সরফরাজ ‘কই মাছ’ খুঁজতে খুঁজতে ব্যাটসম্যান নিরাপদে

এ বেলায় মরগানকে রানআউট করলেও পরে মঈন আলীকে স্টাম্পিংয়ের বেলায় ভজকট পাকিয়েছেন সরফরাজ।
এ বেলায় মরগানকে রানআউট করলেও পরে মঈন আলীকে স্টাম্পিংয়ের বেলায় ভজকট পাকিয়েছেন সরফরাজ।ছবি: রয়টার্স
বিজ্ঞাপন

কুইজ: ক্রিকেটের তিন ফরম্যাটে ‘হাই তোলা’ প্রথম খেলোয়াড় কে?
উত্তর: সরফরাজ আহমেদ।

পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ককে নিয়ে এমন কৌতুক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে দুদিন আগে। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও কৌতুক বা ‘ট্রলে’র কেন্দ্রবিন্দুতে সরফরাজ।

কাল ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওল্ড ট্রাফোর্ডে সিরিজের শেষ টি-টোয়েন্টিতে মঈন আলীকে স্টাম্পিংয়ের সহজ সুযোগ নষ্ট করেন সরফরাজ। যদিও ম্যাচটি পাকিস্তান ৫ রানে জিতেছে। কিন্তু ম্যাচ শেষে এই উইকেটকিপার ব্যাটসম্যানকে নিয়ে উঠেছে সমালোচনার ঢেউ।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

ঘটনাটা ইংল্যান্ডের ইনিংসের ১১তম ওভারের। পাকিস্তানের ১৯০ রানের জবাবে ততক্ষণে ব্যাটিংয়ে ঝড় তুলেছেন মঈন। ৩৩ বলে ৬১ রান তুলে দলকে প্রায় জয়ের বন্দরে নিয়ে যাচ্ছিলেন। ঠিক ওই সময়ে ইমাদ ওয়াসিমের ফুল টসটি ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে এসে খেলার চেষ্টা করেন মঈন। কিন্তু বলটা মারতে পারেননি, জমা পড়ে সরফরাজের গ্লাভসে। মঈনকে স্টাম্পিংয়ের অনেকটা সময় পেয়েছিলেন সরফরাজ। কিন্তু স্টাম্পিং করবেন কি, বল ধরতেই সরফরাজের এমন অবস্থা যে, মনে হচ্ছিল সেঁচে ফেলা পুকুরে কাদামাটিতে কই মাছ খুঁজছেন! সরফরাজের ‘কই মাছ খোঁজা’ শেষ হতে হতে ততক্ষণে মঈন নিরাপদে ক্রিজের ভেতরে।

যদিও এখানে সরফরাজের আউট করার ইচ্ছা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে। উইকেটকিপারের গ্লাভসের নিচের দিকের যে অংশটা হাতের বাইরে থাকে, সে অংশে বলটা আটকে গিয়েছিল কি না, কে জানে! দেখে তা-ই মনে হচ্ছিল। তিনি অনেকক্ষণ ধরে বলটাকে হাতের নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছিলেন বলেই বোধ হচ্ছিল। কিন্তু বল যতক্ষণে হাতের নিয়ন্ত্রণে এনেছিলেন, উইকেটকিপারের সহজাত অভ্যাসে তার পরপরই স্টাম্প ভেঙে দেওয়ার কথা। সরফরাজের এরকম কিছু করার বালাই ছিল বলে দেখে মনে হলো না।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

২৮ আগস্ট প্রথম টি-টোয়েন্টি ভেসে যায় বৃষ্টিতে। এরপর ৩০ আগস্ট দ্বিতীয় টি টোয়েন্টিতে পাকিস্তান হারে ৫ উইকেটে। কিন্তু কাল শেষ টি-টোয়েন্টি জিতে সিরিজে সমতায় ফেরে পাকিস্তান। এই ম্যাচে মোহাম্মদ হাফিজ ৫২ বলে করেন অপরাজিত ৮৬ রান। হায়দার আলী ৩৩ বলে করেন ৫৪ রান। এদের দুজনের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান ম্যাচটা জিততে পেরেছে। কিন্তু কে জানতো, পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ফেরার দিনে উইকেটের পেছনে এমন বাজে কাটবে সরফরাজের!

এমনিতেই পারফরম্যান্সের কারণে নিয়মিত একাদশে জায়গা হচ্ছে না সরফরাজের। যা-ও বা শেষ ম্যাচে এসে মোহাম্মদ রিজওয়ানের বদলে জায়গা পেলেন, কিন্তু একটা সুযোগ নষ্ট করেই ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন। টুইটারে সরফরাজকে নিয়ে বইছে ট্রলের বন্যা। মঈন ও সরফরাজের কাল্পনিক কথোপথন দিয়ে এক ব্যক্তি টুইট করেছেন এভাবে––
মঈন: সারফ, আমি তোমার ক্যারিয়ার বাঁচানোর চেষ্টা করেছি।
সরফরাজ: না, মঈন ভাই। আমি তোমাকে বাঁচাতে চেয়েছি।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ম্যাচ জিতে পাকিস্তানি ক্রিকেটারেরা আনন্দ করলেও স্টাম্পিং মিসের ভিডিও রিপ্লে দেখে নিশ্চয় কষ্ট বেড়েছে সরফরাজের!

অবশ্য সরফরাজ উল্টো দাবি করতে পারেন। সফরে তিন টেস্টের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে হারা পাকিস্তান তিন টি-টোয়েন্টির সিরিজের দুই ম্যাচ শেষেও পিছিয়ে ছিল ১-০ ব্যবধানে। এই পাঁচ ম্যাচে খেলেননি সরফরাজ। কাল দলে ফিরলেন, পাকিস্তান ইংল্যান্ড সফরটা শেষ করল সফরে প্রথম জয় নিয়ে!

সরফরাজই নিজেকে ‘লাকি চার্ম’ দাবি করতেই পারেন! অবশ্য তা-ও না আবার কোন ট্রলের বিষয় হয়ে যায়!

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন