default-image

আলোচনাটা শুরু করে দিয়েছেন মূলত ভারতীয় ধারাভাষ্যকার হার্শা ভোগলে।
আইপিএলের নিলামে এমনিতেই ভারতীয় খেলোয়াড়দের দাম বিদেশি তারকাদের চেয়ে বেশি হয়, নতুন কিছু নয়। তাই বলে সাকিব আল হাসানের মতো এক অলরাউন্ডারের নিলামের সময় তাঁকে নিয়ে সেভাবে কাড়াকাড়ি পড়বে না, এটা খানিক অবাক করার মতোই। দুই কোটি রুপির ভিত্তিমূল্যের সাকিবের নাম যখন ডাকা হলো, হলরুমটায় কিছুক্ষণের জন্য নৈঃশব্দ্য গ্রাস করল যেন। কেউ চায় না সাকিবের জন্য প্রথমে বিড করতে।

হয়তো এটা নিলামকারীদের মধ্যে একধরনের স্নায়ুযুদ্ধ, নিজে আগে দর না হেঁকে অন্যদের চাল বোঝার চেষ্টা করা। শেষমেশ আট ফ্র্যাঞ্চাইজির মধ্যে সাকিবকে পাওয়ার দৌড়ে আগ্রহ দেখিয়েছে শুধু শাহরুখ খানের কলকাতা নাইট রাইডার্স ও প্রীতি জিনতার পাঞ্জাব কিংস-ই। বাকি ছয় ফ্র্যাঞ্চাইজি দেখেছে সাকিবকে নিয়ে এই দুই ফ্র্যাঞ্চাইজির স্নায়ুযুদ্ধ, যাতে জয়টা হয়েছে কলকাতার। ৩ কোটি ২০ লাখ রুপিতে নিজের সাবেক স্কোয়াডে ফিরেছেন সাকিব, যে দলের হয়ে দুটি আইপিএল শিরোপা ঝুলিতে পুরেছিলেন।

বিজ্ঞাপন

তবে সাকিবের দাম মাত্র ৩ কোটি ২০ লাখ, নেওয়ার জন্য ‘যুদ্ধে’ নেমেছে মাত্র দুটি ফ্র্যাঞ্চাইজি—ব্যাপারটা অনেকের চোখেই বিস্ময়কর ঠেকেছে। বিশেষ করে যে নিলামে শিভাম দুবে, ড্যানিয়েল ক্রিশ্চিয়ান থেকে শুরু করে আনকোরা ব্যাটসম্যানের দাম পর্যন্ত উঠেছে সাকিবের চেয়ে বেশি। আর এখানেই ব্যাখ্যাটা দিয়েছিলেন হার্শা ভোগলে।

সাকিবকে কলকাতা কিনে নেওয়ার পরই ভোগলে টুইট করেন, ‘সাকিব আল হাসানের জন্য ৩.২ কোটি, কলকাতার জন্য দারুণ সংযুক্তি। টুর্নামেন্টের পুরোটা সময় তিনি থাকবেন কি না, এটা নিয়ে অনিশ্চয়তা না থাকলে আরও বেশি মূল্য হতো তাঁর।’

অনিশ্চয়তাটা কেন? দিন-তারিখ এখনো চূড়ান্ত না হলেও আইপিএল শুরু হওয়ার কথা এপ্রিলের দ্বিতীয় সপ্তাহে। প্রায় পুরো মে মাসজুড়েই চলবে এই টুর্নামেন্ট। কিন্তু এপ্রিল-মে—এই দুই মাসেই আবার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুটি সিরিজ খেলার কথা আছে বাংলাদেশের। এপ্রিলে দুই টেস্টের সিরিজ, এরপর মে মাসে তিন ওয়ানডের সিরিজ।

default-image

সিরিজ দুটির সূচি এখনো চূড়ান্ত না হলেও এপ্রিল-মে মাসে যে সিরিজগুলো হবে, তা চূড়ান্ত। কালকের আগপর্যন্ত তা–ই নিশ্চিত ছিল, জাতীয় দলের হয়ে এই দুই সিরিজ খেলবেন সাকিব। আর জাতীয় দলের হয়ে খেলা মানে সাকিব আইপিএলে পুরো সময় থাকতে পারবেন না।

আর যে খেলোয়াড় পুরো টুর্নামেন্ট থাকতে পারবেন না, তার পেছনে এত টাকা ঢালার কী দরকার? তা–ও আবার বিদেশি খেলোয়াড়! সাকিবকে নিয়ে তাই তেমন কাড়াকাড়ি করেনি ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো। ‘ফাঁকা’ মাঠে গোল দিয়েছে কলকাতা। শেষমেশ তাই ‘মাত্র’ ৩ কোটি ২০ লাখ রুপিই খরচ সাকিবের পেছনে। শিভাম দুবে বা ড্যানিয়েল ক্রিশ্চিয়ানদের মতো অলরাউন্ডারদের চেয়ে যা বেশ কম।

পাশার দান বদলে গেল আজ। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, আইপিএলে খেলার জন্য বিসিবির কাছে আগেই মৌখিকভাবে ছুটি চেয়েছেন সাকিব। পরশু রাতে ক্রিকেট পরিচালনা প্রধান আকরাম খানকে ছুটি চেয়ে ই–মেইলও পাঠিয়েছেন কলকাতা নাইট রাইডার্সের ‘নতুন’ এই তারকা। এরপরই সাকিবকে ছুটি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বোর্ড। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন খোদ ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধান আকরাম খান।

বিজ্ঞাপন

বিসিবির অবস্থান পরিষ্কার, যে খেলতে চায় না, তাঁকে জোর করে খেলানোর মানে নেই। আর সাকিব টেস্ট সিরিজে না খেলার অর্থই হলো, পুরোটা সময় কলকাতা পাচ্ছে তাঁকে। নিলামের মাত্র এক দিন পরই সাকিবের পেছনে কলকাতার ৩ কোটি ২০ লাখ রুপির ‘বিনিয়োগ’টা কী দুর্দান্তই না দেখাচ্ছে এখন!

কলকাতা নাইট রাইডার্সের সহকারী কোচ অভিষেক নায়ার গতকালই সাকিবকে পেয়ে ছিলেন উচ্ছ্বসিত। এত কম দামে সাকিবের মতো একজন খেলোয়াড়কে পেয়ে কলকাতা যে বেশ খুশি, সেটা বোঝা গিয়েছিল তাঁর কথাতেই, ‘সাকিব এর আগেও আমাদের হয়ে খেলেছে। ও আমাদের দলের পরিস্থিতি বোঝে। অধিনায়ক হিসেবেও ওর অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারি আমরা। ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টিতে ও টপ অর্ডারে ব্যাট করে, আমরাও ওকে অমন কোনো একটা ভূমিকাতেই খেলাতে চাই। ও পাওয়ার প্লেতেও ভালো বল করতে পারে। ওকে যে দামে আমরা পেয়েছি, তাতে আমরা আনন্দিত। আমরা অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্ব চেয়েছিলাম, ওর মান ও সামর্থ্য নিয়ে কোনো সন্দেহই ছিল না আমাদের। ও একজন চ্যাম্পিয়ন খেলোয়াড়।’

শ্রীলঙ্কা সিরিজে খেলবেন বলে যে সাকিবের পেছনে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো আগ্রহ দেখায়নি, এখন কি তারা এই অলরাউন্ডারকে না পেয়ে মাথা কুটছেন? হবে হয়তো!

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন