কোহলি ও ডি ভিলিয়ার্স।
কোহলি ও ডি ভিলিয়ার্স। ছবি: আইপিএল

বিরাট কোহলির ক্যারিয়ারে তেমন অতৃপ্তি কি কিছু আছে?

ক্যারিয়ারের শুরুর দিকেই বিশ্বকাপ জিতে ফেলেছেন, জিতেছেন চ্যাম্পিয়নস ট্রফিও। বর্তমান বিশ্বের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান মানা হয় তাঁকে। যে গতিতে এগোচ্ছেন, কিছুদিনের মধ্যে শচীন টেন্ডুলকারকে সরিয়ে ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি রান সংগ্রাহক ও সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরিয়ান হয়ে যাবেন। গত দশকের শেষ দিকে যখন জাতীয় দলে জায়গা পাওয়ার জন্য লড়তেন, মোটামুটি এক যুগ পরই ক্রিকেটার হিসেবে এত কিছু অর্জন করবেন, কখনো কি ভেবেছিলেন কোহলি? হয়তো না।

তবে এত কিছু সত্ত্বেও কোহলিকে যন্ত্রণা দেয় একটা রেকর্ড। এখনো একবারের জন্যও আইপিএলের শিরোপার স্বাদ যে পাওয়া হয়নি তাঁর! সমসাময়িক রোহিত শর্মা, গৌতম গম্ভীর, যশপ্রীত বুমরা, শিখর ধাওয়ান, মহেন্দ্র সিং ধোনি, রবীন্দ্র জাদেজা - সবাই একবার না একবার শিরোপা জিতেছেন। কোহলিই এক কপালপোড়া যেন।

সারা জীবন এক ফ্র্যাঞ্চাইজিতেই খেলে যাওয়া কোহলির এই অতৃপ্তি ঘোচাতে বছরের পর বছর ধরে তারকা খেলোয়াড়দের দলে এনে চমক জাগায় বেঙ্গালুরু। বেশি দামে খেলোয়াড় কিনে সবাইকে নড়েচড়ে বসতে বাধ্য করায়। শেষমেশ দলে পর্যাপ্ত পরিমাণ রসায়নের অনুপস্থিতি খালি হাতে ফেরায় কোহলিদের।

বিজ্ঞাপন

এবারও তার ব্যতিক্রম নয়। আকাশছোঁয়া দামে বেশ কিছু খেলোয়াড় এনে অন্তত মাঠের বাইরে নিলামের টেবিলের লড়াইয়ে নিজেদের শক্তি আরেকবার দেখিয়েছে ফ্র্যাঞ্চাইজিটা। কিন্তু মাঠের বাইরের এই শক্তি মাঠের ভেতরে অনূদিত হবে তো? নিজেদের প্রথম আইপিএল শিরোপার সন্ধানে থাকা রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর খুঁটিনাটি সম্পর্কে জেনে নিন!

default-image

সম্পূর্ণ স্কোয়াড

ব্যাটসম্যান: বিরাট কোহলি, ফিন অ্যালেন, দেবদূত পাডিকাল, রজত পতিদার, শচীন বেবি, সুযশ প্রভুদেশাই

পেসার: কাইল জেমিসন, মোহাম্মদ সিরাজ, কেন রিচার্ডসন, নবদ্বীপ সাইনি, ড্যানিয়েল স্যামস

স্পিনার: অ্যাডাম জাম্পা, যুজবেন্দ্র চাহাল

অলরাউন্ডার: গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, ড্যান ক্রিস্টিয়ান, ওয়াশিংটন সুন্দর, হর্ষল প্যাটেল, শাহবাজ আহমেদ, পবন দেশপাণ্ডে

উইকেটকিপার: এবিডি ভিলিয়ার্স, মোহাম্মদ আজহারউদ্দিন, শ্রীকর ভারত

শক্তি

যে দলে বিরাট কোহলি ও এবিডি ভিলিয়ার্সের মতো দুজন আধুনিকতম ব্যাটসম্যান আছেন, সে দলের শক্তির সবচেয়ে বড় জায়গা কোনটা, সেটা না বিশ্লেষণ করলেও চলছে। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর ব্যাটিং লাইনআপ এই দুজনের কারণেই প্রচণ্ড শক্তিশালী। ওপেনার হিসেবে গতবার দেবদূত পাডিকাল আলো ছড়িয়েছেন, হয়েছেন টুর্নামেন্টের সেরা উদীয়মান তারকা। এবার তাঁর সঙ্গে কোহলি নিয়মিত ওপেন করবেন বলে জানা গেছে।

default-image

এর আগে কোহলি যে আইপিএল মৌসুমে ওপেন করেছিলেন, হাজারের কাছাকাছি রান করেছেন। ফলে রাজস্থান কিংবা কলকাতার মতো বেঙ্গালুরুর ওপেনিং জুটি নিয়ে চিন্তা নেই এবার।

টপ অর্ডারে খেলানোর জন্য এবার নিউজিল্যান্ডের ফিন অ্যালেন, ভারতের মোহাম্মদ আজহারউদ্দীন, সুযশ প্রভুদেশাই ও রজত পতিদারের মতো বেশ কিছু প্রতিভাবান ব্যাটসম্যানকে দলে ভিড়িয়েছে তারা।

ফিন অ্যালেন বাংলাদেশের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজেই দেখিয়েছেন কেমন মারতে পারেন, ওদিকে সৈয়দ মুশতাক আলী ট্রফিতে প্রায় ১৯৫ স্ট্রাইক রেটে ব্যাট করেছেন আজহারউদ্দীন। গতবার দেবদূত যেমন সুযোগ পেয়েই কাজে লাগিয়েছিলেন, এবার এই চারজনের মধ্যে একজনও যদি সে পথে হাঁটেন, আখেরে লাভটা কোহলিদেরই হবে।

বিজ্ঞাপন

কাগজে-কলমে ফিনিশারের ভূমিকা পালন করার জন্যও কার্যকরী ব্যাটসম্যান আছেন দলটায়। গতবার কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের হয়ে ফ্লপ একটা মৌসুম কাটানো গ্লেন ম্যাক্সওয়েলকে প্রায় ১৫ কোটি রুপির বিনিময়ে দলে এনেছে ফ্র্যাঞ্চাইজিটা। এক মৌসুম নিশ্চুপ থাকার পর ম্যাক্সওয়েল নিজেও মুখিয়ে আছেন নিজেকে আবার প্রমাণ করে সমালোচকদের মুখ বন্ধ করার জন্য।

সেটার প্রমাণ নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজেই দেখিয়েছেন এই অস্ট্রেলিয়ান অলরাউন্ডার। বিগ ব্যাশ লিগের পোড় খাওয়া অলরাউন্ডার ড্যান ক্রিস্টিয়ানও নিঃসন্দেহে লোয়ার অর্ডারের শক্তি বাড়াবেন।

এবার নিজেদের চিন্নাস্বামী স্টেডিয়াম নয়, বরং কলকাতার ইডেন গার্ডেনস, আহমেদাবাদ ও চেন্নাইয়ের চিপকে বেশির ভাগ ম্যাচ খেলবে বেঙ্গালুরু। আর ভেন্যুগুলোর নাম শুনে যুজবেন্দ্র চাহাল, ওয়াশিংটন সুন্দর, অ্যাডাম জাম্পাদের মতো স্পিনারদের মুখে হাসি ফুটতে বাধ্য। প্রতিটি পিচই মোটামুটি স্পিনারদের সহায়তা করার জন্য বিখ্যাত।

ওদিকে কলকাতার মাঠ বেশ বড়, তাই চাহালদের পিটিয়ে মাঠছাড়া করতে চাইলে যেকোনো ব্যাটসম্যানকেই খাটতে হবে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি। পাওয়ার প্লেতে সুন্দরের আঁটসাঁট বোলিং আবারও কোহলিকে শক্তি জোগাবে। স্পিনার হিসেবে ম্যাক্সওয়েলও সুযোগ-সুবিধামতো হাত ঘোরাবেন, বলা যায় নিঃসন্দেহে।

দুর্বলতা

মিডল অর্ডারে কোহলির না থাকা নিঃসন্দেহে চাপ বাড়িয়ে দেবে এবিডি ভিলিয়ার্সের ওপর। এক কোহলি ছাড়া দলটায় অভিজ্ঞ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কোনো ভারতীয় ব্যাটসম্যান নেই, এটাও কোহলিদের আরেক চিন্তার বিষয়। দেখা যাবে, মিডল অর্ডারে কোহলি না থাকার কারণে ডি ভিলিয়ার্সের সঙ্গী হচ্ছেন রজত, শচীন, আজহার, সুযশদের মতো আনকোরা কিছু ব্যাটসম্যান। যাদের প্রতিভা আছে ঠিকই, কিন্তু সেটা খেলার মাঠে কতটুকু অনূদিত হয়, সেটা প্রশ্নসাপেক্ষ।

১৫ কোটি রুপি খরচ করে কিউই পেসার কাইল জেমিসনকে কেনা হলেও পেস বিভাগের শক্তি তাতে কতটুকু বেড়েছে, প্রশ্ন তোলাই যায়। টি-টোয়েন্টিতে জেমিসনের ইকোনমি রেট ৯.৮০।

default-image

ওদিকে নবদ্বীপ সাইনি ও মোহাম্মদ সিরাজের মতো পেসাররাও রান আটকে রাখার জন্য ঠিক পরিচিত নন। কেন রিচার্ডসন কিংবা ড্যানিয়েল স্যামসের নামগুলোও তেমন আশা জাগায় না। শেষমেশ পেস বোলিংয়ের ফসল ঘরে তোলার জন্য ড্যান ক্রিস্টিয়ান, হর্ষল প্যাটেলদের মতো অলরাউন্ডারদের ওপর নির্ভর করতে হলে আবারও খালি হাতেই ফিরতে হতে পারে কোহলিদের।

সম্ভাব্য একাদশ:

আপাতত মূল একাদশের অন্তত পাঁচ জায়গায় যে কেউ খেলতে পারেন, কোহলিদের একাদশ এখনো তেমন নিশ্চিত নয়। তা–ও যাদের খেলার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি, তাঁরা হলেন—

দেবদূত পাডিকাল, বিরাট কোহলি, এবি ডি ভিলিয়ার্স, মোহাম্মদ আজহারউদ্দীন, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, হর্ষল প্যাটেল, ড্যান ক্রিস্টিয়ান, যুজবেন্দ্র চাহাল, কাইল জেমিসন, ওয়াশিংটন সুন্দর, মোহাম্মদ সিরাজ।

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন