জাতীয় দলের অনুশীলনে হাসিমুখে সাকিব আল হাসান
জাতীয় দলের অনুশীলনে হাসিমুখে সাকিব আল হাসানছবি: প্রথম আলো

নিজের ডেরাতেই ফিরেছেন সাকিব আল হাসান। ডেরা মানে বাংলাদেশ জাতীয় দল। নিজের জায়গায় পা রেখে মানুষের মন যেমন আলাদা প্রশান্তিতে ভরে থাকে, সাকিবকেও ঠিক তেমনই মনে হলো।

জায়গাটাতে ফিরে যেন নিজের ঘরেই ফিরলেন। বিপুল প্রাণশক্তিতে ভরপুর, প্রফুল্লতায় মোড়া। নিজেকে নতুন করে প্রমাণের তাগিদটাও স্পষ্ট তাঁর মধ্যে।

সাকিবকে দলে পেয়ে সতীর্থেরাও খুশি। একে তো প্রায় ১০ মাস পর জাতীয় দলের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার রোমাঞ্চ। অন্যদিকে দলের সেরা ক্রিকেটারের ফেরা। দুইয়ে মিলে জাতীয় দলের ক্যাম্পকে আনন্দমেলাই মনে হচ্ছে।

সাকিব দলের জন্য কতটা কী, সেটা বোঝা গেছে তাঁর নিষিদ্ধের পরপরই। ২০১৯ সালের অক্টোবরে এক বছরের জন্য ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ হলেন, এর পরপরই ভারত সফরে গিয়েছিল বাংলাদেশ। দুই টেস্টের সিরিজে রীতিমতো ভরাডুবিই হয়েছিল দলের।

বিজ্ঞাপন

এরপর পাকিস্তানে দুই দফার সফরেও প্রায় একই অবস্থা। মোট কথা, সাকিব ছাড়া বাংলাদেশ বিদেশের মাটিতে তিনটি টেস্ট খেলেছে, তিনটিতেই হেরেছে ইনিংস ব্যবধানে।

তবে করোনার কারণে খেলা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সাকিবকে ছাড়া আর নামতে হয়নি বাংলাদেশকে। অতিমারির মধ্যেও সেটি ছিল বাংলাদেশের জন্য মন্দের ভালো। এখন নতুন করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার লগ্নে সাকিবকে পাচ্ছে বাংলাদেশ, এই জায়গায় বড় এক স্বস্তিই মিলছে, এটা নিশ্চিত করেই বলা যায়।

default-image

আজ অনুশীলন শেষে স্পিন বোলিং অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজের কণ্ঠেও পাওয়া গেল সেই স্বস্তি, ‘অনেক দিন পর একসঙ্গে হয়েছি এবং আমাদের সবাই অনেক আনন্দিত। বিশেষ করে আমাদের সাকিব ভাইও দলে ফিরেছেন। এক বছর দলের বাইরে ছিলেন। কিন্তু আমাদের জন্য ভালো ছিল যে করোনার জন্য দীর্ঘদিন খেলা হয়নি। এটা বাংলাদেশের জন্য ভালো হয়েছে। আমাদের দল খুব ভালো অবস্থানে আছে। আমাদের সামনে যে সিরিজ আছে, ইনশা আল্লাহ আমরা সেখানে ভালো কিছু করতে পারব।’

দুই দিন আগে আরেক অলরাউন্ডার মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনও একই কথা বলছিলেন। সাকিবের ফেরাতেই নাকি জাতীয় দলের ক্যাম্পে অনুশীলনের ভালো লাগাটা এখন অন্য রকম, ‘অনেক খুশির বিষয়, প্রকাশ করার মতো না। ঘরবন্দী ছিলাম, এর মধ্যে ঘরোয়া ক্রিকেট খেললাম। আসলে জাতীয় দলের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করা সব সময় গর্বের বিষয়। আর সবচেয়ে বড় কথা, আমাদের মধ্যে এক বছর পর সাকিব ভাই ফিরে এসেছেন, এ কারণে ভালো লাগাটা অন্য রকম। আর যেহেতু ঘরের মাঠে খেলা, তাই বাড়তি উদ্দীপনা থাকছে।’

সাকিবের উপস্থিতি ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে বড় শক্তিই হোক, সবার চাওয়া এটিই।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন