default-image

বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসানের সংবাদ সম্মেলন হবে আর এরপর শিরোনামের অভাবে পড়তে হবে সাংবাদিকদের—এমনটা হওয়ার ইতিহাস খুব কম। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভার পর আজ নাজমুল হাসান সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে ঘরের মাটিতে টেস্টে সিরিজে বাংলাদেশের লজ্জার হার, এরপর নিউজিল্যান্ড সফর ও এরপর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুই সিরিজে সাকিব আল হাসানের ছুটি চাওয়া নিয়ে নিজের মতামত জানিয়েছেন। তাতেই একের পর এক সংবাদের শিরোনাম তৈরি হচ্ছে।

তৃতীয় সন্তানের জন্মের সময় স্ত্রীর পাশে থাকতে নিউজিল্যান্ড সিরিজে সাকিব থাকবেন না, সেটি আগেই ঠিক করে রাখা ছিল। সেই সিরিজে সাকিবের ছুটি নিয়ে কেউ প্রশ্ন তোলেননি। কিন্তু সেই সিরিজের পর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুই সিরিজ থেকে সাকিবের ছুটি চাওয়া নিয়েই যত আলোচনা-বিতর্ক চলছে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজ দুটিতে সাকিব ছুটি চেয়েছেন সে সময়টাতে আইপিএল খেলবেন বলে। সাকিবের ছুটি মঞ্জুর করেছে বিসিবি। সেটির পরিপ্রেক্ষিতে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের কথা মাথায় রেখে ক্রিকেটারদের চুক্তির ধরন পাল্টানো হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন বিসিবি সভাপতি।

তবে এত সবের মধ্যেও জানিয়ে দিলেন, সাকিব এভাবে ছুটি চাওয়ায় তাঁর মন খারাপ হয়েছে। আনকোরাদের নিয়ে বাংলাদেশে আসা ভাঙাচোরা ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের কাছে বাংলাদেশের টেস্ট সিরিজে হারের পর ক্রিকেটাররা আরও বেশি উদ্যমে ঝাঁপিয়ে পড়বেন বলেই আশা ছিল তাঁর—এমনটাই জানিয়েছেন নাজমুল হাসান।

বিজ্ঞাপন
default-image

সাকিবের এভাবে ছুটি চাওয়া ঠিক কি না, সে নিয়ে গত কিছুদিনে আলোচনা কম হয়নি। পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তিও আছে অনেক। ক্রিকেটারের স্বল্পদৈর্ঘ্যের ক্যারিয়ারে আকাশছোঁয়া বেতনের আইপিএলে খেলতে চাওয়ার ইচ্ছা যেমন অযৌক্তিক নয়—অন্য যেকোনো পেশার বেশির ভাগ মানুষই তাঁর কাজের জন্য অল্প সময়ে বৈধ পথে বেশি টাকা আদায়ের সুযোগ পেলে হয়তো তা ছাড়বেন না। আবার অনেকে যুক্তিতে তুলে আনছেন দেশের হয়ে খেলার আবেগের প্রসঙ্গ।

বিশ্বের অনেক দেশই অবশ্য খেলোয়াড়দের আইপিএলসহ অন্য ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোতে খেলার সুযোগ রেখে চুক্তির পথে হেঁটেছে। বাংলাদেশও সে পথে যাচ্ছে বলেই আজ সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন নাজমুল হাসান। কিন্তু সাকিবের এভাবে জাতীয় দলের খেলা বাদ দিয়ে আইপিএল খেলতে চাওয়াতে বিব্রত হয়েছেন কি না—এমন প্রশ্নে বিসিবি সভাপতি বললেন তাঁর মন খারাপের কথা।

খেলোয়াড়দের পেছনে বোর্ডের অনেক বিনিয়োগের ফিরিস্তি তুলে ধরেছেন প্রথমে, ‘বিব্রত ঠিক না, মন খারাপ। মন খারাপ কেন? দেখুন, একজন খেলোয়াড়ের পেছনে (বোর্ড) কম বিনিয়োগ করে না। ১০-১৫ বছরে ধরে যে বিনিয়োগ করে সেটা আপনাদের সবকিছু জানা আছে কি না, তা-ও জানি না। খেলাধুলা সম্পর্কিত চুক্তির মধ্যে বা চুক্তির বাইরে চোট হলো... সবকিছু নিয়ে আমরা ওদের যে সুযোগটা এখন দিই, সেটা আগে কখনো চিন্তাই করা যেত না।’

default-image

কিন্তু সে বিনিয়োগের বিপরীতে ক্রিকেটারদের কাছ থেকে আত্মনিবেদন পাচ্ছেন না, এমনই ইঙ্গিত নাজমুল হাসানের কথায়। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ নিয়ে গত এক-দেড় বছরে টেস্টে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স যে বিবর্ণ, তা সবারই জানা। বিসিবি সভাপতিও সেই ব্যর্থতাগুলোর খতিয়ান তুলে ধরলেন আরেকবার, ‘এত বিনিয়োগের পর দল এ রকম দুইটা টেস্ট ম্যাচ হারার পর...আমাকে যদি বলেন এই দুইটা টেস্ট ম্যাচের ব্যাপার নয়। আমরা টেস্ট ম্যাচ হেরেছি আফগানিস্তানের সঙ্গে, পাকিস্তানের সঙ্গে, ভারতের সঙ্গে। আমরা ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে নিজেদের মাটিতে পরপর দুই টেস্টে হারলাম।’

এত ব্যর্থতার পর সাকিবসহ ক্রিকেটারদের কাছ থেকে আরও বেশি আত্মনিবেদন আশা করেছেন বলে জানালেন নাজমুল হাসান, ‘এসব হারের পর কেউ যদি বলে আমি পরের টেস্টটা না খেলি...! আমার ধারণা ছিল, সবাই উঠেপড়ে লাগবে এই ভেবে যে (পরের) টেস্টটা আমাদের জিততেই হবে। সেই জায়গায় কেউ যদি মনে করে টেস্টটা খেলবে না, অন্য একটা ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলবে। এরপর আর কিছু বলার থাকে না। ব্যাপারগুলো এখন পরিষ্কার। আমরা মন ঠিক করে নিয়েছি। কাউকে আমরা আর জোর করে রাখব না।’

বিজ্ঞাপন
ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন