default-image

এবারের মতো ১৯৯২ বিশ্বকাপের আয়োজকও ছিল অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড। তখনো প্রথম ম্যাচটি হয়েছিল নিউজিল্যান্ডেই। সেবারও জয়ী দলের নাম ছিল নিউজিল্যান্ড, এবারও। ঠিক তেমনি বদলায়নি শ্রীলঙ্কানদের সাম্প্রতিক দুর্দশার ধারাও। বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে কিউইদের কাছে ৯৮ রানের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত হয়েছে গত দুটি বিশ্বকাপের রানার্সআপ আর টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন শ্রীলঙ্কা।

নিউজিল্যান্ডের মাটিতে শেষ আট ম্যাচে একবারও ৩০০ রানের গণ্ডি পেরোতে পারেনি শ্রীলঙ্কা, জয় পেয়েছে কেবল দুই ম্যাচে। তাই নিউজিল্যান্ডের ছুড়ে দেওয়া ৩৩২ রানের পর্বতসমান লক্ষ্যে পৌঁছাতে হলে অভাবনীয় কিছু করে দেখাতে হতো লঙ্কানদের। তবে শ্রীলঙ্কান ব্যাটসম্যানরা ন্যূনতম প্রতিরোধটাও গড়তে পারলেন না। পারবেন-ই বা কীভাবে, নিউজিল্যান্ড ব্যাটসম্যানদের অমন ব্যাটিংয়ের পর লঙ্কানদের মনোবল আর অবশিষ্ট থাকলে তো!
বিশ্বকাপের শততম ভেন্যু ক্রাইস্টচার্চের হ্যাগলে ওভালে টসে হেরে ব্যাট করতে নামে নিউজিল্যান্ড। শুরু থেকেই লঙ্কান বোলারদের ওপর চড়াও হয়েছেন দুই ওপেনার ব্র্যান্ডন ম্যাককালাম ও মার্টিন গাপটিল। প্রথম ব্যাটিং পাওয়ার-প্লে শেষে কিউইদের সংগ্রহ বিনা উইকেটে ৭৭! ম্যাচের অষ্টম ওভারটির কথা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ভুলে যেতে চাইবেন লাসিথ মালিঙ্গা। ম্যাককালাম ওই এক ওভারেই তুলে নিয়েছেন ২৩ রান! দলীয় ১১০ রানে ম্যাককালাম এবং ১৩৬ রানে গাপটিল ফিরলেও উইলিয়ামসনের অর্ধশতক ও দ্রুততম সেঞ্চুরির সাবেক মালিক কোরি অ্যান্ডারসনের ঝোড়ো ইনিংসে (৪৬ বলে ৭৫) নিউজিল্যান্ডের সংগ্রহ গিয়ে দাঁড়ায় ৩৩১ রানে। বিস্মরণযোগ্য একটি দিনই পার করেছেন দুই লঙ্কান পেসার মালিঙ্গা ও কুলাসেকারা। মালিঙ্গা ১০ ওভারে ‘উপহার’ দিয়েছেন ৭৮ রান, কুলাসেকারা ৭ ওভারে ৮৪!
৩৩২ রানের বিশাল লক্ষ্যে খেলতে নেমে ভালোই জবাব দিচ্ছিল শ্রীলঙ্কা। দিলশান ২৪ রানে ফিরে গেলেও থিরিমান্নের দারুণ ফিফটিতে রান তাড়ার মিশনে কক্ষপথেই ছিল লঙ্কানরা। একপর্যায়ে লঙ্কানদের দলীয় সংগ্রহ ছিল ১ উইকেটে ১২৪ রান। কিন্তু স্কোরবোর্ডে মাত্র ৫ রান যোগ হতেই স্কোরবোর্ড ১২৯/৪! এরপর আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি শ্রীলঙ্কা। অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুসের ৪৬ রান কেবল পরাজয়ের ব্যবধান কমিয়েছে শুধু।
লঙ্কানদের হতাশা আর অপ্রাপ্তির ভিড়ে কুমার সাঙ্গাকারা ছুঁয়েছেন অনবদ্য দুটি মাইলফলক। ৩৯ রানের ইনিংস খেলার পথে ব্যক্তিগত ৮ রানের মাথায় অ্যাডাম মিলনেকে চার মেরে সাঙ্গাকারা ছাপিয়ে যান রিকি পন্টিংকে, ওয়ানডে ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানের মালিক এখন তিনি। বিশ্বকাপে এক হাজার রানের রেকর্ডবইয়েও নাম লিখিয়েছেন। কিন্তু এসব প্রাপ্তি কি আর সাঙ্গার দুঃখ ঘোচাবে? এটাই শেষ বিশ্বকাপ, সাম্প্রতিক সময়ে দলের এমন বেহাল অবস্থা, এভাবে চলতে থাকলে লঙ্কানদের বিশ্বকাপযাত্রা যে খুব বেশি দূর এগোবে না, তা বলাই বাহুল্য। ‘বড়’ শিরোপাটা ছাড়া সাঙ্গার নিজের কাছেই কি তাঁর ক্যারিয়ার খানিকটা শূন্য লাগবে না?

সংক্ষিপ্ত স্কোর
টস: শ্রীলঙ্কা
নিউজিল্যান্ড ৫০ ওভারে ৩৩১/৬ (অ্যান্ডারসন ৭৫, ম্যাককালাম ৬৫, উইলিয়ামসন ৫৭; মেন্ডিস ২/৫, লাকমাল ২/৬২)
শ্রীলঙ্কা ৪৬.১ ওভারে ২৩৩/১০ (থিরিমান্নে ৬৫, ম্যাথুস ৪৬; ভেট্টোরি ২/৩৪, সাউদি ২/৩৮)
ফল: নিউজিল্যান্ড ৯৮ রানে জয়ী।
ম্যান অব দ্য ম্যাচ: কোরি অ্যান্ডারসন।

বিজ্ঞাপন
ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন