত ৪৫ রান করেছেন রাসেল। ইনিংসটি খেলার পথে ২টি চার ও ৪টি ছক্কা মেরেছেন তিনি। আজ কলকাতার ইনিংসে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ এটাই। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪৩ রান (৩৮ বলে) করেছেন শুভমান গিল। কলকাতা মূলত ভালো শুরু পায় নীতিশ রানার ব্যাটে। আজ তিনি রান না পাওয়াতেই সমস্যা হয়ে গেছে দলটির জন্য। ইনিংসের চতুর্থ ওভারে তিনি অক্ষর প্যাটেলের বলে উইকেটের পেছনে ঋষভ পন্তের কাছে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন ১৫ রান করে। কলকাতার রান তখন ২৫।

default-image

এরপর রাহুল ত্রিপাঠীকে নিয়ে ধাক্কা সামলানোর চেষ্টা করেন গিল। দুজনে মিলে দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ৪৪ রান তোলেনও। তবে জুটিটি ছিল খুবই শ্লথ। ৪৪ রান তুলতে তাঁরা খেলেছেন ৩৫ বল। কলকাতার ইনিংসে বড় ধাক্কাটা অবশ্য আসে দশম ও একাদশ ওভারে। ৮ বলের মধ্যে ৬ রানের মধ্যে তারা হারিয়ে ফেলে ৩ উইকেট। ১৯ রান করে প্রথমে ফেরেন রাহুল।

এরপর আউট হয়ে ফেরেন অধিনায়ক এউইন মরগান। এক ম্যাচ ভালো খেলার পর আবার তাঁর ব্যাটে রানের খরা। আগের ম্যাচে অপরাজিত ৪৭ রান করে এই নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামেই পাঞ্জাব কিংসের বিপক্ষে কলকাতাকে জিতিয়েছেন মরগান। তবে আজ তিনি আউট হয়েছেন কোনো রান না করেই। কোনো রান না করে আউট হয়েছেন সাকিব আল হাসানের জায়গায় খেলে যাওয়া সুনিল নারাইন।

১৩তম ওভারে আউট হয়ে ফেরেন গিলও। এরপর কলকাতাকে একাই টানেন রাসেল। অপরাজিত ৪৫ রান করার পথে ষষ্ঠ উইকেটে দিনেশ কার্তিককে নিয়ে ২০ বলে ২৭ আর সপ্তম উইকেটে প্যাট কামিন্সকে নিয়ে গড়েছেন ২৩ বলে অবিচ্ছিন্ন ৪৫ রানের জুটি। শেষ ৫ ওভারে কলকাতা তুলতে পেরেছে ৫৯ রান।

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন