default-image

পরশু আইপিএল নিলামের একদম শেষ মুহূর্তের ঘটনা। এরই মধ্যে নিজেদের দল গুছিয়ে নিয়েছে সব দল। স্থানীয় ক্রিকেটারদের নিলাম চলছিল। ভিত্তিমূল্য ২০ লাখ রুপিতে একের পর এক ক্রিকেটারের নাম বলে যাচ্ছিলেন নিলামকারী। কিন্তু কারও দিকেই ফিরে তাকাচ্ছিল না ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো। এর মধ্যেই হঠাৎ একটি নাম ডাকা হলো, অর্জুন টেন্ডুলকার! এই মৌসুমেই প্রথমবারের মতো ভারতের ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত দেখা যাচ্ছে শচীন টেন্ডুলকারের ছেলেকে। সে সুবাদেই আইপিএলের নিলামে প্রথমবার দেখা গেল ২২ বছর বয়সী অর্জুনকে।

নিলামে অর্জুনের নাম দেখার পর অনেকেই ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল, মুম্বাই ইন্ডিয়ানস নিয়ে নেবে তাঁকে। একে তো মুম্বাইয়ের ছেলে, তার ওপর দেশের সর্বকালের সেরা ক্রিকেটারের সন্তান অর্জুন। আর শচীন অবসরের পরও মুম্বাইয়ের সঙ্গে যুক্ত। এ দলের মেন্টরের দায়িত্বে আছেন। গত মৌসুমেও মুম্বাইয়ের নেটে বোলিং করেছেন অর্জুন। অনুমিতভাবেই মুম্বাই আগ্রহ দেখিয়েছে। অন্য কোনো দলের অর্জুনকে নিয়ে টানাহেঁচড়া করার ইচ্ছা জাগেনি। ভিত্তিমূল্যেই অর্জুনকে পেয়ে গেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।

এই নিলামের পরই অবশ্য আবার উঠেছে প্রশ্ন। অর্জুনের নামের শেষে টেন্ডুলকার বলেই কি কেনা হলো অর্জুনকে? স্বজনপ্রীতিরও অভিযোগ উঠেছে এতে। যদিও এতে আপত্তি তুলেছেন ফারহান আখতার। বলিউড তারকার ধারণা, এভাবে শুরুতেই স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তোলাটা নিষ্ঠুরতা।

বিজ্ঞাপন
default-image

কয়েক দিন আগেই মুম্বাইয়ের হয়ে সৈয়দ মুশতাক আলী ট্রফিতে খেলেছেন অর্জুন। খুব বেশি ভালো করেননি, ২ ম্যাচে ২ উইকেট পেয়েছেন। ইকোনমি রেট সাড়ে ৯–এর বেশি। টি-টোয়েন্টির পর লিস্ট ‘এ’তেও অভিষেকের অপেক্ষায় অর্জুন। বিজয় হাজারে টুর্নামেন্টের জন্য ১০০ ক্রিকেটারকে ক্যাম্পে ডেকেছে মুম্বাই। সেখানেও নাম আছে অর্জুনের। মুম্বাইয়ের বয়সভিত্তিক দলে খেললেও কখনো দেশের হয়ে খেলা হয়নি, অর্থাৎ সব মিলিয়ে খুব একটা নজরকাড়া প্রোফাইল নয় অর্জুনের। আইপিএলের নিলামে অর্জুনের চেয়ে ভালো ক্যারিয়ার ও পরিসংখ্যান নিয়েও অবিক্রীত রয়ে গেছেন অসংখ্য তরুণ ক্রিকেটার।

নিলামের পরই তাই স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। টেন্ডুলকারের সন্তান না হলে অর্জুনকে মুম্বাই কোনোভাবেই কিনত না বলে অভিযোগ উঠেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। নিলামের পরই তাই তড়িঘড়ি করে অর্জুনকে কেনার পক্ষে যুক্তি দিতে হয়েছে মুম্বাই ইন্ডিয়ানস কোচ মাহেলা জয়াবর্ধনেকে, ‘আমরা শুধু দক্ষতার দিকেই নজর দিয়েছি (পিতৃপরিচয় না)। শচীনের কারণে এমনিতেই ওর পাশে বড় এক ট্যাগ লেগে থাকবে। ভাগ্য ভালো সে বোলার, ব্যাটসম্যান না। আমার ধারণা অর্জুনের মতো বল করতে পারলে শচীন উল্টো গর্ব বোধ করবে।’

default-image

বাবার চেয়ে নিজেকে আলাদা করার কাজটা প্রকৃতিগতভাবেই পেয়েছেন অর্জুন। শচীন ব্যাটিং ও বোলিংয়ের জন্য ডান হাতকে বেছে নিলেও অর্জুন দুটি করেন বাঁ হাতে। বাঁহাতি মিডিয়াম পেসের সঙ্গে লেট অর্ডারে ব্যাটিং-এ দিয়েই মুম্বাই ইন্ডিয়ানসে ঢোকা অর্জুন সম্পর্কে জয়াবর্ধনে বলেছিলেন, ‘অর্জুনের শিক্ষার একটি ধাপ এটি। সে মাত্রই মুম্বাইয়ের হয়ে খেলা শুরু করেছে। সে অনেক কিছুই শিখবে, সে উন্নতি করবে। সে এখনো তরুণ। খুবই নিবেদিত ছেলে। আমাদের ওকে সময় দিতে হবে এবং আশা করি খুব বেশি চাপ দেওয়া হবে না। ওকে বাড়ার সুযোগ দিন। আমরা এভাবেই ওকে সাহায্য করতে চাই।’

বিতর্ক তবু থামেনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এত বেশি আলোচনা হচ্ছিল যে ফারহান আখতারই মুখ খুললেন বিষয়টি নিয়ে। টুইটারে সবাইকে আরেকটু সহানুভূতি দেখাতে বলেছেন এই অভিনেতা, ‘আমার মনে হচ্ছে অর্জুন টেন্ডুলকার সম্পর্কে আমার কিছু বলা উচিত। আমরা দুজন একই জিমে যাই এবং আমি দেখি সে ফিটনেস নিয়ে কত কঠোর পরিশ্রম করে। ভালো ক্রিকেটার হওয়ার প্রতি কত মনোযোগ তার। ওর দিকে “স্বজনপ্রীতি” শব্দটা ছুড়ে দেওয়াটা অন্যায় এবং নিষ্ঠুরতা। ওর ক্যারিয়ার শুরু হওয়ার আগেই আগ্রহটা নষ্ট না করি বা ওকে নিচে না নামাই।’

সবাই যাই বলুক না কেন, মাঠে নেমে যতক্ষণ না নিজেকে প্রমাণ করছেন, ততক্ষণ ‘স্বজনপ্রীতি’র ট্যাগ লেগেই থাকবে অর্জুনের নামের পাশে। বিখ্যাত বাবার ছেলে হয়ে একই পেশা বেছে নেওয়ার অভিশাপ বলে কথা।

বিজ্ঞাপন
ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন