তাসকিনরা শেষ সেশনে ভালোই করেছেন।
তাসকিনরা শেষ সেশনে ভালোই করেছেন।ছবি: এএফপি

গতকাল আলোকস্বল্পতা খেলা এগোতে দেয়নি বেশি। আজ দিনের শেষ ভাগেও আচমকা ছায়া পড়ে গেল মাঠে। এর মাঝেও ইবাদত হোসেন ভালো গতির শর্ট বল করে শ্রীলঙ্কান ব্যাটসম্যানদের ধৈর্য পরীক্ষা করছিলেন।

ধৈর্যের সে পরীক্ষায় ফেল করেছিলেন দুই ব্যাটসম্যান দিমুথ করুনারত্নে ও ধনঞ্জয়া ডি সিলভা। প্রথমে ক্যাচ দিয়েছিলেন করুনারত্নে, এরপরই ধনঞ্জয়া। ইবাদতের দুর্ভাগ্য, কোনোবারই ভাগ্যকে পক্ষে পেলেন না। প্রথমে করুনারত্নের পুল শরীর বরাবর আসছে দেখে চোখ সরিয়ে নিয়েছিলেন সাইফ হাসান। ফলে মিসহিট হয়ে বলটা যে তাঁর একদম হাতে এসে পড়ত, সেটা বুঝতে পারেননি বাংলাদেশি ফিল্ডার। আর ইবাদতের বলে ওঠা ধনঞ্জয়ার ক্যাচ ধরার জন্য দ্বিতীয় স্লিপে কোনো ফিল্ডার রাখেননি বাংলাদেশের অধিনায়ক।

এসব হতাশার পরও তৃতীয় দিনের বিকেলটা বাংলাদেশ দলের। প্রথম দিন থেকেই ব্যাটিং স্বর্গ মনে হওয়া উইকেট চরিত্র বদলায়নি আজও। এমন উইকেটে দুই শ পেরোনোর আগে স্বাগতিক দলের ৩ উইকেট ফেলে দেওয়া প্রশংসনীয় কীর্তি। পড়ে আসা আলোয় আসা সুযোগগুলো বাংলাদেশ কাজে লাগাতে না পারায় ৩ উইকেটে ২২৯ রান করেছে শ্রীলঙ্কা। ৭ উইকেটে ৫৪১ রানে ইনিংস ঘোষণা করা বাংলাদেশ এখনো এগিয়ে আছে ৩১২ রানে।

বিজ্ঞাপন
default-image

চা–বিরতির ঠিক আগের বলে বাংলাদেশের মুখে হাসি ফুটিয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। শ্রীলঙ্কার উদ্বোধনী জুটিকে সেঞ্চুরি পার করার পরই থামিয়ে দেওয়ার সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু লাহিরু থিরিমান্নের বিরুদ্ধে জোরালো আবেদনে আম্পায়ার আউট দেননি। বাংলাদেশও সাহস করে রিভিউ নেয়নি। টিভি রিপ্লে দেখিয়েছে, রিভিউ নিলেই আউট হয়ে যেতেন থিরিমান্নে।

বাংলাদেশের সৌভাগ্য, এরপর জুটিতে রান বাড়লেও থিরিমান্নে ওই ৫৮ রানেই ফিরে গেছেন মিরাজের বলে। পুরো এক সেশনে হতাশা কাটিয়ে দেওয়া সেই আউট স্বস্তি নিয়ে ড্রেসিংরুমে ফিরতে দিয়েছে বাংলাদেশ। বিরতি শেষে বোলিংয়ে তারই ছাপ থাকল। অবশ্য বাংলাদেশের পাওয়া দুই উইকেটেই ব্যাটসম্যানদের দায় আছে। তাসকিন আহমেদের বলে ওশাডা ফার্নান্দো (২০) ফিরেছেন লেগ স্টাম্পের বাইরের বলে বাজে এক শট খেলে। আর তাইজুল ইসলামের বলে অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুসের (২৫) উইকেটে ছিল আলস্যের ছাপ। ১৯০ রানে ৩ উইকেট হারানো লঙ্কানরা দিন শেষে ভাগ্যকে সঙ্গী পেয়েছে।

default-image

ইবাদতের বলে ৭৮ রানে জীবন পেয়েছিলেন করুনারত্নে। ২ রান পরই আবার ভাগ্যকে সঙ্গী পেলেন। তাইজুলের বলে ক্যাচ তুলে দিয়েছিলেন। কিন্তু তাইজুলের হাত পর্যন্ত যাওয়ার আগেই মাটিতে পড়ে গেল বল। করুনারত্নের ভাগ্যের সঙ্গে এমন খেলা শেষ হয়নি তখনো। ৮২ রানে গিয়েই আবার নিজের ভাগ্য পরীক্ষা করলেন।

তাইজুলের অনেক বাঁক নেওয়া এক বল খেলতে পারেননি। জোরালো আবেদনের মুখে আঙুলও তুলে দেন আম্পায়ার। কিন্তু রিভিউ নিয়ে এযাত্রাও বেঁচে যান লঙ্কান অধিনায়ক।

২ বল পরই আবারও জোরালো আবেদন। এবার আম্পায়ার আউট দিলেন না, কিন্তু বাংলাদেশ রিভিউ নিয়ে নিল। সে রিভিউ জন্ম দিল আরেক বিতর্কের। রিপ্লেতে বল করুনারত্নের ব্যাটে লেগেছে দেখেই নটআউটের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেন তৃতীয় আম্পায়ার। কিন্তু বল যে ব্যাটে লাগার আগে করুনারত্নের বুটের স্পর্শ নিয়ে গেছে, সেটাকে আমলেই নেননি তৃতীয় আম্পায়ার রবীন্দ্র বিমলসিরি। এই নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হতে পারত। কিন্তু তৃতীয় আম্পায়ারকে স্বস্তি দিয়েছে বল ট্র্যাকিং। সেখানে দেখা গেছে, বল লাগার সময় সেটা স্টাম্পের বাইরে লেগেছে।

৮৫ রানে অপরাজিত থেকে দিন শেষ করেছেন করুনারত্নে। তাঁর সঙ্গী ধনঞ্জয়ার রান ২৬।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: ৫৪১/৭ ডি. (নাজমুল ১৬৩, মুমিনুল ১২৭, তামিম ৯০, মুশফিক ৬৮*, লিটন ৫০; ফার্নান্দো ৪/৯৬, লাকমল ১/৮১)

শ্রীলঙ্কা প্রথম ইনিংস: ২২৯/৩ (করুনারত্নে ৮৫*, থিরিমান্নে ৫৮, ধনঞ্জয়া ২৬*; তাসকিন ১/৩৫, তাইজুল ১/৫৬, মিরাজ ১/৬০, জায়েদ ০/২৫, ইবাদত ০/৪৪)

বিজ্ঞাপন
ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন