বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

অবশ্য দল ব্যর্থতার সাগরে হাবুডুবু খেলেও এবার এখনো কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয়নি বাংলাদেশের কোচ রাসেল ডমিঙ্গোকে। সমালোচনার ‘পাল্টাপাল্টি ধাওয়া’ মূলত খেলোয়াড় বনাম সমালোচনাকারীদের মধ্যেই চলছে। দ্বিতীয় পক্ষের তালিকায় কখনো আসছে সংবাদমাধ্যম, কখনো বিসিবি, কখনোবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। আর ডমিঙ্গো বেশির ভাগ সময়ই ভূমিকা রাখছেন খেলোয়াড়দের ঢাল হয়ে।

বিশ্বকাপে এখনো দুটি ম্যাচ বাকি বাংলাদেশের, আবুধাবিতে যার প্রথমটি আজ দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। এ ম্যাচের আগেও খেলোয়াড়দের কাঁধে আস্থার হাত রাখছেন কোচ। কাল দুবাইয়ের আইসিসি ক্রিকেট একাডেমি মাঠে অনুশীলনের আগে শোনালেন আশার কথাও, ‘আমাদের জন্য বিশ্বকাপটা প্রায় শেষই হয়ে গেছে বলে খেলোয়াড়েরা হয়তো একটু হতাশ। তবে আমরা কালকের (আজ) ম্যাচের জন্য প্রস্তুত। ছেলেরা জানে বিশ্বকাপের এই পর্বটাও আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, তারা নিশ্চয়ই পরের দুই ম্যাচে উজ্জীবিত হয়ে উঠবে।’

default-image

এ দুই ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ দক্ষিণ আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়া। ডমিঙ্গো নিজে আজকের প্রতিপক্ষ দক্ষিণ আফ্রিকারই মানুষ, কাজ করছেন দক্ষিণ আফ্রিকা দলের সঙ্গেও। সে অভিজ্ঞতা থেকে জানেন, দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটসম্যানরা স্পিনের সামনে দুর্বল। আবুধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামের উইকেটে বাংলাদেশের স্পিনারদের সামনেও তারা ভুগবে বলেই কোচের বিশ্বাস।

কিন্তু বাংলাদেশের স্পিন আক্রমণে যে নেই আসল অস্ত্র সাকিব আল হাসানই! সাকিবের অনুপস্থিতিতে শুধু যে স্পিনই শক্তি হারাবে তা তো নয়, ডমিঙ্গোর মতে তাঁকে ছাড়া দলটা ভারসাম্যপূর্ণও থাকে না, ‘তাঁর নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা (অধিনায়ক না হয়েও) এবং সে দলের আবহটাও যে রকম শান্ত রাখতে পারে, আমরা সেটা মিস করব।’

সাকিব নেই, চোটে পড়া নুরুল হাসানেরও আজ খেলার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। বাংলাদেশ দলের জন্য আরেকটি বড় পরীক্ষাই সম্ভবত অপেক্ষা করছে আজ আবুধাবিতে। এ দুই ম্যাচ পরীক্ষা কোচ রাসেল ডমিঙ্গোর জন্যও। নয়তো বিসিবি যদি আবারও পুরোনো পথে হাঁটে, রসিকতার ছলে হলেও যেটার ইঙ্গিত দিয়েছেন ওই সাবেক কোচ।

default-image

অবশ্য ডমিঙ্গোর ক্ষেত্রে সে পথে হাঁটাটা কঠিনই হবে বিসিবির জন্য। দক্ষিণ আফ্রিকান কোচের সঙ্গে করা সর্বশেষ দুই বছরের চুক্তিতে যে একটি কঠিন শর্ত জুড়ে দেওয়া আছে! শর্তটা হলো, এ দুই বছরের মধ্যে চাকরিচ্যুত করা হলে পরের ছয় মাসের বেতন বুঝিয়ে দিয়েই তবে তাঁকে বিদায় করতে হবে। প্রসঙ্গত, নতুন চুক্তিতে ডমিঙ্গোর বেতন বেড়ে হয়েছে মাসে প্রায় ১৭ হাজার ডলার এবং তাঁর হয়ে এ টাকার কর শোধ করবে বিসিবিই।

১৭ হাজার ডলারের কোচ আপনাকে কী দিচ্ছেন, সেই প্রশ্ন তোলার আগে বিসিবি এবং বাংলাদেশের ক্রিকেটারদেরও একবার আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেদেরই প্রশ্ন করা উচিত— কোচের কাছ থেকে তাঁরাই বা কতটা নিতে পারছেন? এই পর্যায়ের ক্রিকেটে কোচদের ভূমিকা অনেকটাই ‘মেন্টরের’। কারও কোনো সহায়তা লাগলে নিশ্চয়ই তিনি সেটা করবেন, কিন্তু আসল কাজটা মাঠে ক্রিকেটারদেরই করতে হবে।

কথাটা কি কোনো কিছুর প্রতিধ্বনির মতো শোনাল? শোনাতেই পারে। এই বিশ্বকাপেই যে বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটাররা একাধিকবার বলেছেন, ‘মাঠে তো আমরাই খেলি!’

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন