বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

১২৭ রান তাড়ায় পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপের অন্যতম বড় শক্তি ওপেনিং জুটি ভেঙেছে তৃতীয় ওভারে। মোস্তাফিজের ভেতরের দিকে ঢোকা দারুণ এক ডেলিভারিতে বোল্ড মোহাম্মদ রিজওয়ান।

চতুর্থ ওভারে তাসকিন আহমেদের বলে বাবর আজম আউট হতে পারতেন তৃতীয় বলেই, বাবরের কট-বিহাইন্ডের রিভিউ নেয়নি বাংলাদেশ। সেটার মাশুল অবশ্য দিতে হয়েছে মাত্র ৪ রানই। তাসকিনের নিচু হওয়া বলে ইনসাইড-এজে বোল্ড হয়েছেন বাবর দুই বল পরই, ২২ রানেই দুই ওপেনারকে হারিয়ে ফেলে পাকিস্তান।

default-image

গত এপ্রিলের পর প্রথমবার আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে নামা হায়দার আলীকে বেশিক্ষণ টিককে দেননি মেহেদী। এই অফ স্পিনারকে সুইপ করতে গিয়ে এলবিডব্লু হয়েছেন হায়দার, মুখোমুখি তৃতীয় বলেই। রিভিউ নিয়েও বাঁচেননি তিনি। পাওয়ারপ্লের শেষ ওভারে গিয়ে বাংলাদেশ পেয়েছে চতুর্থ উইকেট। ছেলেমানুষি ভুলে রানআউট হয়েছেন শোয়েব মালিক, তাতে অবশ্য কৃতিত্ব আছে নুরুলের তীক্ষ্ণতারও।

মোস্তাফিজের বলে ঠিকঠাক টাইমিং করতে না পেরে রানের জন্য একটু এগিয়েছিলেন, তবে ক্রিজে ফেরার পর্যাপ্ত সময় ছিল মালিকের হাতে। সেটা না করে ‘শ্যাডো’ করছিলেন তিনি। যতক্ষণে সজাগ হয়ে ব্যাট ঠেকিয়েছেন, নুরুলের থ্রো এর আগেই ভেঙেছে স্টাম্প।

খুশদিল শাহ ও ফখর জামান এরপর চেষ্টা করেছেন ইনিংস পুনর্গঠনের। পাওয়ারপ্লের পরের ৪ ওভারে উঠেছে ২৪ রান, এরপর গিয়ার আরেকটু বদলানোর চেষ্টা করেছেন দুজন। শেষ পর্যন্ত দুজনের ৫০ বলে ৫৬ রানের জুটি ভেঙেছেন নিজের শেষ ওভার করতে আসা তাসকিন।

৩৬ বলে ৩৪ রান করে আউটসাইড-এজড হয়ে ফিরেছেন ফখর। ক্রিজে দুই বাঁহাতির উপস্থিতিতে লেগস্পিনার আমিনুল ইসলামকে বোলিংয়েই আনেননি মাহমুদউল্লাহ। নিজে এ সময়ে করেছেন ৩ ওভার, প্রথম ২ ওভারে ৯ রান দিলেও তৃতীয় ওভারে দিয়েছেন ১০ রান। পঞ্চম বোলারের আরেক ওভারের হিসাব-নিকাশ অবশ্য খুব বেশি জটিল হয়নি শেষ পর্যন্ত মাহমুদউল্লাহর জন্য।

default-image

শেষ ৩০ বলে প্রয়োজন ছিল ৪৬ রান, মোস্তাফিজ ও শরীফুলের পরপর দুই ওভারে দুটি চার মেরে সে ব্যবধান একটু কমানোর চেষ্টা করেছিলেন খুশদিল। অবশ্য শরীফুলের করা ১৭তম ওভারে ফিরতে হয় তাঁকে। অফস্টাম্পের বাইরের বলে ব্যাট চালিয়ে কট-বিহাইন্ড হয়েছেন তিনিও, তাঁর স্ট্রাইক রেটও পেরোয়নি ১০০, করেছেন ৩৫ বলে ৩৪ রান। এরপর শেষ ৩ ওভারে প্রয়োজন ছিল ৩২ রান।

তবে মোস্তাফিজের করা ১৮তম ওভারের প্রথম ৩ বলে মারা চার-ছয় মেরেই যেন ম্যাচটা বাংলাদেশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে গেলেন শাদাব। সে ওভারে এল ১৫ রান, এরপরের ওভারে শরীফুলকে মারা নওয়াজের দুই ছয়ে এল আরও ১৫। শেষ ওভারে নিজের প্রথমটি করতে এলেন আমিনুল ইসলাম। তবে ততক্ষণে সেটি হয়ে পড়েছে নিয়মরক্ষারই।

অবশ্য বোলাররা বলতেই পারেন, এ সংগ্রহ নিয়ে এমন লড়াইটাও মন্দ নয়! তাতে অবশ্য ম্যাচের মোমেন্টাম ধরে রাখার ব্যাপারটা উপেক্ষা করা হয়। তবে টসে জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে বাংলাদেশের শুরুর দিকের ব্যাটসম্যানরা ভুগেছেনই শুধু। বিশ্বকাপের পর বাংলাদেশের টপ অর্ডারে পরিবর্তন এসেছে ঠিকই, তবে চেহারাটা থেকেছে বিবর্ণই।

ওপেনিংয়ে নামা অভিষিক্ত সাইফ হাসান ও বেশ লম্বা বিরতির পর আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ফেরা নাজমুল হোসেনকে মনে হয়েছে অপ্রস্তুতই। বাংলাদেশের উইকেটের শুরুটা অবশ্য মোহাম্মদ নাঈমকে দিয়ে, হাসান আলীর অফস্টাম্পের বেশ বাইরের বল তাড়া করতে গিয়ে উইকেটকিপার মোহাম্মদ রিজওয়ানের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরার পর।

default-image

সাইফ যেটুকু সময় ক্রিজে ছিলেন, ভুগেছেন। মোহাম্মদ ওয়াসিমের বলে যেভাবে ব্যাট আর পা আটকে গিয়ে কট-বিহাইন্ড হলেন, সেটাও অস্বস্তিকর। ৮ বলে ১ রান করেই ফিরতে হয়েছে এই ডানহাতিকে। নাজমুল করেছেন ১৪ বলে ৭ রান। ওয়াসিমকে জায়গা বানিয়ে খেলতে গিয়ে খাড়া ওপরে তুলেছেন বল, তাতেই যেন ‘মুক্তি’ মিলেছে তাঁর। ১৫ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে এলোমেলো বাংলাদেশের সামনে এরপর ছিল দীর্ঘ পথ, তবে সেটা পাড়ি দেওয়া হয়নি মাহমুদউল্লাহর।

আফিফের সঙ্গে তাঁর জুটিতে উঠেছে ২৫ রান, তবে বাংলাদেশ অধিনায়কের অবদান সেখানে ১১ বলে ৬ রান। মোহাম্মদ নওয়াজের তীক্ষ্ণ টার্ন বুঝে উঠতে পারার আগেই বোল্ড হয়েছেন তিনি।

পাওয়ারপ্লের শেষ ওভারে গিয়ে প্রথম বাউন্ডারি পেয়েছে বাংলাদেশ, প্রথম ১০ ওভারে বাউন্ডারি এসেছে মাত্র দুটি। এরপর ১১তম ওভারে গিয়ে নওয়াজকে টানা দুটি ছয় মেরেছেন আফিফই। এক ওভার পর শাদাব খানের দ্রুতগতির গুগলিটা মিস করে স্টাম্পিং হওয়ার আগে তিনি করেছেন ৩৪ বলে ৩৬ রান, অনুমিতভাবেই বাংলাদেশ ইনিংসে সর্বোচ্চ যেটি। ১৪.২ ওভার পর্যন্ত বাংলাদেশ ইনিংসের সব কটি বাউন্ডারিই এসেছে আফিফের ব্যাট থেকে।

default-image

৬১ রানে ৫ উইকেট হারানোর পরও বাংলাদেশ যে ১২৭ পর্যন্ত গেছে, তাতে মূল অবদান নুরুল হাসান ও মেহেদী হাসানের। দুজনই মেরেছেন দুটি করে ছয়, মেহেদী সঙ্গে মেরেছেন একটি চারও। ১৭তম ওভারে ২২ বলে ২৮ রান করে হাসান আলীর বলে ক্যাচ দিয়েছেন নুরুল, মেহেদী শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ছিলেন ২০ বলে ৩০ রানে। ইনিংসের শেষ ওভারের প্রথম বলে হারিস রউফকে স্কুপ করে ছয় মেরেছেন মেহেদী, শেষ বলে গিয়ে পুল করে আরেকটি মেরেছেন তাসকিন। শেষ ওভারে উঠেছে ১৫ রান, শেষ ৬ ওভারে বাংলাদেশ তুলেছে ৬০ রান।

ব্যাটিংয়ের শেষের ওই মোমেন্টাম বোলিংয়ের শুরুতে ধরে রেখেছিল বাংলাদেশ। তবে শেষ পর্যন্ত আরেকটি পেয়েও হারানোর গল্পই দেখেছেন ২০২০ সালের মার্চের পর বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মাঠে ফেরা দর্শকেরা।

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন