default-image

আইপিএল যেন লখিন্দরের বাসর! ‘মনসামঙ্গল’ আখ্যানকাব্যে বেহুলা-লখিন্দরের বাসরঘরে ফুটো রাখার ব্যবস্থা করেছিলেন মনসা। সেই ফুটো গলে লখিন্দরকে কামড়ে দিয়েছিলেন সর্পদেবী।

করোনাও তেমনি আইপিএলে ফ্র্যাঞ্চাইজি দলগুলোর জৈব সুরক্ষিত পরিবেশের ফুটো গলে থাবা বসিয়েছে। কাল পর্যন্ত ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর চার ক্রিকেটার করোনা পজিটিভ। স্টেডিয়ামের বেশ কিছু মাঠকর্মীও আক্রান্ত হয়েছেন করোনায়। অবস্থা নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার আগেই ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, এর মধ্যে কিছু ব্যবস্থা নিয়েছে বিসিসিআই। আইপিএলে অংশ নেওয়া ক্রিকেটারদের বিমানবন্দরে আলাদা চেকইনের ব্যবস্থা রাখার অনুরোধ করা হয়েছে। কোভিড-১৯ পরীক্ষা করা হবে প্রতিদিন। জৈব সুরক্ষিত পরিবেশ ঠিকভাবে পালন করা হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতে আলাদা করে একজন কর্মকর্তা থাকবেন।

বিজ্ঞাপন

এখন পর্যন্ত খেলোয়াড় ও স্টাফ মিলিয়ে আইপিএলের সঙ্গে জড়িত মোট ৩৬ জন আক্রান্ত হয়েছেন করোনায়। মুম্বাই ইন্ডিয়ানসের প্রতিভা অন্বেষণ কোচ ও ভারতের সাবেক উইকেটকিপার কিরণ মোরে কোভিড-১৯ পজিটিভ হয়েছেন। কাল জানা গেল, রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর ড্যানিয়েল স্যামসও পজিটিভ।

গত বছর করোনা মহামারির মধ্যেই আইপিএল সংযুক্ত আরব আমিরাতে আয়োজন করে বিসিসিআই। সংক্রমণের মধ্যেও সফলভাবে আইপিএল আয়োজন করে প্রশংসা কুড়িয়েছিল তারা। তবে সেখানে সুবিধাও ছিল। খেলা হয়েছিল মাত্র তিনটি ভেন্যুতে, যেখানে এক ভেন্যু থেকে আরেক ভেন্যুতে বাসেই যেতে পারতেন ক্রিকেটাররা। কিন্তু ভারতের বাস্তবতা অন্য রকম।

খেলা হবে মোট ছয়টি ভেন্যুতে—বেঙ্গালুরু, মুম্বাই, আহমেদাবাদ, চেন্নাই, দিল্লি ও কলকাতা। এসব শহরের মধ্যে দূরত্ব বেশি হওয়ায় বিমানপথে যাতায়াত করবেন ক্রিকেটাররা। আর বিমানবন্দরে করোনায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা খুব বেশি।

সাম্প্রতিক সময়ে মুম্বাই ও দিল্লিতে করোনার সংক্রমণ আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। এ জন্য রাতে কারফিউ জারি করা হয়েছে দুটি শহরে। বাকি চারটি শহরেও করোনার সংক্রমণ বাড়ছে।

ভারতীয় দৈনিক ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, বিমানবন্দরে আইপিএলের খেলোয়াড় ও স্টাফদের জন্য আলাদা চেকইনের ব্যবস্থা করতে ভারতের সরকারকে অনুরোধ করবে বিসিসিআই। এতে জনসমাগমের বাইরে আলাদা জৈব সুরক্ষিত পরিবেশের মধ্যে বিমানবন্দর এলাকায় যাতায়াত করতে পারবেন তাঁরা।

সংক্রমণের সংখ্যা বাড়ায় জৈব সুরক্ষিত পরিবেশ আরও কঠোর করার কথা ভাবছে বিসিসিআই। কিরণ মোরে যেমন চেন্নাইগামী বিমানে ওঠার আগে পরীক্ষায় নেগেটিভ ছিলেন। কিন্তু সেখানে নামার পাঁচ দিন পর কোভিড-১৯ পজিটিভ হন।

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ভ্রমণের সময় কোভিড-১৯ ভাইরাসের সংস্পর্শে আসেন কিরণ মোরে। জৈব সুরক্ষিত পরিবেশে ঢোকার পর প্রতিটি দল তিনবার করে ভ্রমণ করতে পারবে।

বিজ্ঞাপন

প্রতিটি ফ্র্যাঞ্চাইজি দলে প্রতিদিনই করোনা পরীক্ষা করবে বিসিসিআই। এদিকে জৈব সুরক্ষিত পরিবেশ ঠিক রাখবেন যে কর্মকর্তা, তাঁর দায়িত্ব হলো কোনো খেলোয়াড় যেন মাস্ক ছাড়া হোটেল কক্ষ থেকে বের না হন, তা নিশ্চিত করা।

হোটেলের করিডরে, যেখানে অন্যরাও চলাফেলা করে, সেসব জায়গাতেও ঘোরাফেরা করতে পারবেন না খেলোয়াড়েরা। মাঠ ছাড়ার সময়ও মুখে মাস্ক থাকা বাধ্যতামূলক খেলোয়াড়দের জন্য। এসব নিশ্চিত করবেন জৈব সুরক্ষিত পরিবেশের শৃঙ্খলা কর্মকর্তা।

মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে ১০ জন মাঠকর্মী করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এ ছাড়া বিসিসিআইয়ের সাত স্টাফ ও চার খেলোয়াড় করোনা পজিটিভ। আইপিএলে নানা সেবা দেওয়ার কাজে থাকা ১৪ জন সদস্য পজিটিভ। জৈব সুরক্ষিত পরিবেশে ঢোকার আগে সবার পজিটিভ হওয়া ধরা পড়ে।

মাঠকর্মীদের আলাদা জৈব সুরক্ষিত পরিবেশে রাখা হয়েছে। দলগুলোকে ট্র্যাকিং করতে ব্লুটুথ প্রযুক্তি ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর হাতে তুলে দেওয়ার কথা এর আগে জানিয়েছিল বিসিসিআই। চারটি ফ্র্যাঞ্চাইজি সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছে, তারা এখনো এ ধরনের কোনো প্রযুক্তি বোর্ডের কাছ থেকে পায়নি।

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন