বিজ্ঞাপন
default-image

কয়েক দিন আগেই মুম্বাইয়ের হয়ে সৈয়দ মুশতাক আলী ট্রফিতে খেলেছেন অর্জুন। খুব বেশি ভালো করেননি, ২ ম্যাচে ২ উইকেট পেয়েছেন। ইকোনমি রেট সাড়ে ৯–এর বেশি। টি-টোয়েন্টির পর লিস্ট ‘এ’তেও অভিষেকের অপেক্ষায় অর্জুন। বিজয় হাজারে টুর্নামেন্টের জন্য ১০০ ক্রিকেটারকে ক্যাম্পে ডেকেছে মুম্বাই। সেখানেও নাম আছে অর্জুনের। মুম্বাইয়ের বয়সভিত্তিক দলে খেললেও কখনো দেশের হয়ে খেলা হয়নি, অর্থাৎ সব মিলিয়ে খুব একটা নজরকাড়া প্রোফাইল নয় অর্জুনের। আইপিএলের নিলামে অর্জুনের চেয়ে ভালো ক্যারিয়ার ও পরিসংখ্যান নিয়েও অবিক্রীত রয়ে গেছেন অসংখ্য তরুণ ক্রিকেটার।

নিলামের পরই তাই স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। টেন্ডুলকারের সন্তান না হলে অর্জুনকে মুম্বাই কোনোভাবেই কিনত না বলে অভিযোগ উঠেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। নিলামের পরই তাই তড়িঘড়ি করে অর্জুনকে কেনার পক্ষে যুক্তি দিতে হয়েছে মুম্বাই ইন্ডিয়ানস কোচ মাহেলা জয়াবর্ধনেকে, ‘আমরা শুধু দক্ষতার দিকেই নজর দিয়েছি (পিতৃপরিচয় না)। শচীনের কারণে এমনিতেই ওর পাশে বড় এক ট্যাগ লেগে থাকবে। ভাগ্য ভালো সে বোলার, ব্যাটসম্যান না। আমার ধারণা অর্জুনের মতো বল করতে পারলে শচীন উল্টো গর্ব বোধ করবে।’

default-image

বাবার চেয়ে নিজেকে আলাদা করার কাজটা প্রকৃতিগতভাবেই পেয়েছেন অর্জুন। শচীন ব্যাটিং ও বোলিংয়ের জন্য ডান হাতকে বেছে নিলেও অর্জুন দুটি করেন বাঁ হাতে। বাঁহাতি মিডিয়াম পেসের সঙ্গে লেট অর্ডারে ব্যাটিং-এ দিয়েই মুম্বাই ইন্ডিয়ানসে ঢোকা অর্জুন সম্পর্কে জয়াবর্ধনে বলেছিলেন, ‘অর্জুনের শিক্ষার একটি ধাপ এটি। সে মাত্রই মুম্বাইয়ের হয়ে খেলা শুরু করেছে। সে অনেক কিছুই শিখবে, সে উন্নতি করবে। সে এখনো তরুণ। খুবই নিবেদিত ছেলে। আমাদের ওকে সময় দিতে হবে এবং আশা করি খুব বেশি চাপ দেওয়া হবে না। ওকে বাড়ার সুযোগ দিন। আমরা এভাবেই ওকে সাহায্য করতে চাই।’

বিতর্ক তবু থামেনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এত বেশি আলোচনা হচ্ছিল যে ফারহান আখতারই মুখ খুললেন বিষয়টি নিয়ে। টুইটারে সবাইকে আরেকটু সহানুভূতি দেখাতে বলেছেন এই অভিনেতা, ‘আমার মনে হচ্ছে অর্জুন টেন্ডুলকার সম্পর্কে আমার কিছু বলা উচিত। আমরা দুজন একই জিমে যাই এবং আমি দেখি সে ফিটনেস নিয়ে কত কঠোর পরিশ্রম করে। ভালো ক্রিকেটার হওয়ার প্রতি কত মনোযোগ তার। ওর দিকে “স্বজনপ্রীতি” শব্দটা ছুড়ে দেওয়াটা অন্যায় এবং নিষ্ঠুরতা। ওর ক্যারিয়ার শুরু হওয়ার আগেই আগ্রহটা নষ্ট না করি বা ওকে নিচে না নামাই।’

সবাই যাই বলুক না কেন, মাঠে নেমে যতক্ষণ না নিজেকে প্রমাণ করছেন, ততক্ষণ ‘স্বজনপ্রীতি’র ট্যাগ লেগেই থাকবে অর্জুনের নামের পাশে। বিখ্যাত বাবার ছেলে হয়ে একই পেশা বেছে নেওয়ার অভিশাপ বলে কথা।

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন