বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

কঠিন এক সময়ে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলের দায়িত্ব নিয়েছিলেন ল্যাঙ্গার। বল টেম্পারিং-কাণ্ডে এলোমেলো ছিল তখন অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট। এক বছরের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছিলেন অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথ আর সহ-অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নার। সমালোচনার মুখে প্রধান কোচ ড্যারেন লেম্যান পদত্যাগ করায় শূন্যতা দেখা দেয় কোচের পদেও। সেই শূন্যতা পূরণ করেন ল্যাঙ্গার।

ল্যাঙ্গারের অধীনে ইংল্যান্ডে ২০১৯ অ্যাশেজ ২-২-এ ড্র করে ছাইদানি নিজেদের কাছে রাখতে পেরেছিল অস্ট্রেলিয়া। আর সদ্য শেষ হওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দলকে শিরোপা জিতিয়েছেন। অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট ইতিহাসেই এটি প্রথমবারের মতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপা জয়। এত কিছুর পরও ল্যাঙ্গারের অস্ট্রেলিয়া দলে কোচ হিসেবে থাকা, না-থাকা নিয়ে কথা হচ্ছে।

ল্যাঙ্গারের কোচিং পদ্ধতি খুব কাছে থেকে দেখেছেন স্টিভ ওয়াহ। ২০১৯ অ্যাশেজের সময় তাঁকে পরামর্শক হিসেবে নিয়েছিলেন ল্যাঙ্গার। এ ছাড়া দুজন জাতীয় দলে একসঙ্গে খেলেছেন। ল্যাঙ্গারকে কাছ থেকে দেখার সেই অভিজ্ঞতা থেকেই ওয়াহ বলেছেন, ‘আমি ওর সঙ্গে নিয়মিত কথা বলি এবং ও আমাকে একবারও প্রধান কোচের পদ থেকে পদত্যাগ করার কথা বলেনি।’

ওয়াহ এরপর বলেছেন, ল্যাঙ্গারের জন্য সমালোচনা নতুন কিছু নয়, ‘গোটা ক্যারিয়ারেই ওকে (ল্যাঙ্গার) সমালোচনা সহ্য করে যেতে হয়েছে। দল থেকে কাউকে বাদ পড়তে হলে সেটা ছিল ল্যাঙ্গার। খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে ও সব সময় পারফর্ম করেছে। আমি মনে করি, কোণঠাসা হওয়াটা ওকে অনেক উদ্বুদ্ধ করে। আমরা দেখেছি, যখনই বাজে সময় আসে, ও ঘুরে দাঁড়ায় এবং সফল হয়।’

ওয়াহ বলেন, মাঠের পারফরম্যান্স যতটা না কোচের ওপর নির্ভরশীল, তার চেয়ে বেশি নির্ভরশীল খেলোয়াড়দের ওপর, ‘আমি মনে করি ম্যাচ জেতা বা হারার দায়টা খেলোয়াড়দের, কোচের নয়। আমি যখন খেলোয়াড় ছিলাম, তখনো কোচ ছিল। কিন্তু একটা ম্যাচ জেতার কৃতিত্ব এবং ম্যাচ হারার দায় একজন খেলোয়াড়কেই নিতে হবে। খেলোয়াড়ই ছয় ঘণ্টা মাঠে খেলে, কোচ নয়।’

ঘরের মাটিতে ভারতের বিপক্ষে গত বছর টেস্ট সিরিজ হেরেছে অস্ট্রেলিয়া। ওই সিরিজ নিয়ে এখনো ল্যাঙ্গারের দিকে সমালোচনার তির ছুড়ে দেন অনেকে। এ নিয়ে বেশ বিরক্ত মনে হলো ওয়াহকে, ‘আমি মনে করি, খেলোয়াড়দের চেয়ে ল্যাঙ্গারের পারফরম্যান্সের দিকেই সবার বেশি মনোযোগ। কিন্তু বাস্তবে ভারতের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার খুব সহজেই জেতা উচিত ছিল। ওদের বেশির ভাগ তারকা খেলোয়াড় দলে ছিল না, আমরা অ্যাডিলেডে ওদের ৩৬ রানে অলআউট করেছি। এই পর্যায় থেকে সিরিজ হারার পর আমার মনে হয় না কেউ কোচের দিকে আঙুল তুলতে পারেন।’

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন