দক্ষিণ আফ্রিকাকে প্রথম ইনিংসে বেশি দূর যেতে দেননি পাকিস্তানের বোলাররা।
দক্ষিণ আফ্রিকাকে প্রথম ইনিংসে বেশি দূর যেতে দেননি পাকিস্তানের বোলাররা।ছবি: এএফপি

শেষ দিকে কাগিসো রাবাদার ব্যাটেই ২০০ পার হলো দক্ষিণ আফ্রিকা। ১৯৫ রানে ৯ উইকেট হারিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা দলে যখন দিনের বাকি সময়টা বোলিং কীভাবে হবে, তারই ভাবনা-চিন্তা, ঠিক সময়ই ‘বোলার’ রাবাদার ব্যাট থেকে এল ২১টি রান।

তাতেই করাচি টেস্টে নিজেদের প্রথম ইনিংসে স্কোরবোর্ডে কোনোরকমে ২২০ রান তুলতে পেরেছে দক্ষিণ আফ্রিকা।

১৪ বছর পর পাকিস্তান সফর করছে দক্ষিণ আফ্রিকা। টেস্ট ক্রিকেটে ২৬ জয়ের বিপরীতে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রোটিয়ারা হেরেছে মাত্র ৪টি টেস্ট। কিন্তু এক যুগের বেশি সময় পর পাকিস্তানে পা দিয়েই এবার বিপর্যস্ত দক্ষিণ আফ্রিকা।

বিজ্ঞাপন

টসে জিতে প্রথমে ব্যাটিং করতে নেমেই পাকিস্তানের বোলিংয়ে দিশেহারা হয়ে পড়ে কুইন্টন ডি ককের দল। ইয়াসির শাহর ঘূর্ণি তো ছিলই, সঙ্গে যুক্ত হলো আজই অভিষেক হওয়া বাঁহাতি স্পিনার নোমান আলীর ছোবল।

এই দুইয়েই কাবু দক্ষিণ আফ্রিকান ব্যাটসম্যানরা। ৫ উইকেট ভাগ করে নিলেন তাঁরা দুজন। সফরকারী দলের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে বলার মতো রান শুধু ওপেনার ডিন এলগারের ৫৮, জর্জ লিন্ডের ৩৫ আর ফাফ ডু প্লেসির ২৩। রাবাদার ২১ তো গুরুত্বপূর্ণই।

শুরুতেই আঘাত হেনেছিলেন বাঁহাতি ফাস্ট বোলার শাহীন শাহ আফ্রিদি। দিনের পঞ্চম ওভারেই তাঁর বলে স্লিপে আরেক অভিষিক্ত ইমরান বাটকে ক্যাচ দেন এইডেন মার্করাম। এরপর রানআউট হন রাসি ফন ডার ডাসেন। রানআউটের ফাঁদে পড়েছেন টেম্বা বাভুমাও।

default-image

২ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর ফাফ ডু প্লেসিকে সঙ্গে নিয়ে এলগার ৪৫ রানের একটা জুটি গড়েছিলেন। কিন্তু বেশি দূর টানতে পারেননি। দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংসে সেটিই সর্বোচ্চ রানের জুটি।

ডু প্লেসিকে ইয়াসির শাহ উইকেটের পেছনে মোহাম্মদ রিজওয়ানের সহায়তায় তুলে নেওয়ার পর থেকেই মূল বিপর্যয়ের শুরু। কিছুক্ষণ পরই নোমান আলীর বলে মিড উইকেটে ক্যাচ দেন অধিনায়ক কুইন্টন ডি কক।

এরপর নিয়মিতই উইকেট হারিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। ১৩৩ রানের মাথায় ডি কক ফেরার পর ১৩৬-এ ফেরেন উইকেটে থিতু হয়ে পড়া ব্যাটসম্যান এলগার।

এরপর বাভুমা আর জর্জ লিন্ডের একটু ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা। ৪২ রানের জুটি শেষ হয় বাভুমার রানআউটে। দক্ষিণ আফ্রিকার রান তখন ৬ উইকেটে ১৭৯।

কেশব মহারাজ ইয়াসির শার বলে বোল্ড হন দলীয় সংগ্রহে কোনো রান যোগ না করেই। সেখান থেকে ২২০ পর্যন্ত যেতে যেতেই শেষ দক্ষিণ আফ্রিকার বাকি ৩ উইকেট।

default-image

পাকিস্তানি বোলারদের মধ্যে সেরা ইয়াসির শাহ। ২২ ওভার বোলিং করে ৫৪ রান দিয়ে তিনি তুলে নিয়েছেন ৩ উইকেট। নোমান আলী ১৭ ওভার বোলিং করে মাত্র ৩৮ রান দিয়েছেন, তাঁর উইকেট ২টি। জোড়া উইকেট নিয়েছেন শাহীন আফ্রিদিও। ডানহাতি পেসার হাসান আলীর উইকেট একটি।

প্রথম ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে পাকিস্তানও স্বস্তিতে প্রথম দিনের খেলা শেষ করতে পারেনি।

৪ উইকেটে ৩৩ রান তুলে দিনের খেলা শেষ করেছে পাকিস্তান। আউট হয়ে ফিরেছেন আবিদ আলী, ইমরান বাট, বাবর আজম ও শাহীন শাহ আফ্রিদি। ২ উইকেট কাগিসো রাবাদার। ১টি করে উইকেট আনরিখ নর্তিয়ে ও কেশব মহারাজের। প্রোটিয়াদের প্রথম ইনিংস থেকে এখনো ১৮৭ রানে পিছিয়ে পাকিস্তান।

বিজ্ঞাপন
ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন