default-image
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পার্থ টেস্টে আজ ৬ উইকেটে ১৬৭ রান নিয়ে তৃতীয় দিনের খেলা শেষ করেছে অস্ট্রেলিয়া। হাতে ৪ উইকেট রেখে এর মধ্যেই ৪১৭ রানের লিড নিয়েছে স্বাগতিক দল


পানি পানের বিরতিতেই জানিয়েছিলেন দিনটা শেষ করে আসতে চান। অস্ট্রেলিয়া দলে এক পেসার কম থাকায় অন্য দুজনকে বিশ্রাম দেওয়াটা জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর সে কারণেই ব্যাট করছে তারা। নিউজিল্যান্ডের কপাল ভালো, মারনাস লাবুশেনের ইচ্ছা পূরণ হয়নি। বিরতির পর দ্বিতীয় বলেই ভয়ংকর ফর্মে থাকা লাবুশেনকে ফিরিয়ে দিয়েছেন নিল ওয়াগনার। এতেও যে ম্যাচে নিউজিল্যান্ড ফিরে এসেছে, সেটা বলার উপায় নেই। পার্থ টেস্টে নিউজিল্যান্ডের লড়াইটা এখন হার এড়ানোর।

লাবুশেনকে তুলে নেওয়ার পর স্টিভ স্মিথ, ট্রাভিস হেড ও টিম পেইনকেও ফিরিয়েছে নিউজিল্যান্ড। কিন্তু তৃতীয় দিন শেষে লিড এরই মধ্যে চার শ রান পেরিয়ে গেছে। ৬ উইকেটে ১৬৭ রান নিয়ে তৃতীয় দিনের খেলা শেষ করেছে অস্ট্রেলিয়া। উইকেটে রয়েছেন ম্যাথু ওয়েড ও প্যাট কামিন্স। হাতে ৪ উইকেট রেখে অস্ট্রেলিয়ার লিড ৪১৭ রান।

প্রথম ইনিংসে একজন বোলার কম নিয়েই নিউজিল্যান্ডকে ১৬৬ রানে গুটিয়ে দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। ২৫০ রানের লিড পাওয়ায় টানা তৃতীয় টেস্ট ইনিংস ব্যবধানে জেতার রেকর্ড গড়ার হাতছানি ছিল অস্ট্রেলিয়ার সামনে। কিন্তু জশ হ্যাজলউডের চোটের পর বোলিংয়ের সব ভার এসে পড়েছে মিচেল স্টার্ক ও প্যাট কামিন্সের। নিয়মিত ১৪০ কিলোমিটার গতিতে বল করা দুই পেসারের ওপর থেকে চাপ কমাতে আবার ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া।

সুযোগটা পুরোপুরি কাজে লাগিয়েছেন লাবুশেন (৫০)। টানা তিন ইনিংসে সেঞ্চুরির ফর্ম টেনে এনেছেন আজও। জো বার্নসকে সঙ্গী করে ৮৭ রানের জুটি গড়েছেন দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে। বছরে নিজের ষষ্ঠ ফিফটি বুঝে নিয়েছেন চমৎকার বুদ্ধিদীপ্ত ব্যাটিংয়ে। মাত্র তিনটি চার মেরেছেন ইনিংসে, তবু স্ট্রাইকরেট ধরে রেখেছেন ৬০-এর ওপর। আর সে পথেই ২০১৯ সালে প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে হাজার রানের মাইলফলক ছাড়িয়েছেন। ব্যক্তিগত ২৮ রানে সে মাইলফলক ছুঁয়ে আপাতত থেমেছেন ১০২২ রানে।

লাবুশেন মাঠ ছাড়ার পরই নামেন স্টিভ স্মিথ। অ্যাশেজে মাথায় চোট পেয়ে মাঠ ছাড়ার পর তাঁর জায়গা নেওয়া লাবুশেনের সঙ্গে ঠিক পেরে উঠছেন না স্মিথ। অ্যাশেজের পর পাকিস্তান সিরিজে লাবুশেন যেখানে রানের ফোয়ারা ছুটিয়েছেন, স্মিথ ছিলেন ম্লান হয়ে। বছরে সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহকের তালিকাতে দুইয়ে থাকলেও বেশ পিছিয়ে আছেন লাবুশেনের চেয়ে। আজ ইনিংস শুরুর সময় ১৬৫ রানে পিছিয়ে ছিলেন স্মিথ।

তরুণ সঙ্গীর সঙ্গে ব্যবধান কমিয়ে আনার সঙ্গে দলের লিড বাড়িয়ে নেওয়ার দায়িত্বটা চেপেছিল স্মিথের কাঁধে। কারণ, লাবুশেনের পর ফিরে গিয়েছিলেন জো বার্নসও (৫৩)। কিন্তু পারেননি স্মিথ। তৃতীয় দিন খেলা শেষ হওয়ার প্রায় ১০ ওভার বাকি থাকতে ওয়াগনারকে অযথাই পুল করার মাশুল গুনে আউট হন স্মিথ (১৬)। টেস্টে বছরের সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহকের তালিকায় লাবুশেনের চেয়ে ১৪৯ রান পিছিয়ে রইলেন তিনি। তবে বছর শেষের আগে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আরও একটি টেস্ট থাকায় শীর্ষে ওঠার সুযোগ এখনো হারাননি স্মিথ।

অস্ট্রেলিয়ার পথে একমাত্র কাঁটা হয়ে আছেন নিল ওয়াগনার। ভয়ংকর গতি নেই, নেই সুইংয়ের বিষ। তবু শুধু লাইন–লেংথ দিয়ে কীভাবে আগ্রাসী ব্যাট করতে হয়, সেটা দেখিয়ে দিচ্ছেন ওয়াগনার। শুধু শর্ট বল করেই নাভিশ্বাস তুলে দিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটসম্যানদের। প্রথম ইনিংসে স্মিথকে তুলে নেওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসেও স্মিথের সঙ্গে লাবুশেনকেও তুলে নিয়েছেন টানা শর্ট বল করার ক্ষমতার পুরস্কার হিসেবে। কৃত্রিম আলোয় গোলাপি বলের সুইং নিয়ে টিম সাউদিও ভয়ংকর হয়ে ওঠার চেষ্টা করেছেন। অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংসে এ পর্যন্ত সাউদির শিকার ৪ উইকেট। ২ উইকেট নিয়েছেন ওয়াগনার।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0