default-image

‘এতক্ষণ কী হলো ওসব...!’
সাইমন ডুলের কথা শুনে কেমন হতচকিত মনে হলো টিম সাউদিকে। কিছুক্ষণ আগেই ক্যারিয়ারের সেরা কীর্তিটি গড়েছেন। ওয়েস্ট প্যাকের ‘প্যাকড’ গ্যালারির অভিনন্দনের জবাব দিলেন বল উঁচিয়ে ধরে। সীমানা দড়ি পেরিয়ে আসতেই মাইক্রোফোন হাতে দাঁড়িয়ে ডুল। পূর্বসূরি পেসার ও ধারাভাষ্যকারের প্রশ্ন শুনে সাউদি আবার একটু ঘুরে তাকালেন ২২ গজের দিকে। নিজেও যেন চমকে গেছেন ৭ উইকেট পেয়ে, ‘আই ডোন্ট নো...আসলে এখনো বুঝে উঠতে পারছি না কী হয়ে গেল...।’
আরও ঘণ্টা দুয়েক পর সাউদি সংবাদ সম্মেলনকক্ষে। কিন্তু কীর্তির বিশালত্ব এমন কিংবা নিজেকে এতটাই চমকে দিয়েছেন যে ধাতস্থ হতে পারেননি তখনো। আগের কথাটিই আরেকবার বললেন বিশদ করে, ‘অসাধারণ একটি দিন, প্রায় নিখুঁত পারফরম্যান্স। আসলেই বুঝে উঠতে পারছি না...হয়তো ড্রেসিংরুমে বসে গোটা দুই বিয়ার গলায় ঢালার পর আস্তে আস্তে ধাতস্থ হব সবাই। আসলে যত সময় গড়াবে, আমরা পেছন ফিরে তাকালে বুঝতে পারব কতটা অসাধারণ মুহূর্ত ছিল।’
চমকে গেছেন ব্রেন্ডন ম্যাককালামও। সাউদির বোলিংয়ে নয়, নিজেদের জয়ের ধরনে, ‘এই ব্যবধানে এভাবে জেতা আসলেই অদ্ভুতুড়ে! দারুণ জয়।’ সাউদির বোলিংয়ে বিস্মিত নন অধিনায়ক, তবে মুগ্ধ। মুগ্ধ বাকিদের বোলিংয়েও। এই জয়ে বড় অবদান আছে তাঁর নিজেরও। ম্যাচজুড়ে ম্যাককালামের অধিনায়কত্ব ছিল দারুণ ইতিবাচক ও আক্রমণাত্মক। মাঠ সাজানো ও বোলিং পরিবর্তন ছিল দুর্দান্ত। নিজেও ফিল্ডিং করেছেন অসাধারণ। তার পর তো ব্যাট হাতে দিশেহারা করে ছাড়লেন ইংলিশ বোলারদের। বিশ্বকাপে দ্রুততম ফিফটির নিজের রেকর্ড গড়লেন নতুন করে। নিজেকে নিয়ে অবশ্য কোনো কথা নেই ম্যাককালামের। সবই দলের কথা, ‘উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য দারুণ ছিল। কিন্তু আমাদের বোলাররা দুর্দান্ত বোলিং করেছে। ফিল্ডিংও ছিল দারুণ। সব মিলিয়ে অসাধারণ দলীয় পারফরম্যান্স।’

সবার মাঝে তবু নিজেকে আলাদা করে তুলে ধরেছেন সাউদি। যদিও তাঁর দাবি, করেননি আলাদা কিছুই, ‘সত্যিই আমি আজ আলাদা বা বিশেষ কিছু করিনি। তবে কোনো কোনো দিন আসে না, যেদিন সবকিছুই নিখুঁত হয়! আমি শুধু নিজের মতো বোলিং করে গেছি। এখনো বুঝতে পারছি না। হয়তো অনেক দিন পর বুঝব, কতটা স্পেশাল ছিল এটি।’

আরও ‘স্পেশাল’ হতে পারে, যদি শেষ পর্যন্ত শিরোপার আক্ষেপ ঘোচাতে পারে নিউজিল্যান্ড। কালকের পারফরম্যান্সে কিন্তু কিউইরা প্রতিদ্বন্দ্বীদের বার্তাটা দিয়ে রাখল আরও একবার! স্টার স্পোর্টস, ক্রিকইনফো, এএফপি, রয়টার্স।

গ্লেন ম্যাকগ্রা         ৭-৪-১৫-৭         নামিবিয়া     পচেফস্ট্রুম             ২০০৩

অ্যান্ডি বিকেল       ১০-০-২০-৭      ইংল্যান্ড       পোর্ট এলিজাবেথ   ২০০৩

টিম সাউদি      ৯-০-৩৩-৭    ইংল্যান্ড    ওয়েলিংটন       ২০১৫

উইনস্টন ডেভিস    ১০.৩-০-৫১-৭   অস্ট্রেলিয়া    হেডিংলি              ১৯৮৩

গ্যারি গিলমোর      ১২-৬-১৪-৬       ইংল্যান্ড       হেডিংলি              ১৯৭৫

সংখ্যার আলোয়

ওয়ানডেতে এই প্রথম ৭ উইকেট পেলেন কোনো কিউই বোলার

ম্যাককালামের ১৮ বলে ফিফটি বিশ্বকাপ ইতিহাসের দ্রুততম। আগের রেকর্ডটিও ছিল ম্যাককালামের, ২০০৭ বিশ্বকাপে কানাডার বিপক্ষে ২০ বলে

৩.৪ ওভারে পঞ্চাশ ছুঁয়েছে নিউজিল্যান্ড, বিশ্বকাপ ইতিহাসে দ্রুততম। ওয়ানডে ইতিহাসেও দ্রুততম পঞ্চাশ নিউজিল্যান্ডের, ২০০৭ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে ৩.৩ ওভারে।

৬.৪ ওভারে এক শ ছুঁয়েছে নিউজিল্যান্ড, ‘বল বাই বল’ হিসাব রাখার সময় (২০০১) থেকে ওয়ানডেতে দ্রুততম!

রান দেওয়ার দ্রুততম ফিফটি থেকে অল্পের জন্য বেঁচে গেছেন স্টিভেন ফিন, ২-০-৪৯-০!

বিজ্ঞাপন
ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন