default-image

কৃষি সংস্কারসংক্রান্ত এক আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছেন ভারতের কৃষকেরা। গত বছরে শুরু হওয়া সে আন্দোলন চলছে এখনো। লাখ লাখ কৃষক দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে রাজধানী দিল্লি অভিমুখে যাত্রা করেছেন। পুলিশের ব্যারিকেড, কাঁদানে গ্যাস, লাঠিপেটা—উপেক্ষা করেছেন প্রায় সবকিছুই। সে আন্দোলন অবশেষে দেশের বাইরেও আঁচ ফেলছে। রিয়ানার মতো তারকাও এ নিয়ে কয়েক দিনে আগে কথা বলেছেন।

ভারতীয় তারকারাও তাই নড়েচড়ে বসতে বাধ্য হয়েছেন। বিদেশিদের চোখে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে দেখে দলে দলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাজির হয়েছেন। সবাইকে একজোট হয়ে ভারতের সমস্যা ভারতই সমাধান করতে পারবে, বাইরের কথায় কান দেওয়া ঠিক হবে না—এমন টুইটে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। শচীন টেন্ডুলকার, শিখর ধাওয়ান থেকে শুরু করে বলিউডের অজয় দেবগন, অক্ষয় কুমার ও লতা মঙ্গেশকররা টুইট করেছেন। সে পথে হেঁটেছিলেন রোহিত শর্মাও।

কিন্তু বলিউড অভিনেত্রী কঙ্গনা রনৌতের কেন যেন রোহিতের টুইটটাই বেশি অপছন্দ হলো। সে টুইটের জবাবে কৃষকদের অপমান করেছেন, গালি দিয়েছেন ক্রিকেটারদেরও। এমনই সে ভাষা যে টুইটটাই মুছে ফেলতে বাধ্য হয়েছে টুইটার!

বিজ্ঞাপন

টুইটারে অন্য তারকাদের পায়ে পা দিয়ে ঝগড়া করায় খ্যাতি আছে কঙ্গনার। যেকোনো বিষয়ে একদম আগ্রাসী না হয়ে কিছু বলতে পারেন না। এর আগেও অনেকবারই আলটপকা কথা বলে বিপাকে পড়েছেন। তবে রোহিতের বেলায় যে সমস্যা হয়েছে, এমনটা কখনো হয়নি।

রোহিত বর্তমান কৃষক আন্দোলনের সমাধান খুঁজতে চেয়েছিলেন। টুইটে লিখেছিলেন, ‘যখন আমরা সবাই একজোট হয়েছি, তখনই ভারত সবচেয়ে শক্তিশালী ছিল। এখনই সময় একটা সমাধান বের করার। দেশকে ভালো রাখার পেছনে খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন কৃষকেরা। আমি নিশ্চিত, সবাই যার যার জায়গা থেকে কাজ করবেন সবাই মিলে একটা সমাধান বের করার জন্য।’

default-image

খুব সাধারণ একটা টুইট। ভিনদেশি তারকাদের ভারতের নিজস্ব সমস্যা নিয়ে আচমকা আগ্রহ প্রকাশ করায় সব তারকা চেষ্টা করছেন দেশের ভাবমূর্তি সমুজ্জ্বল রাখতে। এ কারণে কৃষি আইন সম্পর্কিত সবাইকে দ্রুত একটা সমাধান খুঁজে নিতে বলা হয়েছে। কিন্তু বিজেপিপন্থী কঙ্গনার সেটা পছন্দ হয়নি। তাঁর দাবি, এমন নিরপেক্ষ টুইট করার কোনো মানে হয় না। সরাসরি তাঁর মতো পক্ষ নিতে বলেছেন।

সেটা জানাতে খুব কদর্য ভাষা ব্যবহার করেছেন বলিউডের এই অভিনেত্রী, ‘এই ক্রিকেটারদের ধোবিঘাটের কুকুরের মতো মনে হচ্ছে কেন? এদিকেও নেই, ওদিকেও নেই। ভালোর জন্য করা আইনের বিরুদ্ধে কেন যাবে কৃষকেরা। এরা সবাই (আন্দোলনকারীরা) সন্ত্রাসী, গোলমাল করছে। এটাই বল না! ...এত ভয় লাগে বলতে?’
কঙ্গনার এমন টুইট খুব বেশিক্ষণ অবশ্য টেকেনি। টুইটার কর্তৃপক্ষ দ্রুত সেটা মুছে ফেলছে। সে সঙ্গে বিবৃতিতে বলেছে, ‘টুইটারের নিয়ম ভাঙে, এমন টুইটের বিরুদ্ধে আমাদের ক্ষমতা অনুযায়ী ব্যবস্থা নিয়েছি।’

বিজ্ঞাপন
ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন