বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

এ বছর টি–টোয়েন্টিতে অসাধারণ সব কীর্তি আছে মনোনীত চার ক্রিকেটারেরই। সময়ের চাকায় একটু পেছনে তাকিয়ে দেখে আসা যাক তাঁদের সেই কীর্তিগুলো।

মোহাম্মদ রিজওয়ান

বছরটি যেমন কেটেছে

৭৩.৬৬ গড়ে ২৯ ম্যাচে একটি শতকসহ ১৩২৬ রান, ২৪টি ডিসমিসাল। এ পরিসংখ্যানে চোখ রাখলেই স্পষ্ট হয় টি–টোয়েন্টি ক্রিকেটের এ বছরে রাজত্ব করেছেন পাকিস্তানের উইকেটকিপার–ব্যাটসম্যান। ব্যাট হাতে রানের ফোয়ারা যেমন ছুটিয়েছেন, উইকেটের পেছনে গ্লাভস হাতে তিনি ছিলেন দুর্দান্ত। এ বছরের টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে সেমিফাইনালে তুলতে রেখেছেন অসাধারণ ভূমিকা। টুর্নামেন্টের তৃতীয় সেরা রান সংগ্রাহকও ছিলেন তিনি।

বছরের শুরুর দিকে লাহোরে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে করেছেন শতক, যেটি তাঁর টি–টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের প্রথম শতক। ১৬ ডিসেম্বর করাচিতে বছরে তাঁর শেষ টি–টোয়েন্টি ম্যাচেও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে খেলেছেন ৮৭ রানের অসাধারণ এক ইনিংস।

স্মরণীয় পারফরম্যান্স

কাগজ-কলমের হিসাবে টি–টোয়েন্টি ক্রিকেটে ১৫২ রান তাড়া করা খুব বড় কিছু নয়। তবে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে পাকিস্তানের লড়াইয়ের ইতিহাস খুব একটা সুখকর নয়। অন্যদিকে প্রতিপক্ষের বোলিং আক্রমণে ছিলেন সময়ের অন্যতম সেরা দুই ফাস্ট বোলার যশপ্রীত বুমরা ও মোহাম্মদ শামি। এবারের টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে তাই ভারতের বিপক্ষে ১৫২ রান তাড়া করাটা খুব একটা সহজ ছিল না। তবে অধিনায়ক বাবর আজমকে সঙ্গে নিয়ে দুর্দান্ত এক উদ্বোধনী জুটি গড়লেন রিজওয়ান। কোনো উইকেট না হারিয়েই পাকিস্তানকে লক্ষ্যে পৌঁছে দিয়ে এনে দিলেন অবিস্মরণীয় এক জয়। সেই ম্যাচে রিজওয়ান ৫৫ বলে খেলেছিলেন অপরাজিত ৭৯ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস। ইনিংসটি খেলার পথে ছয়টি চারের পাশাপাশি তিনি মেরেছেন তিনটি ছয়।

default-image

ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা

বছরটা যেমন কেটেছে

২০ ম্যাচে ১১.৬৩ গড়ে নিয়েছেন ৩৬ উইকেট। ব্যাট হাতে একটি অর্ধশতকসহ ১৯৬ রান। সব মিলিয়ে হাসারাঙ্গার জন্য এটি ছিল পাদপ্রদীপের আলোয় আসার বছর। এ বছরই তিনি নিজেকে ছোট সংস্করণের অন্যতম সেরা স্পিনার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছেন। একই সঙ্গে দেখিয়েছেন দলের প্রয়োজনে ব্যাট হাতেও অনেক কিছুই করতে পারেন। বছরজুড়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স করে গেছেন শ্রীলঙ্কার স্পিনার।
হাসারাঙ্গা বেশি জ্বলজ্বলে ছিলেন টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে। ১৬ উইকেট নিয়ে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি হয়েছেন। ব্যাট হাতেও উপহার দিয়েছেন দারুণ কিছু ইনিংস, যার মধ্যে একটি আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ৪৭ বলে ৭১ রানের।

স্মরণীয় পারফরম্যান্স

টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে শারজায় দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ব্যাট হাতে তেমন কিছু করতে পারেননি হাসারাঙ্গা। দলের ১৪২ রানে তাঁর অবদান মাত্র ৪ রান। কিন্তু বল হাতে জ্বলে উঠেছিলেন শ্রীলঙ্কান স্পিনার। তীব্র চাপের মুখে অসাধারণ লড়াই করেছেন। টানা তিন বলে এইডেন মার্করাম, টেম্বা বাভুমা ও ডোয়াইন প্রিটোরিয়াসকে তুলে নিয়ে করেছেন হ্যাটট্রিক। চার ওভারের স্পেলে হাসারাঙ্গা ২০ রানে ৩ উইকেট নিলেও শেষ পর্যন্ত অবশ্য ম্যাচটি জিততে পারেনি শ্রীলঙ্কা।

default-image

মিচেল মার্শ

বছরটি যেমন কেটেছে

২৭ ম্যাচে ৩৬.৮৮ গড়ে ৬২৭ রান এবং ১৮.৩৭ গড়ে ৮ উইকেট। অনেকেই মনে করেন, টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম শিরোপা জয়ের রহস্য লুকিয়ে আছে ব্যাটিং অর্ডারে মার্শকে ওপরে উঠিয়ে আনার মধ্যে। টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে যে পাঁচটি সিরিজে হেরেছিল অস্ট্রেলিয়া, সেই পাঁচ সিরিজে তিন নম্বরে মার্শের ব্যাটিং দেখেই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে মার্শকে তিন নম্বরে নিয়ে আসেন কোচ জাস্টিন ল্যাঙ্গার। শেষ পর্যন্ত টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ৬ ম্যাচে ৬১.৬৬ গড়ে ১৮৫ রান করেছেন মার্শ। স্ট্রাইক রেটও ছিল খুব ভালো, ১৪৬.৮২। তবে শুধু বিশ্বকাপেই নয়, মার্শ ধারাবাহিক ছিলেন বছরজুড়েই।

স্মরণীয় পারফরম্যান্স

বছরের সেরা পারফরম্যান্সটা হয়তো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের জন্যই জমিয়ে রেখেছিলেন মার্শ। টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ জিততে ১৭৩ রান করতে হতো অস্ট্রেলিয়াকে। রান তাড়া করতে নেমে অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চ দ্রুতই আউট হয়ে যাওয়ায় চাপের মুখে পড়তে পারত অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু ৫০ বলে অপরাজিত ৭৭ রানের ইনিংসে চাপকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে মার্শ ম্যাচ জেতান অস্ট্রেলিয়াকে। টি–টোয়েন্টিতে ক্যারিয়ারসেরা ইনিংস খেলে ফাইনালের ম্যাচসেরার পুরস্কারও জেতেন তিনি।

default-image

জস বাটলার

বছরটা যেমন কেটেছে

১৪ ম্যাচে ৬৫.৪৪ গড়ে ৫৮৯ রান এবং ১৩টি ডিসমিসাল। বছরটা দুর্দান্তভাবে শুরু করেন বাটলার। ভারতের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের টি–টোয়েন্টি সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে ৫২ বলে অপরাজিত ৮২ এবং পঞ্চম ম্যাচে ৩৪ বলে ৫২—এমন দুটি ইনিংস খেলে এ বছরে টি–টোয়েন্টি শুরু করেন তিনি। টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও সমানতালে চলেছে তাঁর ব্যাট। তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা দুটি ইনিংস খেলেছেন টানা দুই ম্যাচে। প্রথমটি সুপার টুয়েলভে চির প্রতিদ্বন্দ্বী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে, ৩২ বলে করেছিলেন অপরাজিত ৭১ রান। শারজায় পরের ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলেছেন ৬৭ বলে অপরাজিত ১০১ রানের ইনিংস।

স্মরণীয় পারফরম্যান্স

এবারের টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম শতকটি করেন বাটলার। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সেই ম্যাচে যেন ব্যাটিংয়ের সব সৌন্দর্য মেলে ধরেছিলেন তিনি। মাঠের এমন কোনো দিক ছিল না, যেখান দিয়ে বাটলার বল সীমানা পার করাননি। শারজার শ্লথগতি আর নিচু বাউন্সের উইকেটে তাঁর অসাধারণ ওই ইনিংসে ভর করেই ইংল্যান্ড ৪ উইকেটে ১৬৩ রান তুলতে পারে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচটি তারা জিতেছে ২৬ রানে।

default-image

টি–টোয়েন্টি ক্রিকেটের আগে টেস্টের চার মনোনীত ক্রিকেটারের নাম ঘোষণা করেছে আইসিসি। বর্ষসেরা টেস্ট খেলোয়াড়ের পুরস্কার জয়ের লড়াইয়ে থাকা সেই চার খেলোয়াড় ইংল্যান্ডের অধিনায়ক জো রুট, নিউজিল্যান্ডের অলরাউন্ডার কাইল জেমিসন, শ্রীলঙ্কার ব্যাটসম্যান দিমুথ করুনারত্নে ও ভারতের অফ স্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিন।

যেভাবে নির্বাচন করা হবে বর্ষসেরা ক্রিকেটার

বিশ্বজোড়া নির্বাচিত ক্রীড়া সাংবাদিক এবং ধারাভাষ্যকারদের নিয়ে গড়া ‘ভোটিং একাডেমি’ মনোনীত চারজনের মধ্যে তাঁদের সেরা তিন বেছে নেবেন। প্রথম সেরা, দ্বিতীয় সেরা ও তৃতীয় সেরা—এভাবে তিনটি ভোট দেবেন তাঁরা। আইসিসির ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ভোট দিতে পারবেন বিশ্বজোড়া ক্রিকেটপ্রেমীরাও।

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন