শান্তিতে মরতে চান বলে এক মাসের মধ্যেই বিদায় নিলেন তিনি

রে ইলিংওয়ার্থছবি: টুইটার

গত ২৯ নভেম্বর সবাইকে চমকে দিয়েছিলেন রে ইলিংওয়ার্থ। তিনি খাদ্যনালির ক্যানসারে ভুগছেন এবং এ জন্য রেডিওথেরাপি নিচ্ছেন। কিন্তু ৮৯ বছর চমকে দিয়েছিলেন অন্যভাবে, অস্ট্রেলিয়ার মাঠে অ্যাশেজজয়ী সাবেক ইংলিশ অধিনায়ক জানিয়েছিলেন, চিকিৎসায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি না হলে তাঁকে যেন মৃত্যুর সুযোগ করে দেওয়া হয়। নিজের স্ত্রীকে দীর্ঘদিন ক্যানসারে ভুগে এ বছরই মৃত্যুবরণ করতে দেখেছেন ইলিংওয়ার্থ। এই কষ্ট তাঁর পক্ষে সহ্য করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছিলেন ইলিংওয়ার্থ।

ভয় পাচ্ছিলেন, রোগে ভুগে এমন অবস্থা হবে যে অন্যের সহযোগিতায় মৃত্যুর ইচ্ছা জাগবে। কিন্তু যুক্তরাজ্যে সে সুযোগ নেই। ইলিংওয়ার্থের অতটা কষ্ট সহ্য করতে হয়নি। শান্তিতে মরতে চাওয়ার ইচ্ছা জানানোর মাস পেরোনোর আগেই চিরবিদায় জানিয়ে দিলেন সাবেক ইংলিশ অধিনায়ক।

আরও পড়ুন
১৯৭০-৭১ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়ার মাঠে অ্যাশেজ জিতিয়েছেন রে ইলিংওয়ার্থ
ছবি: টুইটার

তাঁর কাউন্টি দল ইয়র্কশায়ার নিশ্চিত করেছে এ খবর। টুইটারে এক বার্তায় ইয়র্কশায়ার জানিয়েছে, ‘রে ইলিংওয়ার্থ চলে গেছেন জেনে আমরা অত্যন্ত দুঃখ পেয়েছি। রের পরিবার ও বৃহত্তর পরিসরে পুরো ইয়র্কশায়ারের যাঁরাই রেকে হৃদয়ে ধারণ করতেন, সবাইকে সমবেদনা জানাচ্ছি।’

১৯৫৮ থেকে ১৯৭৩ সাল পর্যন্ত ইংল্যান্ডের হয়ে ৬১টি টেস্ট খেলেছেন ইলিংওয়ার্থ। ২৩.২৪ গড়ে ১ হাজার ৮৩৬ রান করেছেন। আর ৩১.২২ গড়ে পেয়েছেন ১২২ উইকেট। ইংল্যান্ডকে ৬১ ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়ে ১২ ম্যাচে জয় এনে দিয়েছেন। এর মধ্যে দুটি টেস্ট ছিল ১৯৭০-৭১ অ্যাশেজের।

রে ইলিংওয়ার্থ
ছবি: টুইটার

১৯৯৪ থেকে ১৯৯৬ সালে ইংল্যান্ডের নির্বাচক কমিটির চেয়ারম্যানের পদে ছিলেন। ১৯৯৫-৯৬ মৌসুমে দলের কোচের দায়িত্বও পালন করেছিলেন ইলিংওয়ার্থ।

২৯ নভেম্বর দ্য টেলিগ্রাফের কাছে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অন্যের সহায়তায় মৃত্যুর আইন পাসের আশা করেছিলেন ইলিংওয়ার্থ, ‘আমার স্ত্রী তাঁর শেষ ১২ মাস যেভাবে কাটিয়েছে, সেটা আমার ক্ষেত্রে হোক, তা চাই না। এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ঘুরেছে। অনেক কষ্ট পেয়েছে। আমি বরং শান্তিতে মরতে চাই। আমি অন্যের সহায়তায় মৃত্যুতে বিশ্বাস করি।’