বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

২৫ জানুয়ারি ১৯৯১। সেবার অ্যাডিলেড ওভালে অ্যাশেজের চতুর্থ টেস্টে গ্রাহাম গুচের ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হয় অ্যালান বোর্ডারের অস্ট্রেলিয়া। মার্ক ওয়াহ ও ডেভিড বুনের শতক, ক্রেগ ম্যাকডরম্যাট এবং ব্রুস রিডের ধ্বংসযজ্ঞে অস্ট্রেলিয়া এগিয়ে থাকলেও ম্যাচের চতুর্থ ইনিংসে গিয়ে বুক চিতিয়ে লড়াই করে ইংল্যান্ড।

৪৭২ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে ৫ উইকেটে ৩৩৫ রানে পঞ্চম ও শেষ দিনের খেলা শেষ করে ম্যাচ ড্র করে ইংল্যান্ড। অ্যাডিলেডে ইংল্যান্ড–অস্ট্রেলিয়ার সর্বশেষ ড্র ম্যাচ।

বর্তমান ইংল্যান্ড অধিনায়ক জো রুটের বয়স তখন মাত্র এক মাস। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে শতকের শতক রেকর্ড গড়া শচীন টেন্ডুলকারের ঝুলিতে তখন মাত্র একটি শতক—১৯৯০ ম্যানচেস্টার টেস্টে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। টেস্টে সর্বোচ্চ রানের মালিক তখনো সুনীল গাভাস্কার।

অ্যাডিলেডে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যে সেই ড্রয়ের আগপর্যন্ত পাকিস্তান বিশ্বকাপ জয় করেনি। দক্ষিণ আফ্রিকার তো বিশ্বকাপ খেলাই হয়নি। ইংল্যান্ড ওপেনার হাসিব হামিদের তখনো পৃথিবীর আলো দেখতে সাত বছর বাকি। আরেক ওপেনার ররি বার্নসের বয়স প্রায় দেড় মাস।

অলরাউন্ডার বেন স্টোকস জন্মেছেন আরও প্রায় পাঁচ মাস পর। জস বাটলার ও ক্রিস ওকসরাও এক–দেড় বছর বয়সী। শুধু জেমস অ্যান্ডারসনেরই সে টেস্টের স্মৃতি থাকতে পারে। টেস্ট ক্রিকেটের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি পেসারের বয়স তখন ৯ ছুঁই ছুঁই।

গুচ–আথারটনদের বুক চিতিয়ে ড্র করা সেই টেস্টের পর অ্যাডিলেডে আরও ৮টি টেস্ট খেলেছে ইংল্যান্ড–অস্ট্রেলিয়া। ইংল্যান্ড জিতেছে দুবার, বাকি ছয়বারই অস্ট্রেলিয়া। শুধু রানের দিক থেকে এ সময়ে আজকের ম্যাচটি সবচেয়ে বড় ব্যবধানে জয়ের নজির। ৩০ বছর আগের সেই টেস্ট থেকে প্রেরণা নিতে পারলে ইংল্যান্ড কি আজ অ্যাডিলেডের ধারা পাল্টে দিতে পারত?

চতুর্থ ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে বিনা উইকেটে ১৯ রান নিয়ে চতুর্থ দিনের খেলা শেষ করেন ইংল্যান্ডের দুই ওপেনার গুচ–আথারটন। শেষ দিনে রিড–ম্যাকডরম্যাট–ম্যাথুজ–হিউজদের বিপক্ষে দুজন জমে যান উইকেটে। গুচ খেলেন ১১৭ রানের ইনিংস, ৮৭ রান করেন আথারটন।

তিনে নামা অ্যালান ল্যাম্ব করেন ৫৩। চতুর্থ ইনিংসে ৯৬ ওভার ব্যাট করে ম্যাচ ড্র করেছিল ইংল্যান্ড। এবার ১১৩.১ ওভার ব্যাট করেও ম্যাচ বাঁচাতে পারল না রুটের দল।

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন