শেষ ম্যাচ জিতে সিরিজ জয়ের অভ্যাস আছে বাংলাদেশের

আফতাব আহমেদের কি ইনিংসটা মনে আছে?

২ ছক্কা ও ১০ চারে ৮৭ বলে ৮১। ভেন্যুঢাকার বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম। এবার নিশ্চয় অনেকেরই মনে পড়বে। পাঁচ ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজে সেটি ছিল শেষ ম্যাচ। আগে ব্যাট করা টাটেন্ডা টাইবুর জিম্বাবুয়ে ১৯৮ রানে অলআউট হয়। তাড়া করতে নামা বাংলাদেশ মোহাম্মদ রফিকের ৭২ ও আফতাবের ওই ইনিংসের সুবাদে ৮ উইকেটের জয় পায়। হাবিবুল বাশারের অপরাজিত ৩৪ রানের ইনিংসের কথাও বলতে হবে। তাঁর ও আফতাবের অবিচ্ছিন্ন জুটির কল্যাণেই স্মরণীয় জয় পায় বাংলাদেশ। স্মরণীয়?

সে সিরিজে প্রথম দুই ম্যাচ হারের পর ঘুরে দাঁড়িয়ে ৩-২–এ সিরিজ জিতেছিল বাংলাদেশ। ওয়ানডেতে সেটিই বাংলাদেশের প্রথম সিরিজ জয়। শেষ ম্যাচ জিতে সিরিজও জিতে নেওয়ার সেটাই প্রথম নজির। আজও কি তেমন কিছু দেখা যাবে?

আফতাব আহমেদ একবার সিরিজের শেষ ম্যাচ জিততে দুর্দান্ত ব্যাটিং করেছিলেন
ফাইল ছবি

সেঞ্চুরিয়নে আজ ওয়ানডে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে মাঠে নামছে বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচ বাংলাদেশ জেতার পর দ্বিতীয় ম্যাচ জিতেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। ১-১–এ সমতায় থাকা সিরিজের ফল কি নিজেদের পক্ষে নিতে পারবে বাংলাদেশ?

সময়ই তা বলে দেবে। আপাতত পরিসংখ্যান খুঁজে দেখা যাক, শেষ ম্যাচ জিতে বাংলাদেশ কতগুলো সিরিজ জিতেছে।

এই হিসাবে ২০০৭ সালে জিম্বাবুয়ে সফরে চার ম্যাচের সিরিজটা একটু আলাদা জায়গা পাবে। সে সিরিজে প্রথম ম্যাচ জেতে বাংলাদেশ। পরের ম্যাচে জিতে সমতা ফেরায় জিম্বাবুয়ে। সিরিজ জিততে বাকি দুটি ম্যাচই জিততে হতো বাংলাদেশকে। হারারেতে হাবিবুল বাশারের দল শেষ দুটি ম্যাচ জিতে সিরিজও নিজেদের করে নেয়। বিদেশের মাটিতে শেষ ম্যাচ জিতে সেটাই বাংলাদেশের প্রথম সিরিজ জয়ের নজির।

হাবিবুল বাশারের নেতৃত্বে প্রথম ওয়ানডে সিরিজ জিতেছিল বাংলাদেশ
ফাইল ছবি

এরপর ২০০৯ সালেও একই পরিস্থিতিতে পড়ে বাংলাদেশ। ঘরের মাঠে সেটি ছিল তিন ম্যাচের সিরিজ। মিরপুরে প্রথম ম্যাচটা জিতে এগিয়ে যায় জিম্বাবুয়ে। কিন্তু শেষ দুটি ম্যাচ জিতে সিরিজ জিতে নেয় বাংলাদেশই। দ্বিতীয় ম্যাচে সমতায় ফেরার পর তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে মিলেছে সিরিজ জয়ের গৌরবতিলক।

পরের বছর চার ম্যাচের ওয়ানডে খেলতে আবারও বাংলাদেশ সফরে আসে জিম্বাবুয়ে। প্রথম ম্যাচটা ৯ রানে জিতে এগিয়েও যায় সফরকারী দলটি। বাকি তিন ম্যাচ জিতে সিরিজ নিজেদের করে নেয় বাংলাদেশ। শেষ ম্যাচটা বাংলাদেশ হারলেন সমতায় থেকে শেষ করতে হতো সিরিজ।

শেষ ম্যাচ জিতে সিরিজ জয়ের এ পথচলায় ২০১২ সালে পরিবর্তন আসে প্রতিপক্ষে। সেবার বাংলাদেশ সফরে আসে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। প্রথম দুই ম্যাচ জিতলেও পরের দুই ম্যাচে হারে মুশফিকুর রহিমের দল। মিরপুরে পঞ্চম ম্যাচটি হয়ে দাঁড়ায় সিরিজ–নির্ধারণী। সে ম্যাচে ৩৬ রানের জয়ে সিরিজ ৩-২–এ জিতে নেয় বাংলাদেশ।

মাশরাফি বিন মুর্তজার নেতৃত্বে ২০১৫ সালে ঢাকায় দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজ জিতেছিল বাংলাদেশ
ফাইল ছবি

দক্ষিণ আফ্রিকা বাংলাদেশ সফরে আসে ২০১৫ সালে। মিরপুরে প্রোটিয়াদের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ হারে বাংলাদেশ। কিন্তু পরের দুই ম্যাচ জিতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথম ও একমাত্র সিরিজ জয়ের স্বাদ পায় মাশরাফি বিন মুর্তজার দল। পরের বছর আফগানিস্তানের বিপক্ষেও একই ব্যবধানে (২-১) সিরিজ জেতে বাংলাদেশ। তবে এবার প্রথম ম্যাচ জয়ের পর দ্বিতীয় ম্যাচে হার এবং শেষ ম্যাচটা জিতে নেয় বাংলাদেশ।

দুই বছর পর ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে (২০১৮) গিয়ে প্রথম ও শেষ ম্যাচ জিতে সিরিজ নিজেদের (২-১) করে নেয় বাংলাদেশ। একই বছর ডিসেম্বরে বাংলাদেশ সফরে আসে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজে প্রথম ও শেষ ম্যাচ জিতে সিরিজ নিজেদের করে নেয় বাংলাদেশ। ওয়ানডেতে দ্বিপক্ষীয় সিরিজে শেষ ম্যাচ জিতে এটাই বাংলাদেশের সবশেষ সিরিজ জয়ের নজির।