দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে পাকিস্তানকে প্রথম টি–টোয়েন্টি জেতাতে ৫০ বলে অপরাজিত ৭৪ রান করেছেন মোহাম্মদ রিজওয়ান।
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে পাকিস্তানকে প্রথম টি–টোয়েন্টি জেতাতে ৫০ বলে অপরাজিত ৭৪ রান করেছেন মোহাম্মদ রিজওয়ান।ছবি: এএফপি

৪ বলে দুটি সিঙ্গেলে ২ রান—দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথম টি–টোয়েন্টিতে জয়ের জন্য ১৮৯ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে পাকিস্তানের ওপেনার মোহাম্মদ রিজওয়ানের শুরুটা ছিল খুব শ্লথ। টি–টোয়েন্টির সঙ্গে যেটি একদমই মানানসই নয়। ৩ ওভার শেষে পাকিস্তানের রান যখন ১৭, রিজওয়ান তখন ১৩ বলে ১০ রান। ১০২ বলে পাকিস্তানকে তখন জয়ের জন্য করতে হতো ১৭২ রান। সেই সময়ে যেন হুঁশে ফেরেন রিজওয়ান! হয়তো বুঝতে পারেন, এভাবে শম্বুকগতিতে এগোলে এ ম্যাচ জেতা সম্ভব নয়!

পরের ওভারের শেষ তিনটি বলই যেন এর প্রমাণ। তিন বলে দুটি চার ও একটি ছয়ে নিজের রানটা ১৬ বলে ২৪–এ নিয়ে যান রিজওয়ান। পাকিস্তানের রান বেড়ে ৪ ওভারে হয়ে যায় বিনা উইকেটে ৩৭। সেই যে শুরু করেছেন, কালকের ম্যাচে রিজওয়ান আর পেছন ফিরে তাকাননি। ৫০ বলে অপরাজিত ৭৪ রান করে দলকে ৪ উইকেটে জিতিয়েই মাঠ ছেড়েছেন রিজওয়ান। ম্যাচ শেষে তিনি জানিয়েছেন শুরুতে তাঁর শ্লথ ব্যাটিংয়ের রহস্য।

ফখর জামান—নিজের ম্যাচ জেতানো ইনিংসটি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে এই সতীর্থের নামটা সামনে নিয়ে এসেছেন রিজওয়ান। কাল তাঁর অসাধারণ ইনিংসটির প্রেরণা পাকিস্তানের ওয়ানডে ওপেনার ফখর জামানের দুটি ইনিংস। যে দুটি ইনিংস ফখর এবারের দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে ওয়ানডে সিরিজে উপহার দিয়েছেন। প্রথম ইনিংসটি ফখর খেলেছেন দ্বিতীয় ওয়ানডেতে। সেই ম্যাচে ১৫৫ বলে ১৯৩ রানের ইনিংস খেলেও অবশ্য দলকে জেতাতে পারেননি ফখর। পরের ম্যাচে তাঁর ১০৪ বলে ১০১ রানের ইনিংসটি পাকিস্তানকে ম্যাচ ও সিরিজ জেতাতে বড় ভূমিকা রেখেছে।

default-image
বিজ্ঞাপন

ফখরের দুটি ইনিংসের গতি–প্রকৃতি প্রায় একই রকম ছিল। শুরুটা করেছেন দেখেশুনে, ধীরেসুস্থে। উইকেটে থিতু হয়ে কমিয়েছেন বল আর রানের ব্যবধান। ফখরের ব্যাটিংয়ের এই ধরন মুগ্ধ করেছে রিজওয়ানকে। প্রথম টি–টোয়েন্টিতে রান তাড়া করতে নেমে ফখরের ওই দুটি ইনিংস তাঁর চোখের সামনে ভেসে উঠেছে। একটু কঠিন উইকেটে রান তাড়া করতে নেমে আগে থিতু হতে চেয়েছেন, এরপর বল আর রানের ব্যবধান ঘুচিয়ে দলকে ভালো কিছু উপহার দেবেন বলে মনস্থির করেছেন রিজওয়ান।

রিজওয়ানের সেই চাওয়া খুব ভালোভাবেই পূরণ হয়েছে। তাঁর অসাধারণ এই ইনিংসে ভর করেই শেষ ওভারে গড়ানো প্রথম টি–টোয়েন্টিতে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৪ উইকেটে হারিয়েছে পাকিস্তান। এই জয়ে টি–টোয়েন্টিতে রান তাড়ায় নিজেদের ক্রিকেট ইতিহাসে রেকর্ডও গড়েছে বাবর আজমের দল। ম্যাচ শেষে ম্যাচসেরা রিজওয়ান বলেছেন, ‘দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করার জন্য উইকেট একটু কঠিনই ছিল। কিন্তু পাওয়ার প্লেতে অধিনায়ক (বাবর আজম) আর আমি যেভাবে ব্যাটিং করেছি সেটা ভালো ছিল। ওয়ানডেতে ফখরের ইনিংসগুলো আমার মাথায় ছিল। এ ধরনের উইকেটে কীভাবে খেলতে হয়, সেটা ওই দুটি ইনিংসই বলে দেয়। শুরুতে কিছুটা সময় নিতে হবে থিতু হতে।’

default-image

শুধু যে উইকেট কঠিন ছিল, তা–ই নয়; রান তাড়া করতে নামায় হিসাব করে এগোনোর চাপও ছিল মাথায়। তবে সব চাপ জয় করে পাকিস্তানকে লক্ষ্যে পৌঁছে দিতে পেরে খুশি রিজওয়ান, ‘আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এমনিতেই সব সময় চাপ থাকে। এ ছাড়া ডাগআউট থেকে সব সময় বার্তা আসছিল। সামনে এগিয়ে যেতে বলা হচ্ছিল। এগুলো আমরা উপভোগই করি। এ ছাড়া মনে একটা সাহস ছিল যে লোয়ার অর্ডারে আমাদের ভালো কয়েকজন ব্যাটসম্যান আছে।’

ম্যাচ শেষে জয়ের কৃতিত্বের বেশির ভাগই রিজওয়ানকে দিয়েছেন পাকিস্তানের অধিনায়ক বাবর আজম, ‘প্রথম ম্যাচে জয় আমাদের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দেবে। ওয়ানডে সিরিজ জয়ের থেকেও আত্মবিশ্বাস সঞ্চয় করে নিয়েছি আমরা। রিজওয়ান অসাধারণ একটা ইনিংস খেলেছে। প্রথম ৬ ওভার আমাদের বোলিং খুব একটা ভালো হয়নি। তবে শেষ পাঁচ ওভারে আমরা ওদের সামলে রাখতে পেরেছি। আসলে পার্থক্য গড়ে দিয়েছে রিজওয়ানের ইনিংসটাই।’

default-image

দক্ষিণ আফ্রিকা দলের মূল তারকারা সব আইপিএল খেলতে ভারতে আছেন। পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে দল সাজানোই মুশকিল হয়ে গিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকার। কাল প্রথম টি-টোয়েন্টিতে প্রোটিয়া দলে অভিষেক হয়েছে তিনজনের। ভাঙাচোরা সেই দল নিয়েও ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৮৮ রান করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। স্বাগতিকদের ১৮৮ রানের ইনিংসে ফিফটি আছে ২টি। ৩২ বলে সর্বোচ্চ ৫১ রান করেছেন এইডেন মার্করাম। অথচ মার্করাম ছিলেন না টি-টোয়েন্টির প্রাথমিক দলেই। অন্যদের চোটের কারণেই শেষ মুহূর্তে দলে ঢোকা ওপেনার তিনটি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি খেলে কালই প্রথম ফিফটি পেলেন। ৮টি চার ও ১টি ছক্কা মেরেছেন মার্করাম। প্রোটিয়াদের হয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৫০ রান হাইনরিখ ক্লাসেনের। ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক ২৮ বলে ২ চার ও ৪ ছক্কায় করেছেন এ রান।

তবে ভাঙাচোরা প্রোটিয়া দলটি বোলিংয়ে আর ভালো করতে পারেনি। তারই মাশুল দিতে হয়েছে ম্যাচ হেরে। ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক ক্লাসেন অবশ্য শুধু বোলারদের নয়, দায় দেখছেন ব্যাটসম্যানদেরও, ‘আমরা ১০ থেকে ১৫টা রান কম করেছি। উইকেট ভালো ছিল। এইডেন আর আমার ভালো একটা পার্টনারশিপ হয়েছে। আর বোলিংয়ের সময় স্পিনাররা কিছু বাজে বল করেছে। ফিল্ডিংয়ে কিছু কিছু জায়গায় আমাদের আরও ভালো করতে হবে।’

বিজ্ঞাপন
ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন