বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ইনিংসের ১৬তম ওভারে নিশাম যখন ক্রিজে আসেন, ম্যাচ তখন রীতিমতো ইংল্যান্ডের দিকে হেলে পড়েছে। জয়ের জন্য নিউজিল্যান্ডের ৪ ওভারে প্রয়োজন ছিল ৫৭ রান। নিউজিল্যান্ডের আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে নিশামের প্রয়োজন হয় মাত্র এক ওভার।

ক্রিস জর্ডানের করা ১৭তম ওভারে দুই ছক্কা ও এক চারের মাধ্যমে তুলে নেন মোট ২৩ রান। এই এক ওভারেই খেলায় ফিরে আসে নিউজিল্যান্ড। পরের ওভারে আদিল রশিদের বলে আউট হওয়ার আগে নিশাম হাঁকান আরও এক ছক্কা। ১১ বলে ২৭ রান করে নিশাম প্যাভিলিয়নের ফেরার সময় নিউজিল্যান্ডের দরকার ছিল ১২ বলে ২০ রান। পরের ওভারেই দুই ছক্কা ও এক চারে খেলা শেষ করে দেন মিচেল, নিউজিল্যান্ড জয় পায় ৬ বল বাকি থাকতেই।

default-image

১৯তম ওভারে ক্রিস ওকসের প্রথম দুই বলে যখন মিচেল দুই ছক্কা মারলেন, উল্লাসে তখন ফেটে পড়ে নিউজিল্যান্ড শিবির। একে তো ফাইনালের সুবাস, তার ওপর ২০১৯ ওয়ানডে বিশ্বকাপ ফাইনালে হারের প্রতিশোধ—সব মিলিয়ে নিউজল্যান্ডের ক্রিকেটারদের আনন্দে ভেসে যাওয়াই স্বাভাবিক। এমনকি ‘ঋষি’ নামে পরিচিত কিউই অধিনায়ক কেইন উইলিয়ামসনও হাসি লুকাতে পারেননি। কিন্তু সবার মধ্যে ব্যতিক্রম ছিলেন নিশাম। তাঁর মধ্যে আনন্দ-উত্তেজনার কোনো ছিটেফোঁটা ছিল না!

সতীর্থদের আনন্দ-উল্লাসের মাঝে চেয়ারে ধ্যানমগ্ন ঋষির মতো বসে ছিলেন এই অলরাউন্ডার। অথচ ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া এক ইনিংস খেলে এসেছেন। নিশামের মনে তখন কী খেলা করছিল?

২০১৯ বিশ্বকাপ ফাইনালে হারের প্রতিশোধটা খুব শীতল মাথায় দেখার ইচ্ছা, নাকি এই শীতল উদ্‌যাপনটুকু তাঁর ব্যতিক্রমী চরিত্রের ব্যতিক্রমী উপস্থাপনা? কিংবা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার উদগ্র বাসনায় আগেই উদ্‌যাপন না করার ভাবনাও হতে পারে।

নিশাম টুইটারে প্রায়ই মজার মজার টুইট করেন। এমনকি ২০১৯ বিশ্বকাপে ফাইনালে হারের পরও মজা করে লিখেছিলেন, ‘বাচ্চারা, খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে নিয়ো না। কেক-বিস্কুট বানাও বা অন্য কোনো ধরনের কাজ করো এবং ৬০ বছর বয়সে মোটাসোটা হয়ে আনন্দের সঙ্গে মৃত্যুবরণ করো।’

এমন বুদ্ধিদীপ্ত মজার এক চরিত্র কাল যখন জয়ের মুহূর্তে চোখেমুখে কুলুপ এঁটে বসেছিলেন, তখন সে ছবিটা ভাইরাল হওয়াই স্বাভাবিক। ইএসপিএন ক্রিকইনফো তাঁর ছবিটি টুইট করে লেখে, ‘জিমি নিশাম একটুও নড়েননি।’

সদা হাস্যোজ্জ্বল ও মজার মানুষ নিশামের মুখ অমন করে রাখার কারণ কেউই বুঝতে পারছিল না। টুইটারে একজন মন্তব্য করেন, ‘তুমি অন্তত উইলিয়ামসনের মতো একটু হাসতেও পারতে।’

আরেকজন বলেন, ‘নিশাম একটুও উল্লাস করেননি, এমনকি একটু নড়েওনি!’ অনেকে আবার নিশামের চুপচাপ থাকার পেছনে পেশাদারি মনোভাবও খুঁজে পেয়েছেন। একজনের মজার মন্তব্য, ‘কিংবদন্তিরা সম্পূর্ণ কাজ শেষ হওয়ার আগে উদ্‌যাপন করেন না।’

নিজের ছবি নিয়ে এত আলোচনা দেখে অবশেষে নিজেই মুখ খুলেছেন নিউজিল্যান্ড তারকা। আসলেই যে পেশাদারি মনোভাবের জন্যই তিনি উদ্‌যাপন করেননি, সেটা বোঝা গেল তাঁর টুইটেই। ইএসপিএনের আপলোড করা ছবিটি রিটুইট করে তিনি লেখেন, ‘কাজ কি শেষ হয়ে গেছে? আমার তো সেটা মনে হয় না।’

নিশাম এরপর প্রয়াত বাস্কেটবল কিংবদন্তি কোবি ব্রায়ান্টের একটি ভিডিও রিটুইট করেন। সেখানে দেখা যায়, ব্রায়ান্টকে এক সংবাদকর্মী জিজ্ঞাসা করেন, কেন ফাইনালে ২-০–তে এগিয়ে গিয়েও তিনি উদ্‌যাপন করেননি? ব্রায়ান্ট উত্তর দেন, ‘এখানে খুশির কী আছে? কাজ কি শেষ হয়ে গেছে? আমার তো সেটা মনে হয় না।’

হ্যাঁ, কাজ এখনো শেষ হয়নি। ফাইনালটা যে এখনো বাকি!

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন