default-image

ক্রিকেট মাঠে অভিজ্ঞতার মূল্য অনেক। আজ ব্রিসবেনে আইরিশদের বিপক্ষে খেলতে নেমে এ ব্যাপারটি ভালো​ভাবেই বুঝল আরব আমিরাত। আগে ব্যাট করে নিজেদের বেঁধে দেওয়া ২৭৯ রানের লক্ষ্যমাত্রাটা আয়ারল্যান্ড যেভাবে ছুঁয়ে ফেলল, তাকে অভিজ্ঞতার জয় বললে খুব বেশি বাড়িয়ে বলা হয় না। আমিরাতের দুর্ভাগ্য, দুর্দান্ত ব্যাট করে স্কোরবোর্ডে ২৭৮ রান তোলার পরেও জয়ের গৌরবটা অনুভব করতে পারল না। দারুণ এ জয়ে আয়ারল্যান্ড আবারও প্রমাণ করে দিল, এবারের বিশ্বকাপে প্রতিপক্ষগুলোর জন্য কতটা ভয়ংকর দল তারা।
আইরিশদের আজকের জয়ে একটি নাম নিতেই হচ্ছে—কেভিন ও’ব্রেইন। ব্রিসবেনে তিনি আজ ফিরিয়ে এনেছিলেন চার বছর আগের বেঙ্গালুরুর স্মৃতি। ২০১১ বিশ্বকাপে ইতিহাসের অন্যতম দ্রুততম সেঞ্চুরিটি করে তিনি দেশকে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এনে দিয়েছিলেন অবিস্মরণীয় এক জয়। আজ আমিরাতের বিপক্ষে তাঁর ইনিংসটি চার বছর আগের উচ্চতার না হলেও ২৫ বলে ৫০ করে তিনি জয়ে রেখেছেন দুর্দান্ত ভূমিকা। মূলত তাঁর ইনিংসেই আয়ারল্যান্ডের পক্ষে সম্ভব হয়েছে ক্রমশ কঠিন হয়ে যাওয়া জয়ের লক্ষ্যটা সহজেই ছুঁয়ে ফেলা।
কেবল কেভিনই নন, আয়ারল্যান্ডের জয়ে দারুণ অবদান গ্যারি উইলসনেরও। তাঁর ৬৯ বলে করা ৮০ রানের ইনিংসটি গড়ে দিয়েছে জয়ের ভিত্তি। তাঁর অনবদ্য ইনিংসটির গড়ে যাওয়া ভিতের ওপর দাঁড়িয়েই মূলত ব্যাট ঘুরিয়ে গেছেন কেভিন ও’ব্রেইন। ভিত গড়ার কাজে হাত লাগিয়েছিলেন অধিনায়ক উইলিয়াম পোর্টারফিল্ড ও এড জয়েসও (দুজনই করেছেন ৩৭)
এড জয়েস অবশ্য নিজেকে কিছুটা সৌভাগ্যবান ভাবতেই পারেন। ব্যক্তিগত ১৬ রানের সময় তিনি ‘বোল্ড’ হয়েও বেঁচে যান ভাগ্যের গুণে। আমজাদ জাভেদের একটি ডেলিভারিতে বল তাঁর স্টাম্পে আঘাত করলেও বেল পড়েনি। সেই জয়েস শেষ পর্যন্ত ৩৭ রান করেন।
আগের ম্যাচেও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ২৮৫ রান করেও ম্যাচ হারতে হয়েছে আরব আমিরাতকে। সাবেক পাকিস্তানি ফাস্ট বোলার আকিব জাভেদ যে দলের কোচ, সে দলের বোলিং লাইন আপটি নিয়ে চিন্তার যে যথেষ্ট কারণ আছে, সেটা বিশ্বকাপে আমিরাতের প্রথম দুই ম্যাচেই প্রমাণিত হয়ে গেছে। এ দলটির বোলিংয়ের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা যে বৈচিত্র্য না থাকা। পেস বোলিংয়ে মোটামুটি মান থাকলেও ভালো স্পিনার কিংবা স্লো বোলারের অভাবেই দুটি ম্যাচেই তারা প্রতিপক্ষকে সুযোগ দিয়েছে বড় রান তাড়া করার। ১৯ বছর পর বিশ্বকাপ খেলতে আসা আরব আমিরাতের অভিজ্ঞতার ঝুলিতে এ ব্যাপারটি বেশ অমূল্য সংযোজনই।
দলীয় মাত্র ৪ রানে প্রথম উইকেট হারিয়ে বসা আয়ারল্যান্ডকে পথে ফেরান পোর্টারফিল্ড। কিন্তু এরপর বেশ দ্রুতই তিন উইকেট হারিয়ে পথ প্রায় হারিয়েই বসেছিল তারা। পঞ্চম উইকেট জুটিতে অ্যান্ডি বলবার্নি ও পোর্টারফিল্ড যোগ করেন ৭৪ রান। ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে গ্যারি উইলসনকে সঙ্গে নিয়ে কেভিন ও’ব্রেইন যোগ করেন আরও ৭২ রান। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, এই জুটি ওভারপ্রতি ১২ করে রান তুলে ২৭৯ রানের লক্ষ্যমাত্রাটাকে দারুণভাবে নিয়ে আসেন হাতছোঁয়া দূরত্বে।
আরব আমিরাত আয়ারল্যান্ডের ৮ উইকেট ফেলতে পারলেও তাদের সর্বনাশটা মূলত করেছেন ওই উইলসন-কেভিন ও’ব্রেইন জুটিই। এই জুটি এতটা হাতখোলার সুযোগটা না পেলে খেলাটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হলেও শেষ পর্যন্ত জয় পেত আমিরাতই।
যাহোক, আমিরাতের পক্ষে আমজাদ জাভেদই সেরা বোলার—৩ উইকেট নিতে তিনি খরচ করেছেন ৬০ রান। দুটি করে উইকেট মোহাম্মদ নাভিদ ও মোহাম্মদ তৌকিরের। মঞ্জুলা গুরুগের দখলে গেছে একটি উইকেট। সূত্র: স্টারস্পোর্টস।

বিজ্ঞাপন
ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন