শেষ ওভারে রশিদ–তেওয়াতিয়ার চার ছক্কায় শীর্ষে গুজরাট
আইপিএলে কাল গুজরাট টাইটানস ও সানরাইজার্স হায়দরাবাদের ম্যাচটা মূলত ছিল পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে ওঠার লড়াই। উমরান মালিকের দুর্দান্ত বোলিংয়ের পরও সে লড়াইয়ে জিততে পারেনি হায়দরাবাদ। শেষ ওভারের রোমাঞ্চে হায়দরাবাদকে ৫ উইকেটে হারিয়ে শীর্ষে উঠেছে গুজরাট। ৮ ম্যাচে ১৪ পয়েন্ট তাদের। সমান ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে রাজস্থান রয়্যালস। ৮ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে হায়দরাবাদ আছে আগের তৃতীয় স্থানেই।
টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ২৬ রানেই অধিনায়ক কেইন উইলিয়ামসনকে হারায় হায়দরাবাদ। এর পরও ওপেনার অভিষেক শর্মা ও মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান এইডেন মার্করামের অর্ধশতকের আর শেষ দিকে শশাঙ্ক সিংয়ের ঝোড়ো ইনিংসে ৬ উইকেটে ১৯৫ রান করে দলটি । রান তাড়া করতে নেমে মাঝে একটা ধাক্কা খেলেও শেষ ওভারে তেওয়াতিয়া ও রশিদের চার ছক্কায় ম্যাচ জিতেছে গুজরাট।
দুই ভারতীয় ওপেনারের ঋদ্ধিমান সাহা ও শুবমান গিলের ভালো ব্যাটিংয়ে ৮ ওভার পর্যন্ত উড়ছিল গুজরাট। ওভারপ্রতি আটের চেয়ে বেশি রান তুলছিলেন তাঁরা। জুটি ভাঙে অষ্টম ওভারের চতুর্থ বলে গিল ২২ রান করে উমরানের বলে আউট হয়ে ফিরলে। এর আগে দুজনে মিলে তুলেছেন ৬৯ রান। এরপর দলের ৮৫ রানে আউট হয়ে ফেরেন হার্দিক পান্ডিয়া। ১০ রান করা পান্ডিয়াকেও শিকার করেছেন উমরান।
পান্ডিয়ার আউটের পর ডেভিড মিলারকে নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিলেন ঋদ্ধিমান। তৃতীয় উইকেট জুটিতে ২৪ বলে ৩৭ রান তুলে ফেলেন তাঁরা। সেই সময়ে মনে হচ্ছিল জিতেই যাবে গুজরাট। কিন্তু আবার আঘাত হানেন উমরান। তুলে নেন ঋদ্ধিমানকে। এরপর নিজের শেষ ওভারে এসে পরপর দুই বলে মিলার ও অভিনবকে ফিরিয়ে হায়দরাবাদকে ম্যাচে ফেরান উমরান। ৪ ওভারে ২৫ রান দিয়ে ৫ উইকেট নিয়েছেন তিনি। এবারের আইপিএলে এ নিয়ে ভারতীয় পেসারের উইকেট হলো ১৬টি। সতীর্থ নটরাজনের সঙ্গে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে আছেন তিনি। সর্বোচ্চ ১৮ উইকেট রাজস্থান রয়্যালসের স্পিনার যুজবেন্দ্র চাহালের।
১৪০ রানে ৫ উইকেট হারায় গুজরাট। ২৪ বলে গুজরাটের তখন জয়ের জন্য রান প্রয়োজন ছিল ৫৬। রশিদ খানকে নিয়ে লক্ষ্যের দিকে ছুটতে শুরু করেন রাহুল তেওয়াতিয়া। ছুটতে ছুটতে শেষ ওভারে এসে গুজারাটের দরকার পড়ে ২২ রান। ইয়ানসেনের প্রথম বলেই ছক্কা মারেন তেওয়াতিয়া। দ্বিতীয় বলে ১ রান নেন তিনি। তৃতীয় বলে ছক্কা মারেন রশিদ, পরের বলে কোনো রান পাননি। পঞ্চম বলে আবার ছক্কা মারেন আফগানিস্তানের অলরাউন্ডার। শেষ বলের হিসেব দাঁড়ায় ৩ রানের। ইয়ানসেনের শেষ বলে ছক্কা মেরে গুজরাটকে শীর্ষে তোলেন রশিদ। ম্যাচ শেষে তেওয়াতিয়া অপরাজিত ছিলেন ২১ বলে ৪০ রানে। রশিদ ১১ বলে করেছেন অপরাজিত ৩১ রান।
এর আগে অভিষেক ৪২ বলে ৬ চার ও ৩ ছয়ে করেছেন ৬৫ রান। মার্করাম ৫৬ রান করেছেন ৪০ বলে, দুই চার ও তিন ছয়ে। সাত নম্বরে ব্যাট করতে নামা শশাঙ্ক ৬ বলে করেছেন অপরাজিত ২৫ রান (১ চার ও ৩ ছয়)।