শেষ ওভারের রোমাঞ্চের পর আবাহনীর জয়

আরেকটি জয় আবাহনীর।ছবি: প্রথম আলো

ব্যাটিং-ধ্বস, দুর্দান্ত বোলিং, ফিল্ডিং-ব্যর্থতা এবং আম্পায়ারিং-বিতর্কের পর শেষ ওভারে রোমাঞ্চকর সমাপ্তি। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে আজ আবাহনী-গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সের সুপার লিগের ম্যাচে এর সবই ছিল। ১৩০ রানের ম্যাচও তাই হলো উত্তেজনাপূর্ণ। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচে শেষ পর্যন্ত আবাহনী জিতেছে ১ উইকেটে।

ম্যাচ জিততে শেষ ওভারে আবাহনীর দরকার ছিল ৯ রান, হাতে ছিল ১ উইকেট। ক্রিজে থাকা তানজিম হাসান ও মেহেদী হাসান মূলত বোলার। গাজী গ্রুপের অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ শেষ ওভারে দায়িত্বটা দেন বাঁহাতি স্পিনার নাসুম আহমেদকে। যাকে খেলাটা ডানহাতি তানজিমের জন্য কঠিন হলেও বাঁহাতি মেহেদীর জন্য খুব একটা কঠিন মনে হচ্ছিল না। বলের বাঁক ব্যবহার করে ওভারের দ্বিতীয় বলেই মেহেদী চার মেরে দিলে আবাহনীর ড্রেসিংরুম থেকে ভেসে আসতে থাকে উল্লাসধ্বনি। ম্যাচটা যেন সেখানেই জিতে গেছে আবাহনী!

নাজমুল আবাহনীকে ম্যাচে রেখেছেন।
ছবি: প্রথম আলো

শেষ পর্যন্ত সেটিই হয়েছে। পরের বলে মেহেদী আউট হয়ে গেলেও আরেক বাঁহাতি আরাফাত সানি ও তানজিম মিলে পরের দুই বলে দৌড়ে তিন রান নিলে এক বল বাকি থাকতেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় আবাহনী। পেন্ডুলামের মতো দুলতে থাকা ম্যাচে শেষ হাসি হেসেছে আবাহনীই।

এর আগপর্যন্ত মনে হচ্ছিল, ম্যাচে জিততে পারে যে কেউই। আবাহনীর ইনিংসের ১৯তম ওভারের চতুর্থ বলে ৪৯ বলে ৫৮ রান করা নাজমুল হোসেনকে দুর্দান্ত ইয়র্কারে বোল্ড করলেন গাজীর পেসার মুকিদুল। ওই ওভারেরই শেষ বলে যে ড্রাইভ খেললেন মেহেদী, সেটিতে এক বা দুই রান হওয়াটাই ছিল স্বাভাবিক। কিন্তু লং অন বাউন্ডারিতে থাকা ফিল্ডার মেহেদী হাসান বল না ধরেই থ্রো করতে গিয়ে দিয়ে দিলেন ৪। লং অফে অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ তখন রাগে রীতিমতো কাঁপছিলেন। এই বাজে ফিল্ডিংটা না হলে শেষ ওভারে আবাহনীর দরকার পড়ত ১১ রান। কাজটা তখন আরও কঠিন হতে পারত তাদের জন্য।

এই সিদ্ধান্ত বিতর্ক জন্ম দিয়েছে।
ছবি: প্রথম আলো

মুকিদুলের করা ওই ওভারের প্রথম বলে কিছুটা উত্তেজনাও ছড়িয়েছিল মাঠে। বাঁহাতি নাজমুলের বিপক্ষে রাউন্ড দ্য উইকেটে বল করে ওয়াইড ইয়র্কার করার চেষ্টা করেছিলেন মুকিদুল। আম্পায়ার সীমানা ছুঁয়ে যাওয়া বলটিতে ওয়াইড দিলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মুকিদুল। অবাক হওয়ার ভঙ্গি করেন উইকেটকিপার আকবর আলীও।

পয়েন্ট থেকে সৌম্য সরকার বলতে থাকেন, ‘রিপ্লে দেখেন, রিপ্লে!’ এ সময় লং অন থেকে আম্পায়ার তানভীরের দিকে তেড়ে যেতে থাকেন ক্ষুব্ধ মাহমুদউল্লাহ। স্কয়ার লেগ থেকে আরেক আম্পায়ার মাসুদুর রহমান এসে তাঁকে থামান। ওভার শেষ হওয়ার পর অবশ্য তানভীরের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই কথা বলতে দেখা গেছে মাহমুদউল্লাহকে।

ব্যর্থ হয়েছেন মুশফিক।
ছবি: প্রথম আলো

মুকিদুলের প্রথম স্পেলটাও ছিল ঘটনাবহুল। মাঝের ওভারে বোলিংয়ে এসে দুর্দান্ত আউটসুইংয়ে তিনি ফিরিয়ে দেন আবাহনীর মূল ব্যাটিং–স্তম্ভ মুশফিকুর রহিমকে। সে ওভারেই প্রায় একইভাবে কিপার আকবরের গ্লাভসবন্দী করেন মোসাদ্দেক হোসেনকেও। আরেক প্রান্তে দাঁড়িয়ে সতীর্থদের আসা-যাওয়া দেখছিলেন নাজমুল। জুটি গড়ার মতো কাউকেই পেলেন না তিনি। তারপরও তাঁর ৫৮ রানের ইনিংসেই আবাহনী একটু একটু করে এগিয়ে গেছে গাজী গ্রুপের দেওয়া লক্ষ্যের দিকে।

আগে ব্যাট করা গাজী গ্রুপের কেউই ফিফটির দেখা পাননি। সৌম্যর ২৪ বলে ৩০ রানই সর্বোচ্চ। মুমিনুল হক শেষের দিকে ১২ বলে ২৫ রান যোগ না করলে গাজীর রান ১০০–ও হতো কি না, সন্দেহ! আবাহনীর পেসাররা ছিলেন এককথায় দুর্দান্ত। সাইফউদ্দিন ৪ ওভারে ৪ উইকেট নিয়েছেন মাত্র ১৮ রানে। তানজিম ২.১ ওভার বল করে নেন ২ উইকেট। মেহেদীর উইকেট ৩টি। এ নিয়ে গত পাঁচ ম্যাচের মধ্যে চারটিতেই ৩টি করে উইকেট নিয়েছেন এই বাঁহাতি পেসার।