নারাইন কলকাতার বোলিংয়ের ধার বাড়িয়েছেন।
নারাইন কলকাতার বোলিংয়ের ধার বাড়িয়েছেন। ছবি: আইপিএল

পাঞ্জাব কিংসের শুরুটা ভালো হয়নি। প্রথমবারের মতো আইপিএল এসেছে আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে। নতুন ভেন্যুর সঙ্গে খাপ খাওয়াতে গিয়ে পাঞ্জাব শুরুটা করেছিল ধীরেসুস্থে। তাতে নিজেদের বিপদ বাড়িয়েছে দলটি। পাওয়ার প্লেতে রান বাড়ানো হয়নি, পরে রান তোলার চাপ নিতে গিয়ে নিয়মিত উইকেট হারিয়েছে তারা।

মায়াঙ্ক আগারওয়াল তবু একপ্রান্ত ধরে রেখেছিলেন। নিকলাস পুরানকে নিয়ে ভিত্তি গড়ে পরে ঝড় তোলার আশা করছিলেন এই ওপেনার। কিন্তু কলকাতা নাইট রাইডার্সের জন্য এই জুটিকে বিপদের কারণ হয়ে উঠতে দেননি সুনীল নারাইন। যখন একটু হাত খোলার চেষ্টা করেছেন তখনই আউট আগারওয়াল।

নারাইনের কিপটে বোলিং ম্যাচের নাগাল কলকাতার হাতেই রেখেছে। প্রথম কয়েক ম্যাচে সাকিব আল হাসানকে খেলানো দলটি এখন নারাইনেই আস্থা খুঁজে পেয়েছে। আজ যেমন বোলিং করেছেন নারাইন তাতে সাকিবের দলে ফেরা একটু কঠিন হয়ে গেল। নারাইনদের কিপটেমিতে আজ পুরো ২০ ওভার খেলেও ৯ উইকেট হারিয়ে মাত্র ১২৩ রান তুলেছে পাঞ্জাব।

বিজ্ঞাপন
default-image

এ মৌসুমে এখন পর্যন্ত সাকিবের খেলা শেষ ম্যাচে কলকাতা অধিনায়ক এউইন মরগান বলেছিলেন, যে আশা নিয়ে খেলানো হয়েছিল, সে আশা পূরণ করতে পারেননি বাংলাদেশি অলরাউন্ডার। এখন কলকাতা সে দায়িত্ব দিয়েছে রূপান্তরিত অলরাউন্ডার নারাইনকে। এখন পর্যন্ত ব্যাটিংয়ে কিছু করতে না পারলেও বোলিংয়ে সাকিবকে ম্লান করে দিচ্ছেন নারাইন। আজ যেমন করলেন।

কলকাতার পেসাররা দারুণ শুরু করেছিলেন। আইপিএলের ইতিহাসের সবচেয়ে দামি ফাস্ট বোলারের চেয়ে দাপট বেশি ছিল ঘরের ছেলের। প্যাট কামিন্সের বলেই বেশি স্বচ্ছন্দ ছিলেন কে এল রাহুল ও আগারওয়ালরা। সে তুলনায় শিবম মাভির বলে রান নিতে রীতিমতো কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে। ৪ ওভারে মাত্র ১৩ রান দিয়েছেন এই পেসার।

রান বেশি দিলেও উইকেট তোলায় পথপ্রদর্শক কামিন্স। পাওয়ার প্লের একদম শেষ ওভারে প্রতিপক্ষ অধিনায়ক রাহুলকে তুলে নিয়েছেন। পাঞ্জাব বড় ধাক্কা খেল পরের ওভারেই। মাভির বলে গোল্ডেন ডাক নিয়ে ফিরেছেন ক্রিস গেইল। কলকাতার অন্য পেসারও এই উৎসবে যোগ দিয়েছেন একটু পর। দীপক হুদাকে অষ্টম ওভারে তুলে নিয়েছেন প্রসিধ কৃষ্ণ।

default-image

পাঞ্জাবের রান তখন ৪২। রান রেট ছয়ের নিচে নেমে গেছে। মায়াঙ্ক তবু রানের গতি বাড়ানোর চেয়ে দলের উইকেট সামাল দিতেই ব্যস্ত হলেন। কিন্তু লাভ হলো না কোনো। কলকাতার দুই স্পিনার সে সুযোগই দেননি। একদিকে নারাইন, অন্যদিকে বরুণ চক্রবর্তী মিলে এমনভাবেই চেপে ধরলেন যে পঞ্চাশ পেরোতেই প্রায় ১০ ওভার পার হয়ে গেল।

চাপ থেকে মুক্তি পেতে নারাইনকে হাঁকাতে গেলেন আগারওয়াল। কিন্তু বল বুঝতে না পেরে ক্যাচ তুলে দিলেন। শেষ হলো ৩৪ বলে ৩১ রানের সংগ্রামী ইনিংস। পরের ওভারেই ময়জেস হেনরিকেসকেও তুলে নিলেন নারাইন। একটু পর বরুণ ফিরিয়ে দিয়েছেন পুরানকেও (১৯ বলে ১৯ রান)। ২২ রানে ২ উইকেট নিয়ে স্পেল শেষ হয়েছে নারাইনের। ওদিকে ২৪ রানে ১ উইকেট বরুণের।

৭৯ রানে ৬ উইকেট হারানো কলকাতাকে এরপর এক শ পার করিয়েছেন ক্রিস জর্ডান। নারাইনকে ছক্কা মেরে আশা জাগালেও দলকে ৯৫ রানে রেখে ফিরেছেন শাহরুখ খান (১৩)। তবে ১৮ বলে ৩০ রান তুলে দলের রান রেট ছয়ের ওপরে তুলেছেন জর্ডান। দুজনকেই ফিরিয়েছেন কৃষ্ণ।

৩০ রানে ৩ উইকেট পেয়েছেন এই পেসার। আর আজ ৫০ হাজার ডলার প্রধানমন্ত্রীর তহবিলে দান করা কামিন্স ২ উইকেট পেয়েছেন ৩১ রান খরচ করে। রান খরচায়ও আজ একটু উদার ছিলেন কামিন্স। কলকাতার কিপটে বোলারদের মধ্যে একমাত্র কামিন্সই ওভারপ্রতি ১০-এর বেশি দিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন
ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন