একটা অঘটনের সাক্ষী হতে হয়তো ইচ্ছেটা জেগেছিল ডানেডিনের দর্শকদের। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ইচ্ছেটার অকালমৃত্যু হলো। কারণ খুব কাছাকাছি গিয়ে শ্রীলঙ্কার কাছে কাল ম্যাচটা হেরে গেছে আফগানিস্তান।
শুধু ফল দেখলে অবশ্য ঠিক বোঝা যাবে না বিশ্বকাপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচেই কীভাবে শ্রীলঙ্কাকে কাঁপিয়ে দিয়েছিল আফগানদের। ১০ বল বাকি থাকতে ৪ উইকেটের হার—সেটা যতটা না শ্রীলঙ্কার কাছে, তার চেয়ে বেশি মাহেলা জয়াবর্ধনে নামের ধ্রুপদি এক ব্যাটসম্যানের কাছে। জয়াবর্ধনের দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে ভর করেই আফগানদের ২৩২ রান পেরিয়ে যায় শ্রীলঙ্কা। অথচ তাড়া করতে নেমে একটা সময় ৫১ রানেই ৪ উইকেট পড়ে গিয়েছিল লঙ্কানদের!
অনভিজ্ঞ আফগান পেসারদের সামনে শুরুতেই পথ হারিয়ে ফেলেন শ্রীলঙ্কান ব্যাটসম্যানরা। লাহিরু থিরিমান্নে ও তিলকরত্নে দিলশান দুজনই ১ বল খেলে শূন্য রানে আউট। দুবার জীবন পেয়ে কুমার সাঙ্গাকারা ফিরে যান ৭ রান করে। দলের রান তখন মাত্র ১৮। সেটা ৫১/৪ হয় ১২তম ওভারে দিমুথ করুনারত্নেকে হামিদ হাসান তাঁর দ্বিতীয় শিকার বানালে। সেখান থেকে দলকে টেনে তোলেন জয়াবর্ধনে ও অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস। পঞ্চম উইকেটে দুজনের ১২৬ রানের জুটিতে ঘুরে দাঁড়ায় শ্রীলঙ্কা। ৮ চার ও ১ ছয়ে ১২০ বলে ১০০ রান করে জয়াবর্ধনে যখন ফিরে যান তখনো জয়ের জন্য ৫২ বলে ৫৫ রান দরকার ছিল শ্রীলঙ্কার। শেষ পর্যন্ত থিসারা পেরেরার ২৬ বলে ৪৭ রানের ঝোড়ো ইনিংসে আফগানদের দেওয়া লক্ষ্যটা পেরিয়ে যায় শ্রীলঙ্কা।
এর আগে ২৩২ রানের ইনিংসে অল্পবিস্তর অবদান রেখেছেন প্রায় সব আফগান ব্যাটসম্যানই। প্রথম ৮ ব্যাটসম্যানের সবাই দুই অঙ্কে পৌঁছালেও চল্লিশের কোটা পেরোতে পারেননি কেউ। একমাত্র হাফ সেঞ্চুরিটা আসগর স্টানিকজাইয়ের। তাঁকে আর কেউ সেভাবে সঙ্গ দিতে পারেননি বলেই শ্রীলঙ্কাকে আরও বড় লক্ষ্য দিতে পারেনি আফগানিস্তান। সূত্র: স্টার স্পোর্টস।

শ্রীলঙ্কার দুই ওপেনারই প্রথম বলে আউট হয়েছেন। ওয়ানডেতে একই ইনিংসে দুই ওপেনারের ‘গোল্ডেন ডাক’ পাওয়ার দ্বিতীয় ঘটনা এটি। ২০০৬ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে জিম্বাবুয়ের ওপেনার পিট রিঙ্কে ও টেরি ডাফিন প্রথম বলেই আউট হয়েছিলেন।
সনাৎ জয়াসুরিয়া, অরবিন্দ ডি সিলভা ও কুমার সাঙ্গাকারার পর চতুর্থ শ্রীলঙ্কান ব্যাটসম্যান হিসেবে বিশ্বকাপে ১ হাজার রান হলো মাহেলা জয়াবর্ধনের।
বিশ্বকাপে চতুর্থ সেঞ্চুরি জয়াবর্ধনের। সেঞ্চুরিসংখ্যায় তাঁর ওপরে শুধু শচীন টেন্ডুলকার (৬) ও রিকি পন্টিং (৫)। জয়াবর্ধনের সমান সেঞ্চুরি আছে সৌরভ গাঙ্গুলী ও মার্ক ওয়াহর।
আফগানিস্তানের প্রথম বোলার হিসেবে ওয়ানডেতে ৫০ উইকেট পেলেন হামিদ হাসান। ষষ্ঠ দ্রুততম হিসেবে ২৬ ম্যাচে এই মাইলফলক ছুঁলেন আফগান পেসার।

বিজ্ঞাপন
ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন