default-image

ক্রিকেট তো এমনিতেই সংখ্যার খেলা। সংখ্যার যোগ-বিয়োগ আর গুণ-ভাগেই ফল নির্ধারিত হয় এই খেলায়। এই খেলার তারকারা জীবনভর বয়ে নিয়ে বেড়ান কিছু সংখ্যা। যে সংখ্যাগুলো নির্দেশ করে ক্রিকেট খেলাটি থেকে ওই তারকাদের অর্জন। নানা ধরনের হিসেব-নিকেশ ছড়িয়ে আছে খেলাটি ঘিরে। ক্রিকেটের মহোৎ​সব বিশ্বকাপ শুরুর লগ্নে আসুন না কয়েকটি নির্দিষ্ট সংখ্যার চমক নিয়ে আলোচনা করা যাক...

৯৯১
কুমার সাঙ্গাকারার বিশ্বকাপ রান। এবারই নিজের শেষ বিশ্বকাপটি খেলতে যাচ্ছেন এই শ্রীলঙ্কান গ্রেট। বিশ্বকাপ শুরু করবেন তিনি নিজের অর্জনের খাতায় এই ৯৯১ সংখ্যাটিকে সঙ্গী করে। বিশ্বকাপে মোট ৩০টি ম্যাচ খেলে সাঙ্গাকারার সংগ্রহ এই ৯৯১ রান। ২০০৩ সাল থেকে বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার অবিচ্ছেদ্য অংশ তিনি। খেলেছেন ২০০৭ ও ২০১১ বিশ্বকাপ।
২১০
এবারের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী ১৪টি দলে রয়েছেন মোট ২১০ জন ক্রিকেটার।
৪৯
এবারের বিশ্বকাপে অনুষ্ঠিত হবে মোট ৪৯টি ম্যাচ। ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৯ মার্চ অবধি ক্রিকেট বিশ্বে উ’সবের রঙ ছড়াবে এই বিশ্বকাপ।
৪৬
এই সংখ্যাটির সঙ্গেও মিশে আছে কুমার সাঙ্গাকারার নাম। উইকেটের পেছনে গ্লাভস-প্যাড পড়ে বিশ্বকাপে মোট ৪৬টি ডিসমিসালের মালিক এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান। এবারের বিশ্বকাপে আর কোনো উইকেটরক্ষকেরই বিশ্ব সেরা মঞ্চে এতগুলো ডিসমি​সালের রেকর্ড নেই। এই ৪৬ ডিসমিসালের মধ্যে আছে ৩৬টি ক্যাচ ও ১০টি স্টাম্পিং।
৪৩
এটি দু’জন খেলোয়াড়ের বয়স। এবারের বিশ্বকাপ খেলা সবচেয়ে ‘বুড়ো’ খেলোয়াড় তাঁরা। দু’জনের দেশই সংযুক্ত আরব আমিরাত। একজনের নাম খুররম খান আর অপরজনের মোহাম্মদ তৌকির। তবে এই দু’জনের মধ্যে তৌকির বয়সের হিসাবে ছাড়িয়ে গেছেন খুররমকে। দু’জনের জন্মই ১৯৭১ সালে হলেও খুররমের জন্ম জুনে আর তৌকিরের জানুয়ারিতে।
৩৩
বিশ্বকাপের সবচেয়ে অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ের খেলা ম্যাচের সংখ্যা। শ্রীলঙ্কার মাহেলা জয়াবর্ধনে ১৯৯৯ সাল থেকে ২০১১ পর্যন্ত মোট ৩৩টি ম্যাচে শ্রীলঙ্কার হয়ে মাঠে নেমেছেন।
৩১
লাসিথ মালিঙ্গা এবারের বিশ্বকাপ শুরু করছেন নিজের ঝুলিতে ৩১টি উইকেট সঙ্গী করে। ১৫ ম্যাচ থেকে এই শ্রীলঙ্কান পেসার সংগ্রহ করেছেন তাঁর ৩১ উইকেট। এর মধ্যে আছে ৩৮ রান দিয়ে ৬ উইকেট নেয়ার অনন্য এক কীর্তি।
২৩
তেইশ বছর পর অস্ট্রেলিয়া ​ও নিউজিল্যান্ডে ফিরছে বিশ্বকাপ ক্রিকেটের আসর। ১৯৯২ সালে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে অনুষ্ঠিত পঞ্চম বিশ্বকাপ আসর ক্রিকেটের সামনে উন্মোচিত করেছিল নতুন এক দিগন্ত। রঙিন পোষাক, সাদা বল, কালো সাইট স্ক্রিন আর ফ্লাড লাইটের আলোয় দিন-রাতের ম্যাচ ক্রিকেটে এনে ঘটিয়েছিল অসাধারণ এক বিপ্লব। ২৩ বছর আগের সেই আয়োজন বিশ্বকাপ ক্রিকেটের টেলিভিশন সম্প্রচারেও এনেছিল অন্যমাত্রা। পিচ-মাইক্রোফোন, স্টাম্প-ভিশন ও ১৪-১৫টি ক্যামেরা দিয়ে ঝকঝকে সম্প্রচার ক্রিকেট ও ক্রিকেটারদের সাধারণের হাতছোঁয়া দূরত্বে এনে দিয়েছিল সেবারের বিশ্বকাপ।
১৮
এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে কম বয়সী ক্রিকেটারের বয়স ১৮। আফগানিস্তানের উসমান গণির জন্ম ১৯৯৬ সালের ২০ নভেম্বর। ২০১১ সালের বিশ্বকাপে অবশ্য ১৬ বছর বয়সেই কানাড​াকে প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন নিতিশ কুমার। নিতিশ ছিলেন বিশ্বকাপের ইতিহাসেরই সবচেয়ে কম বয়সী ক্রিকেটার।
১৭.৮৭
বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কান পেসার লাসিথ মালিঙ্গার বোলিং গড়।
১৪
বিশ্বকাপে খেলছে ১৪টি দেশ। খেলাও হচ্ছে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের ১৪টি শহরে। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ খেলছে আফগানিস্তান। দ্বিতীয়বারের মতো সংযুক্ত আরব আমিরাত ও স্কটল্যান্ড।

এই বিশ্বকাপে মোট পাঁচজন ক্রিকেটার খেলছেন, যাঁরা আগে বিশ্বকাপ জয়ের গৌরব গায়ে মেখেছেন। এঁরা হচ্ছেন ভারতের অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি, সুরেশ রায়না, বিরাট কোহলি, রবিচন্দ্রন অশ্বিন। অস্ট্রেলিয়ার মাইকেল ক্লার্ক, শেন ওয়াটসন, মিচেল জনসন ও ব্রাড হাডিন।

এউইন মরগান ২০০৭ সালে আয়ারল্যান্ডের হয়ে খেলেছিলেন। কিন্তু ২০১১ সালে তিনি ইংল্যান্ড দলের হয়ে বিশ্বকাপ খেলেন। এবার অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডে তিনি ইংলিশ দলের অধিনায়ক। এড জয়েস ২০০৭ সালে খেলেছিলেন ইংল্যান্ডের হয়ে। ২০১১ সালে তিনি খেলেন আয়ারল্যান্ডের হয়ে। এবারও জয়েস আছেন আইরিশ স্কোয়াডে।
তথ্যসূত্র:এএফপি।

বিজ্ঞাপন
ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন