default-image

দিল্লিতে কাল ভারতের মুখোমুখি হয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরু করবে বাংলাদেশ। সাকিব আল হাসান না থাকলেও এ সিরিজে তাঁকে ঘিরেই বেশি আলোচনা হচ্ছে। জুয়াড়ির প্রস্তাব গোপন করে নিষিদ্ধ হয়েছেন সাকিব। স্বাভাবিকভাবেই সাকিব না থাকায় বাংলাদেশ দলের শক্তি কতটা কমেছে, সেই হিসেব-নিকেশ কষছেন বিশ্লেষকেরা। কিন্তু ডিন জোন্স কিছু ইতিবাচক দিকও দেখছেন। সাকিব না থাকার এ সময়ে বাংলাদেশ দলীয় কম্বিনেশন ঠিক করে নিতে পারবে বলে মনে করেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক এ ক্রিকেটার।

আগামী বছর অক্টোবরে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ গড়াবে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে। তার আগে সব টি-টোয়েন্টি সিরিজকেই বিশ্বকাপের প্রস্তুতি বলে মনে করছেন জোন্স। সে জন্য দলীয় কম্বিনেশন ঠিক করা জরুরি বলেই মনে করছেন আশি ও নব্বই দশকের শুরুতে অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান হিসেবে স্বীকৃত জোন্স। উপমহাদেশের ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টের মাঠগুলোর সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার মাঠের বড় পার্থক্যও দেখছেন তিনি।

অস্ট্রেলিয়ার মাঠগুলো বড় হওয়ায় উপমহাদেশের ব্যাটসম্যানদের সহজাত শট খেলা কষ্ট হবে বলেই মনে করেন জোন্স। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে এ নিয়ে কথা বলতে গিয়েই উঠে এসেছে কাল থেকে শুরু হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রসঙ্গ। জোন্স মনে করেন, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে ভালো পরিকল্পনা সাজাতে হবে বাংলাদেশের নির্বাচকদের।

>

সাকিব আল হাসান নিষিদ্ধ হওয়ায় ভারত সফরে তাঁকে পায়নি বাংলাদেশ। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ সামনে রেখে তাঁর অনুপস্থিতির এ সময়ে বাংলাদেশকে কিছু পরামর্শ দিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ক্রিকেটার ডিন জোন্স

সাকিব এক বছর নিষিদ্ধ হওয়ায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম পর্বটা তাঁকে ছাড়াই খেলতে হবে বাংলাদেশকে। কিন্তু জোন্সের বিশ্বাস, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সাকিবকে পাবে বাংলাদেশ। তবে দেশসেরা এ অলরাউন্ডারের আপাত অনুপস্থিতিকে কাজে লাগানোর পরামর্শই দিয়েছেন তিনি। ‘টাইমস অব ইন্ডিয়া’কে জোন্স বলেন, ‘বিপিএলের সাংগঠনিক সমস্যা আমি জানি। একই সময়ে সাকিব-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে প্রস্তুত থাকবে। সে খেলবে। আপাতত মাহমুদউল্লাহ দায়িত্ব পেয়ে কি করতে পারে সেটাই দেখার বিষয়। (কম্বিনেশন) ঠিক করতে ভালো পরিকল্পনা করতে হবে নির্বাচকদের।’

জোন্স এ নিয়ে উদাহরণও টেনেছেন। ১৯৮৭ বিশ্বকাপের আগে ভীষণ বাজে অবস্থায় ছিল অস্ট্রেলিয়া দল। বিশ্বকাপ ফাইনালে সেই অস্ট্রেলিয়াই চ্যাম্পিয়ন! তখনকার উদাহরণই দিলেন বর্তমানের এই ধারাভাষ্যকার, ‘১৯৮৭ বিশ্বকাপে সবচেয়ে বাজে দল ছিল অস্ট্রেলিয়া। বিশ্বকাপের আগে আমরা আট ম্যাচ হেরেছিলাম। কার কী দায়িত্ব তা জেনেছি টুর্নামেন্ট শুরুর কয়েক দিন আগে। (বাংলাদেশের জন্য) এ ব্যাপারটা কিন্তু এখন থেকে শুরু হচ্ছে।’

সাকিবের অনুপস্থিতিতে বাংলাদেশ কী করতে পারে, সে পরামর্শও দিয়েছেন জোন্স। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’কে জোন্স বলেছেন, ‘আমি চাই টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ আরও ওপরে ব্যাট করুক। সৌম্য সরকার ও লিটন দাস শুরুতে আত্মবিশ্বাস পেতে শুরু করেছে। মোস্তাফিজুর রহমান এখন আগের চেয়ে ফিট। সাকিবের শূন্যতা পূরণ করতে হবে মোসাদ্দেক, আফিফ ও আমিনুল ইসলামের মতো খেলোয়াড়দের। তাদের একজন পাওয়ার হিটার প্রয়োজন। বুঝতে পারছি ভারত তাদের ওপর চড়াও হবে। কিন্তু বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টিতে ভালো করলে তা টেস্টে টেনে নেওয়া সম্ভব।’

বিজ্ঞাপন
ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন