দুটি নামকে একই কাতারে দেখে চমকে যেতে পারেন অনেকেই। আপাতদৃষ্টিতে দুজনের মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক নেই। আল আমিন বাংলাদেশের পেসার, মঈন খান পাকিস্তানের খেলোয়াড়ি অধ্যায় শেষ করেছেন আগেই। বর্তমানে তিনি পাকিস্তান ক্রিকেটের প্রধান নির্বাচক। অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড গিয়েছিলেন পাকিস্তানের বিশ্বকাপ অভিযানে, কর্মকর্তা হিসেবে। তবে একটি ক্ষেত্রে মিলে গেছে দুই দেশের এই দুটি নাম। ‘শৃঙ্খলাভঙ্গের’ দায়ে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে দুজনকেই।
মঈনের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে লজ্জাজনক পরাজয়ের কয়েক ঘণ্টা আগে তাঁকে দেখা গিয়েছিল ক্রাইস্টচার্চের এক জুয়ার আখড়ায় (ক্যাসিনো)! মঈন খান তাঁর কাছে এটি স্বীকারও করেছেন বলে জানিয়েছেন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান শাহরিয়ার খান, ‘মঈন সেখানে যাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। তবে তাঁর মতে তিনি স্ত্রী, বন্ধু ও বন্ধুপত্নীকে নিয়ে খেতে গিয়েছিলেন সেখানে। তিনি এখন তদন্ত কমিটির সামনে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করবেন।’ মঈনের ফিরে আসা দলের ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না বলেই আশা শাহরিয়ারের, ‘তাঁর ফিরে আসা দলের পারফরম্যান্সে কোনো প্রভাব ফেলবে না। কারণ, তিনি দলের কোনো সদস্য নন।’ মঈনকে বিশ্বকাপের আগে আগে দলের ম্যানেজার পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। সাবেক এই পাকিস্তান অধিনায়কের অবর্তমানে দলের বর্তমান ম্যানেজার নাভেদ চিমা সফরকালীন নির্বাচক কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
মাঠে কিংবা মাঠের বাইরে, সময়টা ভালো যাচ্ছে না পাকিস্তান ক্রিকেটের। বেঁধে দেওয়া সময়সীমার মধ্যে হোটেলে না ফেরায় আট খেলোয়াড়কে জরিমানা দিতে হয় বিশ্বকাপ শুরুর আগেই। ফিল্ডিং কোচ গ্রান্ট লুডেনের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েছিলেন সিনিয়র তিন ক্রিকেটার শহীদ আফ্রিদি, উমর আকমল ও আহমেদ শেহজাদ। তারপর চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত আর ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে লজ্জাজনক পরাজয়। ক্ষোভে ফুঁসছে পাকিস্তানের ভক্ত-সমর্থককুল। এর মধ্যে মঈন খানের শৃঙ্খলাভঙ্গের খবরটা আগুনে যে বাড়তি জ্বালানি জোগাবে, সন্দেহ তা নিয়ে সামান্যই।
পাকিস্তান দলে বিপদ যখন আসে, এমন করেই আসে! সূত্র: এএফপি, রয়টার্স।

বিজ্ঞাপন
ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন