বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

রেকর্ড একটা রিজওয়ানও অবশ্য গড়েছেন। বাবরের রেকর্ডের চেয়ে সে রেকর্ডও কোনো অংশে কম আলোচনার মতো নয়। প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এক বছরে ১০০০ রানের মাইলফলক ছুঁয়েছেন রিজওয়ান। তবে এসব রেকর্ডটেকর্ড তো ইতিহাসের বই মনে রাখবে, পাকিস্তানের মানুষের মনে গেঁথে থাকবে রিজওয়ানের দারুণ ব্যাটিং।

শুরুতে খুব একটা স্বস্তিতে ছিলেন না রিজওয়ান। মিচেল স্টার্কের প্রথম ওভারেই তাঁর অস্বস্তি ধরা পড়েছে। এরপর তৃতীয় ওভারে গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের বলে ব্যক্তিগত ০ রানেই ক্যাচ দিয়েছিলেন রিজওয়ান। কিন্তু মিড অফ থেকে অনেকটা পেছনে দৌড়ে গিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েও সে ক্যাচ ধরতে পারেননি ডেভিড ওয়ার্নার, উল্টো চার হয়ে গেছে।

ম্যাচের শুরুতেই সেটিকে যদি ভাগ্যের রিজওয়ানের পাশে থাকার ইঙ্গিত বিশ্বাস না করে থাকেন, সে ক্ষেত্রে পাওয়ারপ্লের শেষ বলে বিশ্বাস মনে গেঁথে যাওয়ারই কথা। প্যাট কামিন্সের বলে ফাইন লেগে রিজওয়ানের ক্যাচটা দুরূহই ছিল, অ্যাডাম জাম্পা ক্যাচটা ধরে ফেললে টুর্নামেন্টের সেরা ক্যাচগুলোর একটিই হতো। কিন্তু ক্যাচটা হলো না। রিজওয়ানের রান তখন ১৭ বলে ২০।

default-image

রিজওয়ানের অস্বস্তিতে থাকার সময়টুকুতে বাবর আজম টেনে নিচ্ছিলেন পাকিস্তানকে। তাতে পাওয়ারপ্লের ৬ ওভার শেষে পাকিস্তানের রান হলো বিনা উইকেটে ৪৭—এবারের বিশ্বকাপে পাকিস্তানের সর্বোচ্চ। বাবরের রান তখন ১৮ বলে ২৪। ততক্ষণে বাবরের চার হয়ে গেছে চারটি। রিজওয়ানের চার দুটি, ছক্কা একটি।

তবে পাওয়ারপ্লের শুরুতে এলোমেলো অস্ট্রেলিয়া পাওয়ারপ্লের শেষ দিক থেকে বাউন্ডারিতে রাশ টানার চেষ্টা করেছে। তার ফলেই দশম ওভারে এল উইকেট। ষষ্ঠ ওভারের চতুর্থ বল থেকে শুরু করে দশম ওভারের শেষ বলে বাবর আউট হওয়ার আগ পর্যন্ত জাম্পা, ম্যাক্সওয়েল, মিচেল মার্শরা মিলে চার দিয়েছেন মাত্র একটি। সেই চাপেই ছক্কা মারতে গিয়ে জাম্পার করা দশম ওভারের শেষ বলে লং অনে ধরা পড়লেন বাবর। পাকিস্তানের রান তখন ৭১।

সেখান থেকেই দায়িত্বটা নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন রিজওয়ান। তাঁকে ইনিংসের শুরুতে ভোগানো স্টার্কের করা আঠারোতম ওভারের দ্বিতীয় বলেই শেষ পর্যন্ত আউট হয়েছেন রিজওয়ান, যা অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চের বোলিং বদল নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। প্রথম ওভার করানোর পর আবার কেন স্টার্ককে বোলিংয়ে আনেননি ফিঞ্চ, সেটিই প্রশ্ন! তা যা-ই হোক, রিজওয়ানের ইনিংসের মাহাত্ম্য তাতে একটুও কমছে না।

default-image

বাবর আউট হওয়ার পর একদিকে রান তোলার দায়িত্ব ছিল, অন্য প্রান্তে তিনে নামা ফখর জামানের ছন্দ খুঁজে পেতে বেশ সময় লাগছিল। রিজওয়ান সামলে নিয়েছেন সবকিছুই। ১৩তম ওভারে স্টার্কেরই বল তাঁর হেলমেটে লেগেছে, হেলমেটের স্টিলের ধাক্কায় গাল ফুলেও গেছে তাঁর, কিন্তু রিজওয়ান সামলে নিয়েছেন সেটিও। সামলে নিয়েই কী দারুণ খেললেন। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে অ্যাডাম জাম্পা অসাধারণ বোলিং করেছেন, স্টার্ককে খেলতে কিছুটা সমস্যায় পড়ছিলেন রিজওয়ান...কিন্তু এর বাইরে কাউকেই ছাড় দেননি রিজওয়ান।

তবে আঠারোতম ওভারে রিজওয়ান আউট হলেও এরপর ফখর দেখা দিয়েছেন পাকিস্তানের ত্রাতা হয়ে। এক প্রান্তে আসিফ আলী, শোয়েব মালিকরা দ্রুত ফিরেছেন, অন্যদিকে ফখর তুলেছেন ঝড়। স্টার্ককে উড়িয়ে মেরেছেন অনায়াসে, ছাড় দেননি কামিন্সদেরও। নিজের ইনিংসের ১৮তম বলে ছক্কা মেরে ছন্দ খুঁজে পাওয়া ফখর–ঝড়টা স্টার্কের ওপরই বেশি তুলেছেন। তাঁর চার ছক্কার তিনটিই স্টার্কের বলে, চারও মেরেছেন একটি।

ফখরের কারণেই শেষ দিকে ঝড় তুলেছে পাকিস্তান। ১৯তম ওভারে প্যাট কামিন্স মাত্র ৩ রান দিয়েছেন, তবু শেষ ৪ ওভারে ৫৪ রান তুলেছে পাকিস্তান।

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন