default-image

আইপিএলের প্রথম সংস্করণে (২০০৮) সৌরভ গাঙ্গুলীই ছিলেন কলকাতা নাইটরাইডার্সের অধিনায়ক। কলকাতার ক্রিকেট মহারাজকে কেন্দ্র করেই দল বানিয়েছিলেন বলিউড তারকা শাহরুখ খান। কিন্তু প্রথম সংস্করণে কলকাতা নাইট রাইডার্স খুব বাজেভাবে ব্যর্থ হয়েছিল। সৌরভ এখনো মনে করেন, দলের মালিকেরা যদি দলকে খেলোয়াড়দের দায়িত্বে ছেড়ে দিতেন, তাহলে তিনি কলকাতা নাইটরাইডার্স নিয়ে ব্যর্থ হতেন না।

ইউটিউবে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, 'আমি গৌতম গম্ভীরের একটা সাক্ষাৎকার দেখেছিলাম। সেখানে সে বলেছিল আইপিএলের চতুর্থ বছরে শাহরুখ খান নাকি তাঁকে বলেছিলেন, “এই নাও তোমার দল। আমি এখানে কোনো হস্তক্ষেপ করব না।” শাহরুখ কথাটা ২০০৮ সালে আমাকে বললেই পারতেন।'

আইপিএলের প্রথম আসরে দল নিয়ে নানা সমস্যার সম্মুখীন হন সৌরভ। টিম ম্যানেজমেন্ট অস্ট্রেলিয়ার সাবেক কোচ জন বুকাননকে কোচ বানিয়েছিল। এই বুকানন সে আইপিএলে অদ্ভুত অদ্ভুত সব ধারণা প্রয়োগ করার চেষ্টা করেছিলেন। এর মধ্যে একটি ছিল 'চার অধিনায়ক তত্ত্ব'। এই তত্ত্বের মাধ্যমে এক ম্যাচে চারজন অধিনায়ক থাকতেন। সৌরভ এসব ব্যাপার নিয়ে খুবই বিরক্ত ছিলেন, 'ভাবনা–চিন্তা এখানে একটা বড় বিষয় হিসেবে কাজ করেছে। বুকানন চার অধিনায়কের তত্ত্বে বিশ্বাস করতেন। এটা নিয়ে আমার সঙ্গে তাঁর মতবিরোধ হয়। তিনি বলেছিলেন, আমাকে চার অধিনায়কের ব্যাপারে সমর্থন দাও। আমি দলটাকে সেটা দিয়েই চালাই। প্রথম মৌসুমের শেষ দিকেই সমস্যা শুরু হয়। সমস্যা আমি ছিলাম না। সমস্যা ওই চার অধিনায়ক তত্ত্ব। আমাদের দলে আমি ছিলাম, ব্রেন্ডন ম্যাককালাম ছিল, একজন বোলিং অধিনায়কও ছিল। আমি আসলেই জানি না, বুকানন আসলে কয়জন অধিনায়ককে নিয়োগ দিয়েছিলেন।'

প্রথম মৌসুমে ব্যর্থতার পর দ্বিতীয় মৌসুমেও বুকানন তেমন কিছু করতে পারেননি। সৌরভ অধিনায়কত্বে ফেরেন তৃতীয় মৌসুমে। ২০১১ সালে সৌরভের কাছ থেকে অধিনায়কত্ব তুলে দেওয়া হয় গম্ভীরকে। কলকাতা নাইট রাইডার্স আইপিএলের প্রথম শিরোপা জেতে ২০১২ সালে।

সৌরভ মনে করেন, সেরা আইপিএল দল সেটিই, যারা মালিকের হস্তক্ষেপ থেকে মুক্ত, 'সেরা আইপিএলের ফ্র্যাঞ্চাইজি তারাই, যারা সবকিছু খেলোয়াড়দের ওপর ছেড়ে দেয়। তারা সফল হয়। আপনি চেন্নাই সুপার কিংসের দিকে তাকিয়ে দেখুন। ধোনির ওপরই সব, মুম্বাই ইন্ডিয়ানসের দিকে দেখুন, সেখানে রোহিত শর্মাকে কেউ ক্রিকেট বোঝাতে আসে না। বলতে আসে না, তোমাকে অমুক–তমুককে নিতে হবে।'

সৌরভকে কীভাবে কলকাতা নাইট রাইডার্স থেকে বাদ দেওয়া হয়, সেটি তিনি বিস্তারিত লিখেছেন তাঁর আত্মজীবনী 'আ সেঞ্চুরি ইজ নট এনাফ' বইয়ে। তিনি লিখেছেন, 'আইপিএলের চতুর্থ মৌসুম শুরুর আগের ঘটনা। নিলাম খুব কাছেই। গণমাধ্যমে কলকাতা নাইট রাইডার্সে আমার ভবিষ্যৎ নিয়ে খুব আলোচনা হচ্ছে। এ সময় আমার অফিসে দেখা করতে এলেন কলকাতা নাইটরাইডার্সের প্রধান নির্বাহী ভেঙ্কি মাইসোর। তিনি এসে আমতা–আমরা করে বললেন, “এই মৌসুমে আমরা আপনাকে খেলোয়াড় হিসেবে রাখতে চাই না। আমরা চাই আপনি দলের মেন্টর হিসেবে কাজ করবেন।” আমি বললাম প্রস্তাবটা আমাকে ভেবে দেখতে হবে। আমি জানতাম আমার উত্তর কী হবে। কিন্তু তারপরেও আমি সময় নিলাম।'

সৌরভ সে সময় শাহরুখ খানকে সরাসরি ফোন করতে ব্যাপারটা জানতে চেয়েছিলেন। কিন্তু একটা পর্যায়ে তিনি সে ফোনটা আর দেননি, 'আমি সরাসরি দলের মালিক শাহরুখকে ফোন দিতে পারতাম। কিন্তু নিজেকে সামলালাম। আমি জানতাম, ভেঙ্কি প্রস্তাবটা দিলেও সেটা শাহরুখ অনুমোদন করার পরই আমার কাছে এসেছে।'

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0