আন্দ্রে রাসেল ব্যাট হাতে কিছু করতে পারেননি কাল।
আন্দ্রে রাসেল ব্যাট হাতে কিছু করতে পারেননি কাল। ছবি: আইপিএল

মুম্বাই ইন্ডিয়ানসকে সামনে পেলেই কি তবে সব তালগোল পাকিয়ে ফেলে কলকাতা নাইট রাইডার্স? এখন সেটা মনে হতেই পারে, পরিসংখ্যানও সেই সাক্ষ্যই দিচ্ছে। আইপিএলে এখন পর্যন্ত মুম্বাইয়ের বিপক্ষে ২৮টি ম্যাচ খেলেছে কলকাতা। জিতেছে মাত্র ৬টি, হার বাকি ২২ ম্যাচে!

এমনিতেই খেলাটা টি-টোয়েন্টি, তার ওপর কাগজে-কলমে শক্তিতেও দুই দলের মধ্যে কখনোই খুব বিশাল ব্যবধান ছিল না বা নেই। এরপরও মুখোমুখি লড়াইয়ের পরিসংখ্যান যখন এমন একতরফা, তখন প্রশ্ন জাগতেই পারে, ব্যাপারটা মানসিক নয় তো?

বিশেষ করে গত রাতের ম্যাচটার পর তো এই প্রশ্ন আরও বেশি করে উঠতে বাধ্য। এমন অবস্থানে ছিল কলকাতা, যেখান থেকে টি-টোয়েন্টিতে জয় ছাড়া অন্য কিছু ভাবা রীতিমতো ফৌজদারি অপরাধ হতে পারে, সেই ম্যাচ তারা হেরে এসেছে ১০ রানে!

default-image

হারের দায়টা ব্যাট হাতে তান্ডব তোলার জন্য খ্যাতি পাওয়া কলকাতার দুই ব্যাটসম্যান আন্দ্রে রাসেল আর দীনেশ কার্তিকের ওপর দিচ্ছেন ভারতের সাবেক ওপেনার বীরেন্দর শেবাগ।

বিজ্ঞাপন

মুম্বাইকে ১৫২ রানে অলআউট করে দিয়ে তাড়া করতে নেমে একটা পর্যায়ে কলকাতার রান ছিল ৩ উইকেটে ১২২। ৩১ বলে তখন ৩১ রান দরকার। উইকেটে থিতু হয়ে যাওয়া ব্যাটসম্যান নীতিশ রানা, সঙ্গে অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। কিন্তু ১৫তম ওভারের শেষ বলে রানা আউট হয়ে যান ৪৭ বলে ৫৭ রান করে। তারপরই মড়ক লাগে। পরের ওভারেই সাকিব আউট। সব দায়িত্ব তখন দিনেশ কার্তিক ও আন্দ্রে রাসেলের কাঁধে। ম্যাচ তখনো হাতের মুঠোয়।

default-image

এমন অবস্থায় যেকোনো দল চাইবে, যত তাড়াতাড়ি পারা যায় ম্যাচ শেষ করে রানরেট বাড়িয়ে রাখতে। কিন্তু রাসেল ও কার্তিকের শুরু দেখে মনে হলো যেন টি-টোয়েন্টি নয়, টেস্ট খেলতে নেমেছিলেন। ফলাফল, শেষ ওভারে গিয়ে কলকাতার দরকার হয়ে গেল ১৫ রান। কার্তিকের নামের পাশে তখন ১০ বলে ৭ রান, রাসেলের ১৩ বলে ৮! শেষ ৫ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে কিনা মাত্র ২০ রান তুলেছে কলকাতা!

ম্যাচের ওই পরিস্থিতিতে দুজনের এমন ব্যাটিং দেখে যারপরনাই হতাশ সাবেক ভারতীয় ওপেনার বীরেন্দর শেবাগ, ‘প্রথম ম্যাচের পর এউইন মরগান (কলকাতার অধিনায়ক) বলেছিল, তারা ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে সব ম্যাচ খেলবে। কিন্তু আন্দ্রে রাসেল ও দিনেশ কার্তিক যখন ব্যাট করছিল, দেখে এ রকম কিছু মনে হয়নি।’

দুবার জীবন পেয়ে রাসেল শেষ পর্যন্ত ইনিংসের শেষ ওভারের তৃতীয় বলে আউট হয়েছেন ১৫ বলে ৯ রান করে। এর মধ্যে ৪ রান এসেছে ফ্রি হিট থেকে। ১১ বলে ৯ রান করে কার্তিক অপরাজিত থেকে গেছেন, অথচ তাঁর দল হেরেছে।

কলকাতার হারের দায় মূলত এ দুজনের ওপরই চাপিয়েছেন শেবাগ, ‘যেভাবে ওরা ব্যাট করছিল, দেখে মনে হয়েছে ওরা শেষ পর্যন্ত দেখেশুনে খেলে ম্যাচটা জিততে চায়। কিন্তু আদতে সেটা হয়নি। অথচ এর আগে যারা ব্যাট করে গেছে, সাকিব, মরগান, শুবমান গিল কিংবা রানা, সবাই কিন্তু ইতিবাচক মানসিকতা নিয়েই খেলেছে। আমরা দেখলাম, একটা প্রায় জেতা ম্যাচ কীভাবে হেরে আসতে হয়।’

default-image

এই হারের জন্য কলকাতাকে টুর্নামেন্টে কড়া মাশুল দিতে হতে পারে বলেও মনে করেন শেবাগ, ‘১৫২ রান তাড়া করতে নেমে আপনার ৬ ওভারে ৩৬-এর মতো রান দরকার, হাতে ৬–৭ উইকেট, এমন সুযোগ তো আর প্রতিদিন আসবে না। এসব পরিস্থিতিতে দলগুলো চায় রানরেট বাড়িয়ে নিতে। কলকাতা সেটা করতে তো ব্যর্থ হয়েছেই, নিজেদের রানরেটও ক্ষতিগ্রস্ত করল।’

কলকাতার অধিনায়ক এউইন মরগান অবশ্য এমন বাজে ব্যাটিংয়ের জন্য দায় দিয়েছেন উইকেটের। তাঁর দাবি, চেন্নাইয়ের চিদাম্বরম স্টেডিয়ামে নাকি পরে ব্যাট করা খুব কঠিন ছিল!

বিজ্ঞাপন
ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন