লারউডের 'ঘরে' ব্র্যাডম্যানের ২১ লাখ টাকার ব্যাট

বিজ্ঞাপন
default-image

বুধবার বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজার সংবাদ সম্মেলন শেষে হতেই যে কাজটা অবশ্যকর্তব্য মনে হলো—ট্রেন্ট ব্রিজ গ্রন্থাগারে একটা ঢুঁ মারা।

ট্রেন্ট ব্রিজের স্বেচ্ছাসেবীদের দেওয়া নির্দেশ অনুযায়ী ‘ডানে-বাঁয়ে’ করতে করতে দ্রুতই মিলে গেল ‘দ্য ওয়েইন থমাস’ লাইব্রেরি। ভেতরে ঢুকতেই কানে এল মোলায়েম এক কণ্ঠ। ফেলে আসা অসংখ্য বছরের চিহ্ন হয়ে থাকা শ্বেতশুভ্র বড় গোঁফের ফাঁকে মৃদু হাসি ঝুলিয়ে জানতে চাইলেন, ‘কী সহায়তা করতে পারি জেন্টলম্যান?’ জানা গেল তিনি পিটার ওয়েইন থমাস, তাঁর নামেই এই গ্রন্থাগার। ইংল্যান্ডের স্বনামধন্য এই ক্রিকেট ইতিহাসবিদ ট্রেন্ট ব্রিজ গ্রন্থাগারে কাজ করছেন ১৯৭৮ সাল থেকে। নটিংহামশায়ার কাউন্টি ক্রিকেটের ভীষণ সমৃদ্ধ এ গ্রন্থাগারে প্রায় চার দশক কাটিয়ে দেওয়া থমাসের শিরা-ধমনি, শ্বাস-প্রশ্বাসজুড়ে যে ক্রিকেট, না বললেও চলছে।

ইংল্যান্ডের প্রায় প্রতিটি কাউন্টি দলেরই নিজস্ব জাদুঘর বা পুরোনো স্মৃতি ধরে রাখার উদ্যোগ আছে। ট্রেন্ট ব্রিজ অনন্য এটির বিখ্যাত গ্রন্থাগারের জন্য। গ্রন্থাগারিক থমাসের কথায় ধারণা পাওয়া গেল লাইব্রেরির বিশালত্ব সম্পর্কে, ‘এই লাইব্রেরিটা ক্রিকেটের সবকিছু কাভার করে। পত্রপত্রিকা, আত্মজীবনী, ম্যাগাজিন, দুর্লভ কাগজপত্র থেকে শুরু করে কী নেই এখানে! বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ক্রিকেট গ্রন্থাগার এটি। এখানে আসা দর্শনার্থীদের বেশির ভাগই অবশ্য লারউড সম্পর্কে জানতে চায়।’

লারউড, হ্যারল্ড লারউড সম্পর্কে ভালো জানতে এ ট্রেন্ট ব্রিজ গ্রন্থাগারের চেয়ে যথার্থ স্থান আর হতে পারে না। স্টেডিয়ামের প্যাভিলিয়ন (ড্রেসিংরুম) আর লং রুম লারউডের নামেই। গ্রন্থাগারের দরজার সামনেও তাঁকে স্মরণ করা হয়েছে ভালোভাবে। লারউড প্রসঙ্গ উঠতেই থমাস দ্রুত আলমারি থেকে বড় দুটো ফাইল নামালেন। ফাইলের ভেতর যেন বন্দী করে রাখা হয়েছে ক্রিকেটের সবচেয়ে আলোচিত অধ্যায়—বডিলাইন সিরিজ। শরীর লক্ষ্য করে একের পর এক গোলার মতো বল ছুড়ে দেওয়াই ছিল বডিলাইন সিরিজের মূল লক্ষ্য।

default-image

কীভাবে পরিকল্পনা করা হয়েছিল ১৯৩২-৩৩ অস্ট্রেলিয়া সফরের সেই বডিলাইন সিরিজ, লারউড আর বিল ভোসকে নিয়ে কীভাবে ইংল্যান্ড অধিনায়ক ডগলাস জার্ডিন ছক কষেছিলেন অপ্রতিরোধ্য স্যার ডন ব্র্যাডম্যানকে আটকাতে, ক্রিকেট ইতিহাসের তুমুল আলোচিত, ঝঞ্বাবিক্ষুব্ধ, বিতর্কিত বডিলাইন সিরিজের পর কী ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া হয়েছিল, কতটা অভিমানে লারউড ইংল্যান্ড ছেড়ে ‘শত্রু’ দেশ অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন—সব, সব ইতিহাস থরে থরে সাজানো এই গ্রন্থাগারে। নটিংহাম লারউডকে সর্বোচ্চ মর্যাদাই দিয়েছে, এটিই যে ছিল তাঁর ঘর।

লারউডের আদ্যোপান্ত যখন ভেসে উঠছে চোখের সামনে, তখন থমাস নিয়ে গেলেন একটা ব্যাটের সামনে। ‘এটি স্যার ডন ব্র্যাডম্যানের ব্যাট। ১৯৩৮ সালে ট্রেন্ট ব্রিজে যে ব্যাট দিয়ে তিনি সেঞ্চুরি (অপরাজিত ১৪৪) করে টেস্টটা বাঁচিয়েছিলেন, এটি সেটিই। নিলাম থেকে ২০ হাজার পাউন্ড (২১ লাখ টাকা) দিয়ে এটা সংগ্রহ করা হয়েছে!’ —বাংলাদেশ থেকে আসা এক আগন্তুকের চোখেমুখে অপার বিস্ময় দেখে মুচকি হাসেন থমাস।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন