জাতীয় দলের সঙ্গে এখন শ্রীলঙ্কা সফরে আছেন পেসার শরিফুল ইসলাম।
জাতীয় দলের সঙ্গে এখন শ্রীলঙ্কা সফরে আছেন পেসার শরিফুল ইসলাম।ছবি: প্রথম আলো

শরিফুল ইসলামের কথাগুলো শুনলে শৈশবের ক্রিকেটের কথা মনে পড়বে। বড় ভাইদের দলে দু-একজন ‘ছোট’ যেভাবে বেড়ে ওঠে আরকি। শুরুতে ছোটরা বড় ভাইদের দলে ‘টুয়েলভ ম্যান’—মাঠে কার কখন কী লাগে, সেসব সরবরাহের দায়িত্ব তাদের।

ম্যাচ নিয়ে বড়রা যখন কথা বলেন, রাজ্যের আগ্রহ নিয়ে ছোটরা শুনে থাকে সেসব কথা। কল্পনামেদুর চোখে সেসব কথায় নিজেকে বসিয়ে নেন সে। মাঠের বাইরে বসেও তাঁর মনে হয়, যেন নিজেই খেলছে! এভাবে সেই ছোট মাঠের একদিন দলে নিয়মিত হয়ে ওঠে। জাতীয় দলগুলোতেও তো এটাই পরম্পরা—নতুন কেউ এলে তাঁকে গড়ে তোলা হয়।

শরিফুল এখন তেমন সময় পার করছেন। দেশের হয়ে তিনটি টি-টোয়েন্টি খেলা হলেও ওয়ানডে ও টেস্ট খেলার অপেক্ষা কাটেনি। এরই মধ্যে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে জাতীয় দলের সঙ্গে থাকার অভিজ্ঞতা হয়েছে বাঁহাতি এ পেসারের।

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেছেন টি-টোয়েন্টি। চলতি শ্রীলঙ্কা সফরে টেস্টের মেজাজ রপ্ত করছেন শরিফুল। দলের সিনিয়রদের দেখে বিদ্যাটা শিখছেন হাতে–কলমে।

বিজ্ঞাপন

ড্র হওয়া প্রথম টেস্টে ১৫ জনের দলে ছিলেন তিনি। শরিফুল এই দলে ‘চতুর্দশ সদস্য’ হিসেবে মাঠের বাইরে থেকে দেখেছেন, কীভাবে টেস্ট খেলতে হয়। এত কাছ থেকে টেস্ট ম্যাচ দেখার অভিজ্ঞতাই তো অনেকের হয় না!

বিসিবির এক ভিডিও বার্তায় সে কথাই বললেন অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী এ পেসার। যুব দল থেকে ‘ভবিষ্যৎ’ হিসেবে তাঁকে তুলে এনেছেন নির্বাচকেরা। এখন তাই বেড়ে ওঠার এই সময়টা এভাবেই কাজে লাগাচ্ছেন শরিফুল।

default-image

মাঠের বাইরে থেকে শ্রীলঙ্কায় প্রথম টেস্ট দেখার অভিজ্ঞতা জানালেন তিনি, ‘প্রথমবারের মতো ফোরটিন্থ ম্যান (চতুর্দশ খেলোয়াড়) ছিলাম, আর এত কাছ থেকে টেস্ট ক্রিকেট কখনো দেখিনি। আমার জন্য একটু রোমাঞ্চকর ছিল। টেস্ট খেলাটা আসলে মজার খেলা। প্রতি সেশনে খেলার গতি পাল্টায়। একেকরকম বার্তা পাঠানো হয়। তো আমি খুব রোমাঞ্চিত ছিলাম। মনে হয়নি যে আমি ম্যাচের বাইরে আছি। মনে হয়েছে, আমি ম্যাচের মধ্যেই আছি।’

পাল্লেকেলেতে বৃহস্পতিবার গড়াবে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট। শরিফুল এ ম্যাচে একাদশে সুযোগ পাবেন কি না, তা সময়ই বলে দেবে। আপাতত সিনিয়রদের দেখে শিখছেন তিনি। পাল্লেকেলেতে প্রথম টেস্টে ভীষণ গরমের মধ্যে তিন পেসার তাসকিন আহমেদ, আবু জায়েদ ও ইবাদত হোসেনের বোলিং দেখে টেস্ট ক্রিকেটটা বোঝার চেষ্টা করেছেন শরিফুল।

সুযোগ পেলেও শরিফুলও নিজের শতভাগ ঢেলে দিতে চান, সেটা যতই বিরুদ্ধ কন্ডিশন হোক না কেন, ‘তাসকিন ভাই অনেক লম্বা স্পেল করেছেন, অনেক ওভার করেছেন। তাসকিন ভাই আর ইবাদত ভাই অনেক জোরে বোলিং করেছেন। সেটা দেখে খুব ভালো লাগছে যে এত গরমে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একই গতিতে জোরে বল করেছেন। টেস্ট খেলাটা এমনই যে নিজের শতভাগ দিতে হয়। তাঁরা চেষ্টা করেছেন শতভাগ দেওয়ার। যদি আমি কখনো সুযোগ পাই, আমিও চেষ্টা করব শতভাগ দেওয়ার।’

বাংলাদেশের দলের তারকা ব্যাটসম্যানদের নেটে বল করে নিজেকে ঝালাই করছেন শরিফুল। ঘরোয়া টুর্নামেন্টেও তাদের মুখোমুখি হতে হয়। জাতীয় দলের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে মুশফিকুর রহিম ও তামিম ইকবালের ব্যাটিং ভালো লাগে শরিফুলের।

মুশফিককে নাকি শরিফুল এখনো আউট করতে পারেননি, ‘আমার সবচেয়ে ভালো লাগে মুশফিক ভাইয়ের ব্যাটিং। তাঁকে এখনো আমি আউট করতে পারিনি। যেকোনো খেলায় তাঁর উইকেট নেওয়ার ইচ্ছা আমার। মুশফিক ভাই আর তামিম ভাইয়ের ব্যাটিং ভালো লাগে। আগে তাঁদের খেলা দেখতাম। এখন তাঁদের সঙ্গে খেলছি, বল করছি, ভালোই লড়াই হচ্ছে নেটের ভেতর।’

শরিফুলের কাছে টেস্ট খেলা বাকি দুই সংস্করণের চেয়ে কঠিন। পাল্লেকেলের কঠিন কন্ডিশনে বিষয়টি আরও খোলনলচে বুঝেছেন তিনি। মাঠে না থেকেও সতীর্থদের সঙ্গে কথা বলে তিনি বুঝেছেন, এই সংস্করণে ভালো করতে হলে সব বাধা পেরিয়েই উঠে আসতে হবে, ‘আসলে টেস্ট খেলাটা একটু কঠিন। যে আবহাওয়ায় খেলা হয়েছে, অনেক রোদ ছিল। পেসারদের একটু পরপর পানি খাওয়ানো, তাঁদের সঙ্গে কথা বলা, তাঁদের কাছ থেকে কিছু জানা—সব মিলিয়ে মনে হচ্ছিল যেমন মজা আছে, তেমন কষ্টও আছে। এটা আসলে খেলার অংশ। এটা জয় করেই আমাদের ভালো কিছু করতে হবে।’

বিজ্ঞাপন
ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন